- দে । শ
- মার্চ ২৫, ২০২৬
হরমুজ প্রণালী নিয়ে মোদি–ট্রাম্প ফোনালাপ, বাড়ছে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে ভারত। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ হয়েছে। আলোচনার মূল বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—যা বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ।
মার্কিন দূত সের্গিও গর সামাজিক মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দুই নেতা চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই ফোনালাপ এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে “গঠনমূলক” আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে সম্ভাব্য হামলার সময়সীমাও পাঁচ দিন বাড়িয়েছেন, যা কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত দেয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদে জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারত পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখছে। তিনি বলেন, সংঘাত মেটাতে সংলাপই সবচেয়ে কার্যকর পথ এবং ভারত সেই পথেই এগোচ্ছে।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, “যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমি পশ্চিম এশিয়ার অধিকাংশ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। আমরা উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে আছি, পাশাপাশি ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও কথা বলছি। যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও ভারত তার জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে।”
ভারতের এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট, যে ভারত সংঘাত প্রশমনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চাইছে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে একাধিক দেশ মধ্যস্থতায় এগিয়ে এসেছে। পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশর আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও, নরেন্দ্র মোদি এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
কূটনৈতিক মহলের মতে, একাধিক দেশের যৌথ প্রচেষ্টা সংঘাত কমানোর সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে। ভারত বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ে।
ভারতীয় জাহাজ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সচিব রাজেশ সিনহা জানান, হরমুজ প্রণালী একটি আন্তর্জাতিক জলপথ, যেখানে চলাচলের জন্য কোনও বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন নেই। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা জরুরি।
বর্তমান সংঘাতে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। ইরানে প্রায় ১,৫০০ জন, লেবাননে ১,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, পাশাপাশি ইসরায়েল ও মার্কিন সেনাদের মধ্যেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, বিশেষ করে লেবাননে পরিস্থিতি ভয়াবহ।
এর মধ্যেই আড়ালে কূটনৈতিক আলোচনা চলতে থাকায় কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সি বি এস নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পেয়েছে এবং তা পর্যালোচনা করছে।
তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক কোনও আলোচনা এখনও হয়নি। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একাধিক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, যা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকারই ইঙ্গিত দেয়।
সব মিলিয়ে, এই পরিস্থিতিতে নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ফোনালাপ শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
❤ Support Us




