Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ৫, ২০২৬

লোকসভায় তৃণমূল-এর ভাঙন ! দলনেতা হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক চর্চা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
লোকসভায় তৃণমূল-এর ভাঙন ! দলনেতা হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক চর্চা

৮ জুন দিল্লির ইন্ডিয়া জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে সম্ভাব্য সাংসদ-ভাঙনের জল্পনা তীব্র হয়েছে । রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, লোকসভা ও রাজ্যসভা — উভয় ক্ষেত্রেই তৃণমূলের কিছু সাংসদ দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন । ফলে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের পাশাপাশি তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণও এখন আলোচনার কেন্দ্রে ।

ঘটনাচক্রে, ওই দিনই দিল্লিতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের । সূত্রের খবর, অনেক হিসাব-নিকাশ করেই ৮ জুনকে বেছে নেওয়া হয়েছে । রাজনৈতিক মহলে এমনও আলোচনা চলছে যে, শনিবার তৃণমূলের এক লোকসভা সাংসদের সঙ্গে কেন্দ্রের এক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর বৈঠক হতে পারে । পাশাপাশি, রবিবার প্রায় ২০ জন তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে ।

সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে সোমবার লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জমা পড়তে পারে । সেই চিঠিতে লোকসভায় নতুন দলনেতা হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম প্রস্তাব করা হতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে । যদিও এই সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন কাকলি নিজেই । তাঁর বক্তব্য, “দলের বিরুদ্ধে অসন্তোষ থাকতেই পারে, সেটাও আমি প্রকাশ্যে জানিয়েছি । কিন্তু যে সমস্ত কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ অন্ধকারে ।”

শুক্রবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করেন কাকলি । সেখানে তিনি লেখেন, “ আপনার কি মনে হয়, একটি রাজনৈতিক পরিবারের চারবারের সাংসদ, যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে চার দশক ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তিনি শুধুমাত্র নিজের স্বার্থের কথা ভাবেন ? এটি নীতির বিরুদ্ধে রায় এবং শাসনের ব্যর্থতা ।”

কাকলির এই মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা শুরু হয়েছে । পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, তিনি বর্তমান রাজ্য প্রশাসন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন । একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্যে নীতি, আদর্শ এবং সুশাসনের প্রশ্নকে সামনে আনার চেষ্টা স্পষ্ট । ফলে লোকসভায় তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে এখন নজর রাজনৈতিক মহলের ।

এদিকে, রাজ্যসভাতেও তৃণমূলে সম্ভাব্য ভাঙন নিয়ে জল্পনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে সুখেন্দুশেখর রায়ের নাম । এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গঙ্গায় জোয়ার এলে জল এগিয়ে যায়, আবার ভাটায় পিছিয়ে যায় । জোয়ারের জল নেমে গেলে সেখানে কাদামাটি পড়ে থাকে । ভাটার টান কখন আসবে, কে বলতে পারে !” নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সুখেন্দুশেখর আরও বলেন, “আমি এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি । তবে মানসিকভাবে আমি দলে নেই, শারীরিকভাবে আছি । আমার সামনে তিনটি পথ খোলা রয়েছে — যেভাবে আছি সেভাবেই থাকা, দল ছেড়ে দেওয়া অথবা রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়া। সঠিক সময়ে যেটিকে সবচেয়ে ভালো বিকল্প মনে হবে, সেই সিদ্ধান্তই নেব ।”

এই পরিস্থিতিতে দলের ভেতরের অসন্তোষ ও দলত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়ও । সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লেখেন, “নিজের দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পূর্ণ অধিকার আপনার আছে । আমিও তা করেছি । কিন্তু সেই অবস্থানকে সম্মান জানাতে হলে সাংসদ বা বিধায়ক পদ থেকেও সরে দাঁড়ানো উচিত । কারণ, আপনি দলের প্রতীক, নেতৃত্ব এবং ব্যানারে ভোটে লড়েছিলেন ।”

অন্যদিকে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র । সমাজমাধ্যমে তিনি স্পষ্ট জানান, দলের সর্বোচ্চ নেত্রীর নেতৃত্বেই তৃণমূল এগিয়ে চলবে এবং ব্যক্তিস্বার্থে দলবিরোধী অবস্থান নেওয়া নেতাদের মানুষই উপযুক্ত জবাব দেবে ।

সব মিলিয়ে, ৮ জুনের দিল্লি এখন শুধু ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের জন্যই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সম্ভাব্য সাংসদ-ভাঙনের জল্পনাকেও ঘিরে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!