Advertisement
  • বি। দে । শ
  • আগস্ট ৩১, ২০২৬

হরমুজে ফের মার্কিন হামলা, প্রত্যাঘাত তেহরানের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
হরমুজে ফের মার্কিন হামলা, প্রত্যাঘাত তেহরানের

নতুন মাত্রা পেল ইরান–মার্কিন সংঘাত। একমাস ধরে হানাহানি বন্ধ থাকার পর আবার ইরানের ওপর হামলা চালাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে একটা ইরানি রকেট লঞ্চারে হামলা চালিয়েছে। এক মাসের মধ্যে এটাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক পদক্ষেপ। ইরানও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রকেট লঞ্চারে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান মার্কিন জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইরানের হামলায় দু-জন নিহত হয়েছেন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সৈন্যদের সমুদ্র মাইনযুক্ত রকেট নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেইসময় মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালীর আন্তর্জাতিক নৌপথ থেকে মাইন অপসারণের জন্য রকেট লঞ্চারের ওপর হামলা চালায়। মার্কিন সামরিক বাহিনী এর আগে সর্বশেষ ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছিল ২৯ জুলাই। সেই সময় তারা উপকূলীয় নজরদারি ও প্রতিরক্ষা কেন্দ্রসহ বিপ্লবী গার্ডের কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে। এরপর ১ আগস্ট, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, উপসাগরীয় মিত্র— কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অনুরোধে তিনি সামরিক বাহিনীকে হামলা বন্ধ করার নির্দেশ দেবেন।

ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, মার্কিন হামলায় বেশ কয়েকজন সামরিক সদস্যের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকও নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। হামলার পালটা জবাব হিসেবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির রিপোর্ট অনুযায়ী, জর্ডানের কিং হুসেন ও আল-আজরাক বিমান ঘাঁটির কারিগরি ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিকাঠামো, সেখানে থাকা যুদ্ধবিমানগুলিকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলা চালানো হয়।

এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল যখন ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে তারা সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ওপর মনোযোগ দেবে। এই পরিবর্তিত কৌশলের প্রধান স্তম্ভ হল, তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখা দেশ বা সংস্থাগুলোকে শাস্তি দেওয়ার হুমকি। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রেভল্যুশনারি গার্ডের মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেবি বলেছেন, রবিবারের হামলা, অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলাকালে ট্রাম্প প্রশাসনের একটা মারাত্মক ভুল। এর পরিণতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে ভোগ করতে হবে।

কয়েকমাসব্যাপী যুদ্ধের পর হ্রাস পাওয়া অস্ত্রের মজুত নিয়ে প্রশাসন যখন বিবেচনা করছে, ঠিক তখনই নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ একটা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বিশ্বের অন্যত্র মার্কিন সামরিক প্রস্তুতিকে দুর্বল করে দিতে পারে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে ট্রাম্পের কথাবার্তাও ক্রমশ স্তিমিত হয়ে আসছে। তিনি বলেছেন যে, ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে তাঁর কোনও তাড়া নেই।

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন জাহাজ আক্রমণ করে ইরান তার শক্তি প্রদর্শনের আরও একটা সুযোগ পেয়েছে, যেখানে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বহনকারী খুব কম জাহাজই যাতায়াতের ঝুঁকি নেয়। এই জলপথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবহন করা হয় এবং এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ আক্রমণ করার মতো পর্যাপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের কাছে এখনও রয়েছে। তেহরান ধারাবাহিকভাবে এই অবস্থান বজায় রেখেছে যে, ওমানের সঙ্গে হরমুজের ব্যাপারে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-এর অধীনে থাকা বাধ্যবাধকতা পূরণ না করা পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এটা ব্যবহার করতে পারবে না।

ট্রাম্প বারবার বলেছেন যে হরমুজ প্রণালী খোলা আছে এবং জানিয়েছেন যে গত সপ্তাহে ২৪টি জাহাজ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেছে। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে প্রতিদিন যে প্রায় ১৩০টি জাহাজ হরমুজ দিয়ে যাতায়াত করত, এই সংখ্যাটি তার একটা ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। রবিবার মার্কিন নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকা একটা বহুজাতিক জোট জানায় যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। শনিবার ওমানের খাসাবের উত্তরে একটা ট্যাঙ্কার জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।এই হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!