Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ১৪, ২০২৩

মাটির তলায় ৪৮ ঘণ্টা : ড্রিল করে সুড়ঙ্গে আটক ৪০ জনকে বাঁচাতে অব্যাহত উদ্ধার কাজ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মাটির তলায় ৪৮ ঘণ্টা : ড্রিল করে সুড়ঙ্গে আটক ৪০ জনকে বাঁচাতে অব্যাহত উদ্ধার কাজ

উত্তরাখণ্ডে টানেলের মধ্যে ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে থাকা ৪০ জন শ্রমিককে উদ্ধারের জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

উদ্ধারকারী দল রবিবার ভোরে ধসের পর থেকে অবিরাম কাজ করে চলেছে, তারা ২০০ মিটার এলাকা জুড়ে পড়ে থাকা শিলাগুলিকে এখনও পর্যন্ত সামান্যই কাটতে পেরেছে, এই শিলাখণ্ডগুলিই শ্রমিকদের টানেলের ভিতরে আটকে রেখেছে।

উদ্ধারকারীরা আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য এবং তাদের টানেলে থেকে বের করে আনার জন্য একটি  পথ তৈরি করার চেষ্টা করছেন, আটকে পড়া শ্রমিকদের সঙ্গে এখনও উদ্ধারকারীদের দূরত্ব প্রায় ৪০ মিটার। এদিকে উদ্ধারকারীরা জানাচ্ছেন, টানেলের মধ্যে ণেঙে পড়ে থাকা প্রায় ২১ মিটার স্ল্যাব অপসারণ করে জায়গা বার করা হয়েছে, ১৯ মিটার প্যাসেজ এখনও পরিষ্কার করা বাকি আছে।

উদ্ধারকারী দলটি চেষ্টা করছে ধ্বংসস্তুপের মধ্যে একটও গর্ত করে তার মধ্য দিয়ে ৯০০ মিমি ব্যাস বিশিষ্ট পাইপ প্রবেশ করিয়ে, টানেলে আটকে পড়া শ্রমিকদের বাইরে বের করে আনতে, কারণ ৯০০ মিমি ব্যাসের পাইপটির মধ্যদিয়ে ধ্বংসস্তুপ থেকে আটকে পড়া ৪০ জন শ্রমিককে বাইরে বার করে আনার  কাজটি সহজ ও সম্ভব বলে উদ্ধারকারীদল মনে করছে।

এই কাজটি করার জন্য ঘটনাস্থলে অনুভূমিকভাবে ড্রিল করতে হবে।  তার পর ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে পাইপগুলিকে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করাতে হবে এবং শ্রমিকদের ওই পাইপের মধ্য দিয়ে বাইরে বের করে আনতে হবে।  এই কাজটি করার জন্য একটি ড্রিল মেশিন ব্যবহার করতে হবে, সেই ড্রিল মেশিনটি রাখার জন্য এখন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে বলে উদ্ধারকারী দলের তরফে জানান হয়েছে।

এই সাহসী অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত উপাদান এবং যন্ত্রপাতি ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে। সেচ দফতরের বিশেষজ্ঞরাও এই অভিযানে যোগ দিয়েছেন।

ঘটনাস্থল থেকে তোলা ভিডিওগুলিতে  দেখা যাচ্ছে যে কংক্রিটের বিশাল স্তূপ সুড়ঙ্গটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। সুরঙ্গের ভাঙা ছাদ থেকে পাকানো ধাতব বারগুলি ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে উদ্ধারকর্মীদের বাইরে বেরিয়ে আসার পথে আরও বাধা তৈরি করেছে। আটকে পড়া শ্রমিকদের  বেশিরভাগই বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচলপ্রদেশ থেকে শ্রমিকরা কাজ করতে এসেছিলেন।

রবিবার সকালে ব্রহ্মখাল-যমুনোত্রী জাতীয় সড়কে নির্মীয়মান কাঠামোর এই সুড়ঙ্গে শ্রমিকরা আটকা পড়েন। শ্রমিকরা   বাফার জোনে আটকা পড়েছেন এবং  অক্ষত রয়েছে। জলের পাইপলাইনের মাধ্যমে খাদ্য ও অক্সিজেন তাঁদের জন্য  সরবরাহ করা হচ্ছে। তাঁদের হাঁটা এবং শ্বাস নেওয়ার জন্য প্রায় ৪০০ মিটারের বাফার জোন বা ফাঁকা জায়গা রয়েছে বলে বিপর্যয় মোকাবিলা কর্মীদের তরফে জানান হয়েছে।

ওয়াকিটকির মাধ্যমে সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে বলে উদ্ধারকারী দলের তরফে জানান হয়েছে।

ব্রহ্মখাল-যমুনোত্রী জাতীয় মহাসড়কের ৪.৫ কিলোমিটার সুড়ঙ্গ, যা উত্তরকাশীর সিল্কিয়ারা এবং দান্দলগাঁওয়ের সাথে মিলিত হবে, এটি চারধাম প্রকল্পের একটি অংশ। এই প্রকল্পটি শেষ হলে, এটি ২৬ কিলোমিটার দূরত্ব কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক ভাবে বলা হয়েছে যে এই অঞ্চলে একটি ভূমিধস ধসের ফলে এই বিপর্যয় হয়েছে। তবে ধসের সঠিক কারণ খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত চলছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!