- দে । শ
- আগস্ট ৫, ২০২৩
হিজাব পরায় ছাত্রীদের স্কুলে ঢুকতে বাধা ত্রিপুরায়। প্রতিবাদ করে আক্রান্ত স্কুল পড়ুয়া
বিজেপি শাসিত ত্রিপুরায় কর্ণাটকের হিজাব বিতর্কের ছায়া। ত্রিপুরার বিশালগড়ের একটি বিদ্যালয়ে হিজাব পরায় সংখ্যালঘু ছাত্রীদের স্কুলে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হিজাব পরে ছাত্রীদের স্কুলে ঢুকতে না দেওয়ায় ছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল বলে পড়ুয়াদের মারধরেরও অভিযোগ উঠছে।
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা ত্রিপুরায় বিশালগড়ের কড়ইমুড়া, এই এলাকার ঐতিহ্যবাহী পুরনো স্কুল কড়ইমুড়া দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সিংহভাগই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এই বিদ্যালয়ের অধিকাংশ ছাত্রী হিজাব পরেই স্কুলে যায়। কিন্তু দিন কয়েক আগে এই স্কুলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ রীতিমতো লিখিতভাবে ছাত্রীদের হিজাব পরায় নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানিয়েছিল।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সেই আবেদনের ভিত্তিতেই স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক ভাবে স্কুলের তরফে এ নিয়ে কোনও নির্দেশিকা জারি না করলেও অঘোষিতভাবে পড়ুয়াদের হিজাব পরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বলে অভিযোগ পড়ুয়াদের। ছাত্রীদের মৌখিকভাবে হিজাব না পরে স্কুলে আসতে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে হঠাৎ করেই শুক্রবার হিজাব পরে আসা ছাত্রীদের স্কুলে ঢুকতে বাধা দেয় কিছু বহিরাগত যুবক। অভিযোগ, তাঁরা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মী। ওই বহিরাগতরা হিজাব পরা ছাত্রীদের বাধা দিলে স্কুলেরই কয়েকজন ছাত্র তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে ঘটনার প্রতিবাদ করে। তাঁদের মধ্যে এক ছাত্রকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করারও অভিযোগ উঠেছে ওই বহিরাগতদের বিরুদ্ধে। যার জেরে স্কুল চত্ত্বর রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ।
ঘটনার জেরে ওই দিনই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে অভিভাবকরা স্কুলের সামনেই রাস্তা অবরোধ করেন। প্রশ্ন হচ্ছে, বিদ্যালয়ে হিজাবে সরকারিভাবে কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। শিক্ষা দপ্তরও এ বিষয়ে স্কুলগুলিকে কোনও নির্দেশ দেয়নি, তাহলে করা , কীসের ভিত্তিতে হিজাব পরিহিত পড়ুয়াদের বাধা দিচ্ছে? এদিকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও জবাব দিতে পারেননি। অভিভাবকদের একটা বড় অংশ বলছেন, এসব বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বিজেপির লোকেরাই করছে।
❤ Support Us




