Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ১৭, ২০২৩

গ্রেফতার তৃণমূল নেতা জীবনকৃষ্ণ সাহা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি, জেরায় মিলতে পারে আরো গোপন তথ্য। অস্বস্তিতে শাসক দল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
গ্রেফতার তৃণমূল নেতা জীবনকৃষ্ণ সাহা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের  দাবি, জেরায় মিলতে পারে আরো গোপন তথ্য।  অস্বস্তিতে শাসক দল

জীবনকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতার করল সিবিআই । দীর্ঘ ৬৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর বড়ঞার বিধায়ককে নিজেদের হেফাজতে নিলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। আপাতত তাঁকে নিজাম প্যালেসে নিয়ে আসা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা,নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত বহু তথ্য তিনি গোপন করছেন। তাঁকে জেরা করলে অনেক অজানা সূত্রের সন্ধান মিলতে পারে। সিবিআই সূত্রে জানা যাচ্ছে, তাঁকে আলিপুর আদালতে তোলা হবে।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার খবর, ধৃত তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে ৩ হাজার পাতার নথি উদ্ধার করা হয়েছে। জেরায় তিনি ৮ জন বিধায়ক ও এজেন্টের নাম, ঠিকানা জানিয়েছেন। যাঁদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ ইতিমধ্যে শুরু করে নিয়েছেন গোয়েন্দারা। তাঁরা জানিয়েছেন, সবাইকে সামনা সামনি মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জীবনকৃষ্ণর বাড়ি সংলগ্ন জায়গা থেকে সন্দেহজনক যে ব্যাগটি পাওয়া গিয়েছিল তাতে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। সে ব্যাপারেও তাকে প্রশ্ন করবেন গোয়েন্দারা। যে দুটি ফোন তিনি বাড়ির  বাইরের পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন, তার মধ্যে একটির খোঁজ  মিলেছে।  হায়দ্রাবাদের  সেন্ট্রাল ফরেন্সিক ল্যাবে  উদ্ধার হওয়া ফোনটিকে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান  সেখান থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। আর একটি ফোনের সন্ধান এখনও মেলেনি। তার সন্ধান চলছে,

সিবিআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বড়ঞার তৃণমূল বিধায়কের নেতৃত্বে নিয়োগ দুর্নীতির র‌্যাকেট চলত। সেই চক্র কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত তা তদন্ত সাপেক্ষ। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি, চাকরিপ্রার্থীদের নাম সুপারিশ করার জন্য তাঁদের থেকে ৮-১০ লাখ টাকা নেওয়া হত । এই ঘটনার সঙ্গে আর কারা কারা যুক্ত তা খুঁজে বার করার চেষ্টা করছেন তাঁরা। তাঁদের ধারণা, অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে যেহেতু তার ঘনিষ্ঠতা ছিল, তাই গোরু পাচার কাণ্ডেও তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তৃণমূল বিধায়ক জীবন কৃষ্ণ সাহা দীর্ঘদিন  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। পরে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা লাভ করলেও  যোগদান করেননি। বিধায়ক হওয়ার পর অয়েল মিলের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। এরপরে অবশ্য তিনি আর পড়ুয়াদের পড়াতে বিদ্যালয়মুখো হননি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতার জোরে প্রভাব খাটিয়ে নিজের স্ত্রীর বাড়ির ১০০ মিটার দূরত্বের প্রাথমিক স্কুলে চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রতর সঙ্গে সখ্যতার জোরেই রাজনৈতিক জগতে অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও বীরভূমে নিজের বাড়ি গড়ে তোলেন। তদন্তকারীদের অনুমান, প্রিয় নেতার ছত্রছায়ায় দেখার জন্য তাঁর এ আয়োজন। সমগ্র ঘটনায় ঘাসফুল শিবির প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছে। ব্যক্তিগত কৃতকর্ম বলে দায় এড়াতে চাইছেন তৃণমুলের নেতারা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!