- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ১৩, ২০২৫
‘যৌন হেনস্থা’র অভিযোগ, বরখাস্ত দিল্লি এইমস-এর শীর্ষ চিকিৎসক। বার্তা পৌঁছল প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও
দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস বা এইমস-এর অভিজ্ঞ শীর্ষ সার্জনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে উত্তাল চিকিৎসা মহল। দিল্লি এইমস-এর কার্ডিও থোরাসিক এবং ভাসকুলার সার্জারি (সিটিভিএস) বিভাগের প্রধান, হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ড. এ কে বিসোইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন এক মহিলা নার্সিং অফিসার। অভিযোগ, নার্সদের উদ্দেশে তিনি অশালীন এবং কুরুচিকর ভাষায় মন্তব্য করতেন, কখনো কখনো খোলাখুলি হুমকিও দিতেন। যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ এবং অবমাননাকর মন্তব্য সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
বিষয়টি পৌঁছে গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে। এরপরই নড়েচড়ে বসে এইমস কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ড. বিসোইকে। তাঁর পরিবর্তে সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রবীণ চিকিৎসক ড. ভি দেবগৌরুকে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর এক নারী নার্স অভিযোগ দায়ের করেন এইমস কর্তৃপক্ষের কাছে। অভিযোগ জানার পর নার্সদের সংগঠন— এইমস নার্সেস ইউনিয়ন বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রথম দিকে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি প্রশাসন। বরং অভিযোগ করার ‘অপরাধে’ অভিযোগকারীকেই আরো হেনস্থার শিকার হতে হয়।
অভিযোগে আরো উল্লেখ রয়েছে, রোজকার সকাল রাউন্ডের সময় ড. বিসোই নার্সদের উদ্দেশে কুরুচিকর এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করতেন। তাঁর কথা, আচরণ নারীবিদ্বেষী, যা দিনের পর দিন কর্মীদের প্রবলভাবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। চিঠিতেএ-ও বলা হয়েছে, যাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন, তাঁদের ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। অভিযোগকারী নার্সকে তাঁর বর্তমান ক্লিনিক্যাল দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে দাবি।
এহেন পরিস্থিতিতে অবশেষে নার্সেস ইউনিয়ন ৯ অক্টোবর অভিযোগ পাঠায় প্রধানমন্ত্রীর দফতরে। তাদের অভিযোগ ছিল, এইমস কর্তৃপক্ষ সব জানার সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে চুপ করে রয়েছে, ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে গিয়েছে। চিঠিতে তাঁরা লেখেন, ‘আমাদের সহকর্মীদের হেনস্থা করার পর এখন তাঁদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এতে কর্মক্ষেত্রে শঙ্কার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’ ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সংস্থার ডিরেক্টর ড. এম শ্রীনিবাস একটি নির্দেশিকা জারি করে জানান, ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখের অভিযোগ এবং ৩০ সেপ্টেম্বর, ৪ অক্টোবর ও ৭ অক্টোবরের ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে ড. বিসোইকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর স্থানে ড. ভি দেবগৌরুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
ড. বিসোইকে নিয়ে অভিযোগ এই প্রথম নয়। তাঁকে কেন্দ্র করে বিতর্ক বহুদিনের। ২০০৯ সালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক তাঁকে বরখাস্ত করেছিল আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে। ২০১২ সালে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। ২০১৯ সালেও তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন একাধিক নার্স, কিন্তু সে সময় কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এইমস সূত্রের খবর, বর্তমানে অভিযোগটি সংস্থার অভ্যন্তরীণ অভিযোগ পর্যালোচনা কমিটির (ইন্টারনাল কমপ্লেইন্টস কমিটি) কাছে তদন্তাধীন রয়েছে। তবে প্রশাসনিক পদ থেকে তাঁকে সরানো হলেও তিনি চিকিৎসক হিসেবে এখনো এইমস-এ কর্মরত আছেন। এ বিষয়ে ড. বিসোই সঙ্গে এ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি। এইমস-এর তরফ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে নার্স ইউনিয়নের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা চাই স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। যারা দিনের পর দিন রোগীদের সেবা করেন, তাঁদের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষা করা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।’
❤ Support Us






