- দে । শ
- অক্টোবর ২৭, ২০২৬
পাণ্ডবেশ্বরের কুমারডিহি খনিতে রাতভর উদ্ধার অভিযান, ভোরে নিরাপদে ফিরলেন ১২ শ্রমিক
পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের কুমারডিহি এ কোলিয়ারিতে কয়লা উত্তোলনের কাজ চলাকালীন ডুলিতে আটকে পড়েন ১২ শ্রমিক। সোমবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘক্ষণ ধরে খনির গভীরে আটকে থাকা শ্রমিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য রাতভর চলে উদ্ধার তৎপরতা। অবশেষে মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিট নাগাদ তাঁদের বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া প্রত্যেক শ্রমিকই সুস্থ রয়েছেন।
খনি সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে কুমারডিহি এ কোলিয়ারিতে কাজ করার সময় ১২ শ্রমিক ডুলিতে আটকে পড়েন। তাঁদের উদ্ধারে প্রথমে খনি কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলেও সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে শুরু হয় আরও ব্যাপক অভিযান। খনির গভীরে আটকে থাকা শ্রমিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা উদ্ধারকারী দলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। শ্রমিকদের সঙ্গে ওয়াকিটকির মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হয়। দীর্ঘ সময় আটকে থাকার কারণে যাতে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি না ঘটে, সেই জন্য পাঠানো হয় পানীয় জল ও শুকনো খাবার। একদিকে তাঁদের মনোবল ও শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখা, অন্যদিকে নিরাপদে উপরে তুলে আনার ব্যবস্থা করা—এই দুই বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে চলে উদ্ধারকাজ।
ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসনিক স্তরেও তৎপরতা শুরু হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কে নজর রাখার নির্দেশ দেন বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদেরও পরিস্থিতির উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হয়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক অঙ্কিতা আগরওয়াল এবং আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার ডা. প্রণব কুমার। উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করতে উপস্থিত ছিলেন পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারিও।
আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর এবং খনি কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে চলে রাতভর অভিযান। খনি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এবং পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত সাফল্য আসে মঙ্গলবার ভোরে। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে ১২ জন শ্রমিককেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় আপাতত বড়সড় বিপদের আশঙ্কা দূর হলেও খনির অভ্যন্তরে শ্রমিকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষত, কাজ চলাকালীন এই ধরনের বিপর্যয় ঘটলে দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করার জন্য কী ধরনের পরিকাঠামো ও জরুরি ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এ প্রসঙ্গে পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি জানান, শুধু খনি কর্তৃপক্ষের উদ্যোগেই নয়, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং খনি শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই আটকে পড়া কর্মীদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য আরও জোরদার নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
❤ Support Us






