Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬

বন্দে মাতরম গান নিয়ে নয়া নির্দেশিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বন্দে মাতরম গান নিয়ে নয়া নির্দেশিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের

মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ঘোষণা করেছে যে, এবার থেকে জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের জন্য এখন থেকে নির্দিষ্ট সরকারি প্রোটোকল মানতে হবে। অফিসিয়াল সংস্করণে গানটি যখনই গাওয়া বা বাজানো হবে, সেখানে উপস্থিত সবাইকে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানানো বাধ্যতামূলক। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, যদি একই অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’ ও রাষ্ট্রীয় গান ‘বন্দে মাতরম’—উভয়ই বাজানো হয়, তবে প্রথমে ‘বন্দে মাতরম’ এবং পরে ‘জন গণ মন’ পরিবেশিত হবে। মন্ত্রকের মতে, এ ধাপটি নেওয়া হয়েছে জাতীয় প্রতীকের প্রতি সম্মান এবং অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে।

নয়া নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠান, পদ্ম পুরস্কার-সহ বিভিন্ন নাগরিক সম্মান প্রদানের অনুষ্ঠান এবং রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে ‘বন্দে মাতরম’ বাজানো হবে। অনুষ্ঠান শুরু বা শেষ হওয়ার সময় গানটি বাজানো হলে উপস্থিত সবাইকে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানাতে হবে। স্কুলগুলোর জন্যও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন সকাল কর্মসূচির শুরুতে ‘বন্দে মাতরম’ ও জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ পরিবেশন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয় প্রতীকের প্রতি সম্মানবোধ তৈরি করতে হবে। ফলে, এখন থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মূল রচনার সকল ৬টি স্তবক এবার গাওয়া হবে। এর মধ্যে ১৯৩৭ সালে নেহেরু সরকারের সময় বাদ দেওয়া ৪টি স্তবকও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গানটির অফিসিয়াল সংস্করণের মোট সময় হবে ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। মন্ত্রক জানাচ্ছে, এতে গানটি ‘গণসঙ্গীত’ আকারে পরিবেশন করা যাবে, যাতে সবাই একসঙ্গে অংশ নিতে পারেন।

নির্দেশিকায় একটি ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। সিনেমা, নিউজরিল বা তথ্যচিত্রে ‘বন্দে মাতরম’ বাজলে দর্শকদের দাঁড়িয়ে থাকা বাধ্যতামূলক নয়। কারণ, এতে অনুষ্ঠান ব্যাহত হতে পারে এবং বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা থাকে। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, কেউ যদি রাষ্ট্রীয় গানের অসম্মান করে বা অন্যদের শ্রদ্ধা প্রদানে বাধা দেয়, তবে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এ নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নয়া প্রোটোকলটি সাদা পাতায়, কোনো লেটারহেড বা স্বাক্ষর ছাড়াই দেওয়া হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক মহল প্রশ্ন তুলেছেন যে, কীভাবে কোনো সরকারি নির্দেশনা শুধুই অনলাইনে, এমন ফরম্যাটে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, ‘বন্দে মাতরম’ লেখা হয়েছিল ১৮৮২ সালে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’-এ। স্বাধীনতার আগে এই গান স্বাধীনতা আন্দোলনের নৃতাত্মক সঙ্গীত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। স্বাধীন ভারতের পর, ১৯৫০ সালে প্রথম দুটি স্তবক জাতীয় গান হিসেবে গৃহীত হয়। এবার গানটির ১৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে সকল৬ টি স্তবকই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!