Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬

লালকেল্লা বিস্ফোরণে জৈশ যোগ, ইউএনএসসি রিপোর্টে পাক দাবি খারিজ, সক্রিয় সন্ত্রাসে উদ্বেগ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
লালকেল্লা বিস্ফোরণে জৈশ যোগ,  ইউএনএসসি রিপোর্টে পাক দাবি খারিজ, সক্রিয় সন্ত্রাসে উদ্বেগ

লালকেল্লা বিস্ফোরণের ঘটনায় জৈশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) ৩৭তম রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এর ফলে ভারতের দীর্ঘদিনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মঞ্চে কার্যত স্বীকৃতি পেয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ৯ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লায় সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণে জৈশের হাত ছিল। ওই হামলায় প্রাণ হারান ১৫ জন, আহত হন অনেকে।

নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তান জৈইস-এ-মহম্মদকে ‘নিষ্ক্রিয়’ সংগঠন বলে দাবি করে তাকে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতা করেছিল। এমনকি রিপোর্টে পরিষ্কার বলা হয়েছে, অন্তত একটি সদস্য রাষ্ট্র জৈশের নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল—যে দেশটি পাকিস্তান। অথচ একই রিপোর্টে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত হলেও জৈশ এখনও কার্যকর এবং সন্ত্রাসবাদী হামলা চালাতে সক্ষম।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি জমা পড়া এই ৩৭তম রিপোর্টে মাসুদ আজহারের নেতৃত্বাধীন জৈশ-ই-মহম্মদের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপ ও আর্থিক বরাদ্দে কড়াকড়ি সত্ত্বেও সংগঠনটি বিলুপ্ত হয়নি, বরং নতুন শাখা ও নতুন নামে পাকিস্তানের মাটিতেই বিস্তার ঘটাচ্ছে। পূর্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও গোষ্ঠীটিকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা যায়নি বলেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, লালকেল্লা হামলার আগে গত ৮ অক্টোবর জৈশ নেতা মৌলানা মাসুদ আজহার আলভি সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের লক্ষ্যে মহিলা শাখা ‘জামাত-উল-মুমিনত’ গঠনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি নতুন করে জঙ্গি নিয়োগও শুরু হয়েছে বলে তথ্য উঠে এসেছে।

রিপোর্টে সাম্প্রতিক একাধিক জঙ্গি হামলায় জৈশের দায় স্বীকারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রমাণ করে সংগঠনটি এখনও সক্রিয়। শুধু জৈশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য জিহাদি সংগঠনগুলির ক্রমবর্ধমান তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিরাপত্তা পরিষদ।

সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জৈশকে ‘অস্তিত্বহীন’ বা ‘নিষ্ক্রিয়’ বলে দাবি আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ভারতের বারবার তোলা অভিযোগই শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে প্রতিফলিত হওয়ায় বিশ্বমঞ্চে ইসলামাবাদের অবস্থান অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!