Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২১, ২০২৩

যাদবপুরের ১২ দফা প্রশ্নের উত্তরে সন্তুষ্ট নয় ইউজিসি, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার আসছে ইউজিসি-র প্রশ্নমালা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
যাদবপুরের ১২ দফা প্রশ্নের উত্তরে সন্তুষ্ট নয় ইউজিসি, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার আসছে  ইউজিসি-র প্রশ্নমালা

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে পাওয়া ১২ দফা প্রশ্নের উত্তরে সন্তুষ্ট নয় ইউজিসি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে পুনরায় নতুন করে ব্যাখ্যা চাইবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। গত শনিবারই ইউজিসির ১২টি প্রশ্নের জবাব দিয়েছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ৩১টি ফাইলে সেই জবাব পাঠানো হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বসু। সোমবার ইউজিসির চেয়ারম্যান এম জগদেশ কুমার একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার জবাবেও সন্তুষ্ট নন তাঁরা। তাই এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে আবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি লিখে জবাব চাইতে চলেছে তারা। সে ক্ষেত্রে যাদবপুরের ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় তৃতীয় বার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছবে ইউজিসির প্রশ্নমালা।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গত শুক্রবারই দ্বিতীয় বার জবাব চেয়েছিল ইউজিসি। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে র‌্যাগিং প্রসঙ্গে ১২টি প্রশ্নের জবাব চেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট পাঠাতে বলেছিল ইউজিসির। উত্তর দেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময়ও বেঁধে দিয়েছিল ইউজিসি। সেই চিঠি পেয়েই রিপোর্ট তৈরি করে পাঠান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত শনিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বলেছিলেন, ‘‘আমরা ৩১টি ফাইলে পাঠিয়েছি। তবে সন্তুষ্ট কি না, তা ওঁরা বলবেন।’’ সোমবার স্নেহমন্জু বসুর বক্তব্যের ৪৮ ঘণ্টা পর মিলল ইউজিসির প্রতিক্রিয়া, তাতে তারা জানিয়ে দিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরে তারা সন্তুষ্ট নয়। স্বয়ং ইউজিসির চেয়ারম্যানই এই প্রসঙ্গে জানিয়ে দিলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া দ্বিতীয় দফার রিপোর্টেও তাঁরা সন্তুষ্ট নন।

একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে এম জগদেশ বলেছেন, ‘‘র‌্যাগিং একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পড়ুয়াদের জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতেই হবে। এ ব্যাপারে ইউজিসির সমস্ত বিধি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়কে। খুব শীঘ্রই আবার ইউজিসি এই প্রসঙ্গে চিঠি লিখবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। তাতে আরও ব্যাখ্যা চাওয়ার পাশাপাশি, কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার বিষয়েও বিশদও জানতে চাওয়া হবে বলে ওই সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছেন ইউজিসির চেয়ারম্যান। এ দিকে, শনিবারই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জানিয়েছিলেন, ইউজিসির প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য শনি-রবিবারও বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে তাঁকে। এর আগে দুর্ঘটনার পরের চার দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে না আসা প্রসঙ্গে নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বসু। তবে ইউজিসি আবার তাদের ‘প্রশ্নমালা’ পাঠালে তাঁর চাপ নিঃসন্দেহে আরও বাড়বে। তবে এ নিয়ে সোমবার আর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীন তদন্ত কমিটির ইমেল পেয়ে স্নেহমন্জু বসু তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থিত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ৯ অগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হস্টেলের নীচে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় প্রথম বর্ষের এক ছাত্রকে। পরের দিন হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীনই মৃত্যু হয় তার। বাংলা বিভাগের ওই ছাত্রের বাড়ি নদিয়ায়। দিন কয়েক আগেই যাদবপুরের মেন হস্টেলের এ ২ ব্লকে এক আবাসিকের ‘অতিথি’ হিসাবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেনে হোস্টেলের ৬৮ নম্বর ঘরে থাকতে শুরু করেছিল সে। পুলিশের রিপোর্টে জানা যায়, হস্টেলের তিন তলার বারান্দা থেকে কোনও ভাবে পড়ে গিয়েছিল সে। এই ঘটনায় ছাত্রটির পরিবার র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ আনে হস্টেল আঁকড়ে পড়ে থাকা প্রাক্তন ছাত্রদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জবাব চেয়েছে ইউজিসিও। স্নেহমন্জু বসু প্রথমদিন জানিয়েছিলেন ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্টে সন্তুষ্ট। তারপর যখন ইউজিসি জানায় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরে সন্তুষ্ট নয়, তখন রেজিস্ট্রার জানান, তিনি বলেননি ইউজিসি যাদবপুরের রিপোর্টে সন্তুষ্ট। তার পর ১২ দফা প্রশ্ন করে পাঠিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্ট চাইলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় জেরেপোর্ট দেয় তাতেও ইউজিসি অসন্তোষ প্রকাশ করল। এবার আবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ইউজিসি রিপোর্ট চাইতে চলেছে বলে খবর।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!