- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ৩, ২০২৫
আরাবল্লীর ওপর ‘বুলডোজার উন্নয়ন’, পরিবেশ বনাম পরিকাঠামো বিতর্কে তুঙ্গে দেশ
ভারতের উদীয়মান অর্থনীতির ঝলক কি তবে ক্রমশ ঢেকে ফেলছে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের অস্তিত্বকে? সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের সায় পেয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের এক সিদ্ধান্তকে ঘিরে আবারও উঠেছে সেই প্রশ্ন। আরাবল্লীর সবুজ পাহাড়ে শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে খনিজ উত্তোলন—যা কার্যত ‘আরাবল্লীর মৃত্যু পরোয়ানা’, অভিযোগ কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর।
উত্তর ভারতের দিল্লি থেকে শুরু হয়ে হরিয়ানা–রাজস্থান পেরিয়ে গুজরাটে শেষ হওয়া ৬৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রাচীন পর্বতমালা বছরভর উত্তর–পশ্চিম ভারতের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে একসময়ে গুজরাট থেকে দিল্লি পর্যন্ত ১,৬০০ কিমি ‘আরাবল্লী সবুজ প্রাচীর’ অথবা গ্রিন ওয়াল তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশকে মান্যতা দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি রায় দেয়—১০০ মিটারের কম উচ্চতার পাহাড়ে খনিজ উত্তোলন করা যাবে, এবং তাতে ‘বড় ক্ষতি’ হবে না। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, আরাবল্লীর প্রায় ৯০ শতাংশ পাহাড়ই এই উচ্চতার নিচে, ফলে সিদ্ধান্ত কার্যত গোটা পর্বতমালাকেই খননের আওতায় এনে দেবে।
সোনিয়া গান্ধীর অভিযোগ—মোদি সরকারের আমলে পরিবেশ রক্ষা চূড়ান্ত অবহেলার শিকার। ১৯৮০ সালের বন আইন ও ২০২২ সালের সংশোধনী যে ভাবে পরিকাঠামো ও খনিজ উত্তোলনের নামে বনভূমি ধ্বংসের সুযোগ বাড়িয়েছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা জরুরি। তিনি আরও সতর্ক করেছেন, এই সিদ্ধান্ত খনি মাফিয়াদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করবে আরাবল্লীকে।
ইতিমধ্যেই ভারতের পরিবেশ সূচক ভয়াবহভাবে নিম্নমুখী। ২০১৮ সালের বিশ্ব পরিবেশ সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১৭৭তম—২০১৬ সালের তুলনায় ৩৬ ধাপ পিছনে। বাংলাদেশ, নেপাল, কঙ্গো ও বুরুন্ডির মতো তলানির দেশগুলোর সঙ্গেই একই তালিকায় ভারত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাধারণ ভ্রান্তি—অন্ধভাবে পশ্চিমি উন্নয়ন মডেলের অনুসরণ, দুর্বল শাসনব্যবস্থা এবং উপযুক্ত প্রযুক্তির অভাব—পরিবেশ ও আর্থিক অগ্রগতির দ্বন্দ্বকে আরও গভীর করছে।
তাই প্রশ্ন উঠছে—মানুষের এই ‘আত্মধ্বংসী উন্নয়ন’ কবে থামবে? পৃথিবী যখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে, তখন আধুনিক পরিকাঠামোই বা কে কাজে লাগাবে?
❤ Support Us






