- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫
ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজন নয়া জাতীয় মিশন, মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত করতে প্রস্তাব ইউনেস্কোর
ভারতের শিক্ষার মান উন্নয়নে মাতৃভাষা বা গৃহভাষাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব আরও জোরালোভাবে তুলে ধরলো জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা, ইউনেস্কো। মঙ্গলবার তারা প্রকাশ করেছে ষোলপৃষ্ঠার প্রতিবেদন ‘ভাষা গুরুত্বপূর্ণ: ২০২৫ সালের জন্য ভারতের শিক্ষা প্রতিবেদন; মাতৃভাষা ও বহুভাষিক শিক্ষা’, যেখানে সুপারিশ করা হয়েছে, দেশের সব শিক্ষা ব্যবস্থায় বহুভাষিক শিক্ষা কার্যকর করার জন্য একটি জাতীয় মিশন গড়ে তোলা প্রয়োজন।
ইউনেস্কোর দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক টিম কার্টিস বলেছেন, ‘এ বছরের প্রতিবেদন মূলত শিক্ষার ন্যায্যতা ও অন্তর্ভুক্তির দিকে মনোনিবেশ করেছে। আমরা দেখাতে চাই, কীভাবে মাতৃভাষায় শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শেখার মান বৃদ্ধি পায়, ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষিত হয় এবং শিক্ষার সুযোগ সমানভাবে সকলের জন্য নিশ্চিত হয়।’ তিনি আরো জানান, ‘ইউনেস্কো প্রাথমিক শিক্ষায় মাতৃভাষার ব্যবহারকে দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন করে আসছে। ১৯৫৩ সাল থেকে এই নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। ২০০৩ সালে প্রকাশিত ‘এক বহুভাষিক বিশ্বের শিক্ষা’ প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাপী বহুভাষিক শিক্ষার চ্যালেঞ্জ ও সুযোগের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।’
২০২৫ সালের প্রতিবেদনে একটি বিস্তৃত কাঠামো উপস্থাপন করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক ভাষার পথনির্দেশ, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাপদ্ধতি, সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ এবং প্রাসঙ্গিক পরিকল্পনার ওপর জোর দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনেস্কোর গবেষক দল ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। ওড়িশা, তেলেঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের স্কুল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সিভিল সোসাইটি সংস্থার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁরা তথ্য সংগ্রহ করেছে। প্রতিবেদনে অ্যাকাডেমিক, শিক্ষক, স্থানীয় সম্প্রদায়, সরকার এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিস্তারিত পরামর্শের ফলাফল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্য-স্তরের স্পষ্ট ভাষা-শিক্ষা নীতি গ্রহণ এবং কার্যকর করা প্রয়োজন, যা মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষার ভিত্তিতে হবে।
বহুভাষিক দক্ষতা সম্পন্ন শিক্ষকের নিয়োগ, বিতরণ এবং পেশাগত মান উন্নত করা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় বহুভাষিক শিক্ষাব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। স্কুলে সব সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ এবং প্রচলিত ঐতিহ্যের জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চমানের বহুভাষিক শিক্ষাসামগ্রী, মূল্যায়ন তৈরি এবং পঠন-পাঠনের পরিসর গড়ে তোলা দরকার। মধ্য ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষায় লিঙ্গ-সংবেদনশীল বহুভাষিক শিক্ষার কাঠামো প্রয়োগ করা উচিত। ডিজিটাল অবকাঠামোর মাধ্যমে বহুভাষিক শিক্ষক সহায়তা এবং শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। এছাড়া, অন্তর্ভুক্তিমূলক ভাষা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল বিভাজন দূর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা এবং ভাষা-সংবেদনশীল প্রযুক্তির জন্য টেকসই ও সমান অর্থায়ন নিশ্চিত করা উচিত। পরিশেষে, জাতীয় মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা মিশন গঠন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় শক্তিশালী করা অত্যাবশ্যক। টিম কার্টিস বলেন, ‘মাতৃভাষায় শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহজে শিখতে পারে, সমাজে অন্তর্ভুক্তি বাড়ে, ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষিত হয়। এটি শুধু শিক্ষার মান বাড়ায় না, দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের ভিত্তিও স্থাপন করে।’ শিক্ষা জগতের বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষার এ পরিবর্তন কার্যকর হলে শুধুমাত্র শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে না, দেশের সামাজিক সাম্য আর বহুভাষিক সংস্কৃতিও সংরক্ষিত হবে।
❤ Support Us






