- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ৫, ২০২৫
নিঃশব্দে পরিণয়। বার্লিন শহরে ঐতিহাসিক প্রাসাদে কনে সাজে মহুয়া মৈত্র, বর ওড়িশার বিজেডি-র প্রাক্তন সাংসদ পিনাকী মিশ্র
রাজনীতির ময়দানে সাহসী, স্পষ্টভাষী এবং দৃঢ়চেতা নেত্রী হিসাবে পরিচিত তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এই বার তিনি শিরোনামে উঠে এলেন একেবারে ভিন্ন এক ভূমিকায়। ওড়িশার বিজু জনতা দলের প্রাক্তন সাংসদ ও খ্যাতনামা আইনজীবী পিনাকী মিশ্রর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তিনি। জানা যাচ্ছে, গত ৩ মে বার্লিনের রাজপ্রাসাদের ছাদে সীমিত সংখ্যক অতিথিদের নিয়ে আয়োজিত হয় এই বিশেষ অনুষ্ঠান। তাঁদের বিয়ের গুঞ্জন বেশ কিছুদিন ধরেই ভাসছিল বাতাসে। নিঃশব্দে আর গোপনেই তাঁরা এ ‘কাজ’ করতে চেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সেই গুঞ্জন বাস্তব রূপ পেল—প্রকাশ্যে এল বিয়ের ছবি। দেখা গেল, হাতে হাত ধরে দাঁড়িয়ে নবদম্পতি। পরনে ছিল সুশোভিত ঐতিহ্যবাহী পোশাক—মহুয়ার পরনে ঘিয়ে-গোলাপি শাড়ি, সোনার গয়না ও টিকলি; পিনাকীর পরনে সাদা কুর্তা ও সোনালি জহরকোট। প্রেক্ষাপটে বার্লিনের এক রাজপ্রাসাদ।
দু-জনেরই এটি দ্বিতীয় বিবাহ। মহুয়ার প্রথম বিবাহ হয়েছিল ডেনমার্কের অর্থনীতিবিদ লার্স ব্রর্সনের সঙ্গে, সে বিয়ে টেকেনি। অন্যদিকে, পিনাকীর প্রথম স্ত্রী ছিলেন ওড়িশার সঙ্গীতা মিশ্র। তাঁদের দুটি সন্তানও রয়েছে। দীর্ঘদিনের পরিচয় ও বন্ধুত্ব এবার গড়াল আইনসম্মত সম্পর্কে। বিয়ের খবর এতদিন চুপচাপ রাখা হলেও, ছবি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনীতির আঙিনায় আলোড়ন পড়ে গেছে।তৃণমূল সূত্রে খবর, বিয়ের আগে মহুয়া দলনেত্রীকে বিষয়টি জানান এবং তাঁর অনুমতি নিয়েই বিদেশে যান। বিয়ের ঠিক আগেই কালীগঞ্জে উপনির্বাচন ছিল, যেখানে প্রচারে অনুপস্থিত ছিলেন মহুয়া। তখন তাঁর অনুগামীরা বলেছিলেন, ‘ব্যক্তিগত কাজে বিদেশে আছেন।’ পরে জানা গেল, সেই ব্যক্তিগত কাজ ছিল এই গোপন বিয়ের আয়োজন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশীর্বাদ করেছেন নবদম্পতিকে। পিনাকী ও মহুয়া এই মুহূর্তে ইউরোপে রয়েছেন মধুচন্দ্রিমায়। জুনের শেষে দেশে ফেরার কথা।
ভিন্ন রাজ্যের, ভিন্ন দলের দুই রাজনীতিকের এই গাঁটছড়া নিঃসন্দেহে এক অনন্য ঘটনা। যেখানে বলিউড তারকাদের মধ্যে ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ জনপ্রিয়, সেখানে দুই আঞ্চলিক রাজনৈতিক মুখ, বিদেশে এমন ব্যক্তিগত আয়োজনে বিবাহ সারলেন, তা নজর কাড়ছে সবার। রাজনৈতিক কেরিয়ারে মহুয়া একজন দুর্দান্ত বক্তা ও সাংগঠনিক নেত্রী। জেপি মর্গ্যান অ্যান্ড চেসে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে কাজ করার পরে কংগ্রেস হয়ে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। ২০১৬ সালে বিধায়ক এবং ২০১৯, ২০২৪ সালে কৃষ্ণনগর থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। অন্য দিকে, পিনাকী মিশ্রও কম গুরুত্বপূর্ণ মুখ নন। সেন্ট স্টিফেনস কলেজ ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা শেষে সুপ্রিম কোর্টের ‘সিনিয়র অ্যাডভোকেট’ হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। কংগ্রেস থেকে রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরু করে পরে বিজেডি-তে যোগ দেন। একাধিকবার পুরী থেকে জিতে সংসদে আসেন। যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তাঁকে টিকিট দেয়নি বিজেডি। ওড়িশার রাজনৈতিক মহলের জল্পনা, মহুয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ঘিরে বিতর্ক এড়াতেই বিদেশে শুভানুষ্ঠান সারবার এই সিদ্ধান্ত। তাঁদের দাম্পত্যজীবনের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে শুভেচ্ছা আসতে শুরু করেছে।
❤ Support Us






