- দে । শ বি। দে । শ
- আগস্ট ১৯, ২০২৫
জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক ট্রাম্পের, মোদিকে ফোন পুতিনের । যুদ্ধ বন্ধে হবে ত্রিপাক্ষিক আলোচনা, বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের
আলাস্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর সোমবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফোনে কথা বললেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। ২০২২ থেকে রাশিয়া–ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের বিষয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন মোদি। পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়গুলি নিয়েও দুই রাষ্ট্র নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী এক্স–এ লিখেছেন, ‘আমার বন্ধু, প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ফোন কলের জন্য এবং আলাস্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক বৈঠকের বিষয় ভাগ করে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। ভারত ধারাবাহিকভাবে ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়ে এসেছে এবং এই ব্যাপারে সব ধরণের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে এসেছে। আগামী দিনগুলিতেও নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’
পুতিনের কাছে নরেন্দ্র মোদি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান। ভারত এই বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন দেবে বলেও পুতিনকে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দুজনের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়গুলি নিয়েও আলোচনা করেছেন। দুই নেতা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতেও সম্মত হয়েছেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে আলাস্কায় বৈঠকের পর পুতিন কেন প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ফোন করলেন, এই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, মূলত বাণিজ্যিক কারণেই পুতিন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেন। রাশিয়ার তেল না কেনার জন্য বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও এখনও পর্যন্ত ট্রাম্পের চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনে যাচ্ছে ভারত।
অন্যদিকে ভ্লাদিমির পুতিনের পর রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তিচুক্তি নিয়ে এবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক চলাকালীনই তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে ফোন করেন। দুজনের মধ্যে প্রায় ৪০ মিনিট কথা হয়ে। ট্রাম্প শান্তিচুক্তি নিয়ে জেলেনস্কি ও ইউরোপের অন্যান্য নেতাদের মনোভাবের কথা জানান পুতিনকে। জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসার আহ্বানও জানান। ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই রাষ্ট্রনেতাই বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছেন।
বৈঠকের পর ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ–এ লেখেন, ‘যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠক আয়োজনে কাজ শুরু করেছি। বিষয়টি নিয়ে ফোনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি। এই বৈঠকের পর আমাদের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হবে। পুতিন, জেলেনস্কি ও আমি থাকব। আবারও বলছি, প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের জন্য এটা একটা খুব ভাল পদক্ষেপ।’
শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হলে ইউক্রেনের নিরাপত্তার জন্য সেদেশে মার্কিন সেনা পাঠানো হবে কিনা, সে প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিশ্চিত করার জন্য আমরা সবার সঙ্গে কাজ করব। এই চুক্তি যেন কাজে আসে, সে জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই দেশের সঙ্গে কাজ করব। তবে ইউক্রেনের নিরাপত্তার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করবে।’ ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও লিখেছেন, ‘এদিনের বৈঠকের মূল আলোচনার বিষয় ছিল ইউক্রেনকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এই ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। রাশিয়া–ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনায় সবাই খুশি।’
জেলেনস্কির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতার সঙ্গে বৈঠকে বলেন। সেই বৈঠকে জেলেনস্কি ছাড়াও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রো, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব ও ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে হাজির ছিলেন।
এদিকে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক শেষে জার্মানির চ্যান্সেলর মের্ৎস বলেছেন, ট্রাম্প আজ পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তিনি জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দুই সপ্তাহের মধ্যে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছেন। তিনি জানান, ওই বৈঠক কোথায় হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে দ্বিপক্ষীয় ওই বৈঠকের পর ট্রাম্পকে নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হবে।
❤ Support Us





