- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ২৩, ২০২৫
নেতাজি স্মৃতি বিজড়িত, স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র জ্ঞানানন্দ মঠ সংস্কারের সিদ্ধান্ত । ৮০ লক্ষ টাকা বারদ্দ করলো পর্যটন দফতর
কালনার নেপপাড়ার জ্ঞানানন্দ মঠে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু-সহ দেশের তাবড় বিপ্লবীদের পায়ের ধুলো পড়েছিল। ব্রিটিশদের দেশছাড়া করতে স্বাধীনতা যোদ্ধাদের বহু গোপন শলাপরামর্শ ও নকশার সাক্ষী এই জ্ঞানানন্দ মঠকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পর্যটন দফতর। এখানে এসে মঠ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সংস্কারের উদ্যোগ নেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। তার ভিত্তিতে জেলা পর্যটন দফতর ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা ওই মঠ সরেজমিনে পরিদর্শনে করে যান। এই জায়গার ঐতিহাসিক গুরুত্ব উপলব্ধি করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রোজেক্ট রিপোর্ট পাঠাতে বলে পর্যটন দফতর। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে। জানা গেল মঠের মূল মন্দির সংস্কার, একটি খোলা মঞ্চ নির্মাণ, চিলড্রেন পার্ক, পানীয় জল, কমিউনিটি টয়লেট-সহ অতিথিনিবাস তৈরির জন্য প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা খরচ হবে।
এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, একসময় বিপ্লবীদের আখড়া হয়ে উঠেছিল কালনার জ্ঞানানন্দ মঠ। যেখানে ধর্মচর্চার পাশাপাশি দেশকে স্বাধীন করার জন্য গোপন বৈঠক চলত। অন্যান্য বিপ্লবীদের মত এই মঠে এসেছিলেন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুও। মঠের দায়িত্বে থাকা নিত্য প্রেমানন্দ মহারাজের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল,১৯২০ সালে এই মঠের প্রতিষ্ঠা করেন নিত্য গৌরবানন্দ অবধূত মহারাজ। তাঁর সঙ্গে মাস্টারদা সূর্য সেন-সহ অন্যান্য বিপ্লবীদের যোগাযোগ ছিল।মহারাজকে স্থানীয় কংগ্রেসের সভাপতি পদে নির্বাচিতও করা হয়। দেশাত্মবোধক কার্যকলাপের জন্য মহারাজকে গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশ পুলিশ। ১৯৩০ সালে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুও এই মঠে এসে দু-দিন দু-রাত্রি ছিলেন। ভাগীরথী লাগোয়া প্রাচীন কালনা শহর ও লাগোয়া বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের পাশাপাশি জ্ঞানানন্দ মঠের মত ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দর্শন করতে বছরভর বহু পর্যটক, ছাত্রছাত্রী ও গবেষক দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে ভিড় করেন। নেতাজির খাওয়ার টেবিল ও তাঁর ব্যবহার করা জিনিসপত্রগুলি দেখেন। ছবি তুলে নিয়ে যান।
❤ Support Us






