Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ১৩, ২০২৫

কেরলে খাতা খুলল তৃণমূল, ঘাসফুলে ডিএমকে বিধায়ক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কেরলে খাতা খুলল তৃণমূল, ঘাসফুলে ডিএমকে বিধায়ক

গত শুক্রবার তৃণমুলে অভিষেক হলো এলডিএফ জোটের নিলাম্বুরের বিধায়ক পিভি আনভারের। কেরলে প্রথম কোনো বিধায়ক যোগ দিলেন তৃণমূলে।

কেরল রাজনীতিতে পরিচিত মুখ তিনি প্রথমে কংগ্রেসের সঙ্গে থাকলেও গত ভোটে তিনি বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমর্থনে নীলাম্বুর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। এরপর গত সেপ্টেম্বরে বাম জোট ছাড়েন আনভার। এবার তিনি যোগ দিলেন তৃণমূলে। ঘাসফুলে যোগ দিয়ে বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দেন। আনভারকে তৃণমূলে স্বাগত জানালেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিলেন রাজ্য আহ্বায়ক পদ।

নিজের এক্স হ্যান্ডেলে অভিষেক ব্যানার্জি লিখেছেন, “কেরলের নীলাম্বুরের সম্মানিত বিধায়ক শ্রী পি ভি আনভারকে তৃণমূল পরিবারে যোগদানের জন্য উষ্ণ অভ্যর্থনা। জনসেবার প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং কেরলের জনগণের অধিকারের জন্য তাঁর সমর্থন আমাদের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যকে সমৃদ্ধ করে। একসঙ্গে, আমরা এমন একটি প্রগতিশীল ভারত গড়ার চেষ্টা করব যেখানে প্রতিটি কণ্ঠস্বর গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিটি স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।”

সিপিআইএম সমর্থিত ২ বারের বিধায়ক, মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল ‘‘বিজয়ন দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু আধিকারিককে আড়াল করছেন। এই ঘটনার তাঁর সঙ্গে শাসক জোটের বিরোধ দেখা দেয়। নীলাম্বুরের বিধায়ক শাসক জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এরপর আনভার নতুন দল ‘ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট অফ কেরালা’ গঠন করেন। গত নভেম্বরে চেলাক্কারার উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থীও দিয়েছিলেন। কিন্তু উপনির্বাচনে জয়ী হয় সিপিআইএম প্রার্থীই। কিছু দিন আগে তিনি ইন্ডিয়ান মুসলিম লিগের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকও করেন। কেরল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস বিধায়ক ভিডি সতীশনের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। রাজনৈতিক মহলের অনেক চাপানউতোর পেরিয়ে শেষপর্যন্ত তৃণমূলে যোগ দিলেন তিনি। কেরলে বাম বিরোধি জোটে তৃণমূল ও ডিএমকে সম্মিলিতভাবে লড়াই করবে বলে জানিয়েছেন আনভার। তিনি বলেছেন ‘কেরলে বিজয়নবাদ শেষ করাই লক্ষ্য’ জানালেন আনোয়ার।

গত ৫ জানুয়ারি নিলাম্বুর জেলায় বন দফতরের অফিসে ভাঙচুর চালানোর ঘটনায় অভিযোগ ওঠে এই বিধায়কের বিরুদ্ধে। হাতির পায়ের তলায় পিষে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা বিক্ষোভ শুরু করলে, নেতৃত্বে দেন আনভার। জামিন পেয়ে বাম সরকারকে বিঁধে নানা মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর দাবি, কেরলে প্রশাসনিক স্তরে সংস্কার আনতে হলে প্রবল বামবিরোধী শক্তির উত্থান জরুরি। রাজ্যে ‘পিনারাইবাদ’ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছেন। এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন থেকেই বিজয়ন সরকারের পতনের শুরু হবে। ভিএস জয়কে প্রার্থী করার আবেদন জানিয়েছেন মালপ্পুরুম জেলা কংগ্রেসকে। তৃণমূল তাঁকে বন্য পশুর সঙ্গে মানুষের সংঘাতের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে বলে জানান পদত্যাগী বিধায়ক।

গতবছর রাহুল গান্ধিকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের জেরে সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি , তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরে সেই কথা প্রসঙ্গে ক্ষমা চাইলেন। বললেন, “বংশ তুলে কোনও কথা বলতে চাননি। আমার পরিবার চিরকাল নেহরু-গান্ধী পরিবারের অনুগামী। আমি তাঁদের বিরুদ্ধে এরকম কথা বলতেই চাইনি। তাতেও কাউকে আঘাত করে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।” সর্বভারতীয় ইন্ডিয়া জোটে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, কেরলের শাসক দল সিপিআই(এম) প্রত্যেকেই রয়েছে। এই ঘটনা, রাজনীতির কোন নতুন সমীকরণ তৈরি করে সমুদ্র রাজ্যে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!