Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ২৬, ২০২৫

জন্ডিসের দাপটে অসুস্থ বহু পড়ুয়া, উদাসীন কর্তৃপক্ষ। ছাত্রবিক্ষোভে উত্তাল ভোপালের ভিআইটি, পুড়ল গাড়ি, উপাচার্যের আবাসে ভাঙচুর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জন্ডিসের দাপটে অসুস্থ বহু পড়ুয়া, উদাসীন কর্তৃপক্ষ। ছাত্রবিক্ষোভে উত্তাল ভোপালের ভিআইটি, পুড়ল গাড়ি, উপাচার্যের আবাসে ভাঙচুর

জন্ডিস-আতঙ্কে থমথমে ভিআইটি ভোপাল। ক্যাম্পাসজুড়ে সে আতঙ্কই শেষ পর্যন্ত রূপ নিল বিস্ফোরক ক্ষোভে। মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রায় ৪ হাজার ছাত্রের বিক্ষোভে আগুন জ্বলে উঠল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। পুড়িয়ে দেওয়া হয় একাধিক যানবাহন। ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাংলোও। রাতভর উত্তেজনায় মুখরিত হয়ে রইলো মধ্যপ্রদেশের সেহোর জেলার ইন্দোর-ভোপাল মহাসড়কের ধারে গড়ে ওঠা এই নামী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হোস্টেলের একের পর এক ছাত্র জন্ডিসের উপসর্গে ভুগতে শুরু করায় আতঙ্ক বাড়ছিল ক্যাম্পাসে। ছাত্রদের দাবি, পানীয় জলের গুণমান নিয়ে মাসের পর মাস অভিযোগ জানানো হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে পড়ুয়াদের। তারই জেরেই মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। পড়ুয়ারা বলছেন, ‘বারবার অভিযোগ জানিয়েও আমরা কোনো সুরাহা পাইনি। বরং ছাত্রদের মুখ বন্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মী আর নিরাপত্তারক্ষীরা ভয় দেখাত। কখনো ধমক, কখনো শারীরিক হেনস্থার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এই দমনপীড়নেই ক্ষোভ জমতে জমতে বিস্ফোরণের আকার নিয়েছে।’ সন্ধ্যা ঘনাতেই হোস্টেলের সামনে প্রথমে জমায়েত, তার পরই স্লোগানে মুখর ক্যাম্পাস। ‘অস্বাস্থ্যকর খাবার’, ‘দূষিত জল’, ‘প্রশাসনের উদাসীনতা’— অভিযোগের পাহাড় নিয়ে উত্তেজিত ছাত্রসমুদ্র এগিয়ে যায় প্রধান ফটকের দিকে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায় বলে জানান একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী। কমপক্ষে ৪টি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রের খবর। তছনছ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সরকারি বাংলোর অংশবিশেষও।

উত্তেজনার খবর পৌঁছাতেই সেহোর এবং আশপাশের থানাগুলি থেকে বিশাল পুলিশবাহিনী নামে ক্যাম্পাসে। রাতভর টহল, ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল— সব মিলিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলতে থাকে টানটান উত্তেজনা। ছাত্রদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই হোস্টেলের খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ ছিল। ‘জল এতটাই খারাপ যে অনেককে বাধ্য হয়ে মিনারেল ওয়াটার কিনে খেতে হয়েছে।’ সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন প্রথম বর্ষের এক ছাত্র। ওই জল থেকেই জন্ডিস ছড়িয়েছে বলে তাদের দাবি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত এ বিষয়ে মুখ খোলেনি। জেলা প্রশাসনের তরফেও মেলেনি কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি। পুলিশ জানিয়েছে, অসুস্থতার উৎস, সহিংসতা এবং সম্পত্তি নষ্ট হওয়ার ঘটনায় পৃথকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে। সেহোর জেলার পুলিশ সুপার দীপক শুক্লা জানান, ‘এ মুহূর্তে ভিআইটি ভোপাল ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। সতর্কতার স্বার্থে কলেজ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বহু ছাত্র ইতিমধ্যেই বাড়ি ফিরে গিয়েছে। হোস্টেলে থাকা অসুস্থ ছাত্রদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ-আবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে ছাত্রদের একাংশের মত, প্রশাসন যদি শুরু থেকেই স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ন্যূনতম পদক্ষেপ নিত, তাহলে এমন উত্তাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। আপাতত ক্যাম্পাস ফাঁকা। তবে আশঙ্কা, উপযুক্ত পদক্ষেপ না নিলে, পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয় খুললে উত্তেজনা আবার মাথাচাড়া দিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে ভিআইটি পড়ুয়ারা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!