- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫
জাতি বিদ্বেষের জেরে ছাত্র মৃত্যু উত্তরাখন্ডে, জেলা প্রশাসকের কাছে রিপোর্ট তলব মানবাধিকার কমিশনের
উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে জাতিগত ও বর্ণবিদ্বেষমূলক হামলার ঘটনায় ত্রিপুরার ছাত্র অঞ্জেল চাকমার মৃত্যুর কয়েক দিন পর দায়ের হওয়া এফআইআর-এ জানা গেছে, তাঁর পেট ও মাথায় ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। তাঁর বাবা জানান, ভাইকে রক্ষা করতে গিয়ে অঞ্জেলকে ছুরি ও ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে “নৃশংসভাবে আক্রমণ” করা হয়। হামলাকারীরা তাঁর ভাইকে জাতিগত গালি দিয়ে “চাইনিজ” বলে ডাকছিল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সেলাকুই এলাকায় তাঁর দুই ছেলের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে। অল ইন্ডিয়া চাকমা স্টুডেন্টস ইউনিয়ন তবে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের চাপে ঘটনার দুই-তিন দিন পর এফআইআর দায়ের করা হয়।
১২ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) আইনের ১১৫(২), ১১৮ ও ৩৫১(৩) ধারায় এফআইআর নথিভুক্ত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে সেলাকুই এলাকায়। অভিযোগকারী মাইকেল চাকমা জানান, তিনি ও তাঁর ভাই অঞ্জেল কেনাকাটা করতে বেরিয়েছিলেন, তখন মদ্যপ অবস্থায় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের জাতিগত গালিগালাজ করে। তারা প্রতিবাদ করলে ছুরি ও ধাতব বস্তু দিয়ে আক্রমণ করা হয় বলে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।
এফআইআর অনুযায়ী, অঞ্জেল চাকমার পেট ও মাথায় ছুরিকাঘাত করা হয় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। মাইকেল চাকমার মাথায় ধাতব বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়। অভিযুক্তরা পুলিশে জানালে দু’ভাইকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়।
অঞ্জেলকে গ্রাফিক এরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি ১৭ দিন সংকটজনক অবস্থায় ছিলেন। ২৬ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
দেরাদুনের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ অজয় সিং জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে অঞ্জেলের মৃত্যু হয়েছে মারাত্মক মেরুদণ্ড ও মাথার আঘাতের কারণে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এখনও আসেনি বলে সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে।
জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) দেরাদুনের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও এসএসপি-কে নোটিস পাঠিয়েছে। এনএইচআরসি সাত দিনের মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপের রিপোর্ট চেয়েছে ।
কমিশন আরও নির্দেশ দিয়েছে যে মামলার কার্যবিবরণীর একটি কপি উত্তরাখণ্ডের মুখ্য সচিব ও রাজ্যের পুলিশ ডিজির কাছে পাঠাতে হবে।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নির্দেশে, তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (নির্যাতন প্রতিরোধ) আইন, ১৯৮৯ এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষা আইন, ১৯৫৫-এর আওতায় চাকমা পরিবারকে ৪.১২ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী ধামি বলেন, “এটি শুধু একজন ছাত্রের মৃত্যু নয়, এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন ও আশার অকাল সমাপ্তি।”
তিনি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সঙ্গেও কথা বলেন এবং মৃতের পরিবারের পাশে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তদন্ত চলাকালীন হামলার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক— সুরজ খওয়াস (২২), অবিনাশ নেগি (২৫) ও সুমিত (২৫), যারা মণিপুরের বাসিন্দা এবং দেরাদুনে থাকতেন। এছাড়া দুই নাবালককে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।
ষষ্ঠ অভিযুক্ত নেপালের কাঞ্চনপুর জেলার ইয়াগ্যারাজ আওয়াস্থি পলাতক। তাকে ধরিয়ে দিতে ২৫,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ ছাত্র ২৪ বছর বয়সী অঞ্জেল চাকমা ১৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শুক্রবার মারা যান।
পুলিশ জানিয়েছে, ৯ ডিসেম্বর একটি ক্যান্টিনে ৫-৬ জনের সঙ্গে ঝগড়ার পর অঞ্জেলের মাথা ও পিঠে ধারালো অস্ত্র এবং একটি ‘কড়া’ (ধাতব ব্রেসলেট) দিয়ে আঘাত করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, হামলার আগে তাঁদের জাতিগত ও বর্ণবিদ্বেষমূলক গালিগালাজ করা হয় এবং হামলাকারীরা তাঁদের “চাইনিজ” বলে ডাকে। অঞ্জেল এর প্রতিবাদ করে বলেন যে তাঁরা ভারতীয়, এরপরই পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে।
❤ Support Us







