- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৯, ২০২৫
বহু প্রতীক্ষার পর রাজ্যের পঞ্চায়েত তহবিলে ৬৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ কেন্দ্রের
অবশেষে অপেক্ষার অবসান। বহু মাস আটকে থাকার পর পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের আওতায় চলতি অর্থবর্ষে প্রথম কিস্তির ৬৮০.৭১ কোটি টাকা রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ স্থানীয় সংস্থাগুলির জন্য বরাদ্দ করল কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন ‘অজুহাত’ দেখিয়ে এই বরাদ্দ আটকে রেখেছিল কেন্দ্র সরকার। বৃহস্পতিবার প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর বিজ্ঞপ্তিতে বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে।
এ অর্থ বরাদ্দকে ঘিরে স্বস্তিতে নবান্ন। কারণ, কেন্দ্রীয় সহায়তা ছাড়া একাধিক পঞ্চায়েতস্তরের পরিকাঠামো নির্মাণ ও পরিষেবা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছিল। নতুন অর্থবর্ষ শুরুর ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও অনুদান আটকে রাখার ঘটনায় রাজ্য সরকারের তরফে দিল্লিকে জানানো হয়েছিল একাধিকবার। এমনকি কেন্দ্রীয় শর্ত পূরণে সামান্য ত্রুটির কারণে রাজ্যকে ১ কোটি টাকা জরিমানাও দিতে হয়েছে। ‘পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রক’-এর অধীনে বরাদ্দ হওয়া এই অর্থ রাজ্যের ৩,২২৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ৩৩৫টি পঞ্চায়েত সমিতি ও ২১টি জেলা পরিষদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। কেন্দ্র জানিয়েছে, ৬ অক্টোবর এই বরাদ্দ রাজ্যের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এবার স্থানীয় স্তরের প্রশাসনিক পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য।
এটি ‘সংযুক্ত অনুদান’। এই খাতে রাজ্যের পঞ্চায়েত প্রতিষ্ঠানগুলি স্থানীয় চাহিদা ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে খরচ করতে পারবে। এর ব্যবহারিক ক্ষেত্র ব্যাপক— গ্রামীণ রাস্তা ও ফুটপাথ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, এলইডি বা সৌর আলো বসিয়ে রাস্তাঘাট আলোকিতকরণ, খেলার মাঠ তৈরি বা সংস্কার, পরিবেশ রক্ষা সংক্রান্ত উদ্যোগ, ডিজিটাল সংযোগ বা তথ্যপ্রযুক্তি পরিকাঠামো, কবরস্থান-শ্মশান ও শ্মশানঘাটের রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টিমূলক প্রকল্প। অর্থাৎ, অর্থব্যবহার নিয়ে রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকার কোনও নির্দিষ্ট গাইডলাইন দেবে না, বরং সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতগুলিই স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ ও রূপায়ণ করবে। সূত্রের খবর, সংযুক্ত অনুদানের অর্থ ছাড়ের পরে এবার খুব শিগগিরিই ‘আবদ্ধ অনুদান’-এর কিস্তিও রাজ্যকে দেওয়া হতে পারে। এই তহবিল নির্দিষ্ট খাতে ব্যয়যোগ্য— যেমন শৌচাগার নির্মাণ, পানীয় জল সরবরাহ, কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জল সংরক্ষণ, জল অপসারণের পরিকাঠামো নির্মাণ ইত্যাদি। এই বরাদ্দের ৬০ শতাংশ ব্যবহার বাধ্যতামূলকভাবে এই খাতে করতে হয়। ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ মিলিয়ে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের আওতায় পশ্চিমবঙ্গকে মোট ৪,১৮১.২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে সংযুক্ত অনুদান বাবদ রাজ্য পেয়েছে ২,০৮২.১৩ কোটি এবং আবদ্ধ অনুদান বাবদ ২,০৯৯.১০ কোটি টাকা।
২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে ষোড়শ অর্থ কমিশনের সুপারিশ। অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের শেষ বছর। কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কেন্দ্র আর এই সূত্রে অর্থ দিতে পারবে না। সে কারণেই বরাদ্দ পাওয়া নিয়ে রাজ্যের মধ্যে উদ্বেগ ছিল প্রবল।চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কমিশনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি জানান, পশ্চিমবঙ্গকে আগের তুলনায় বেশি অনুদান দেওয়া হোক। তাঁর যুক্তি ছিল— জনসংখ্যা, দারিদ্র্যের হার, গ্রামীণ পরিকাঠামো ঘাটতি ইত্যাদি বিবেচনায় বাংলার প্রাপ্তি বাড়ানো উচিত। একই দাবি তোলে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিও। অর্থ কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, নতুন বরাদ্দের ক্ষেত্রে রাজ্যের দাবি বিবেচনায় রাখা হবে।
কেন্দ্রের বরাদ্দ রাজ্য সরকারের জন্য যেমন আর্থিক স্বস্তি, তেমনই পঞ্চায়েত স্তরের বহু প্রকল্পে নতুন করে গতি আসার সম্ভাবনা তৈরি করছে। বিশেষ করে গ্রামীণ রাস্তাঘাট, আলো, মাঠ সংস্কারের মতো কাজ যেখানে দীর্ঘদিন ধরে অর্থাভাবে আটকে ছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন শুরু করতে পারবে রাজ্য। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— বাকি কিস্তি কবে আসবে? এবং আবদ্ধ অনুদান আসলে সেটাই বা কবে ছাড়বে কেন্দ্র? আপাতত সে উত্তর অজানা।
❤ Support Us






