Advertisement
  • এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

প্রয়াত অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
প্রয়াত অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়

প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়। রবিবার রাতে মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘ সময় ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী। গত কয়েক বছর ধরে চিকিৎসা সূত্রে মুম্বইয়েই থাকছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের আবহ টলিপাড়ায়।

সত্তরের দশকে বাংলা ছবির পর্দায় যে কয়েকজন অভিনেত্রী নিজেদের স্বতন্ত্র উপস্থিতি তৈরি করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম মিঠু মুখোপাধ্যায়। মিষ্টি চেহারা, প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব এবং স্বাভাবিক অভিনয় — সব মিলিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। বাংলা ছবির পাশাপাশি হিন্দি ও ওড়িয়া চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। প্রায় দুই দশকের অভিনয়জীবনে একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ১৯৭১ সালে চিত্ত বসুর ‘শেষ পর্ব’ ছবির হাত ধরে বড়পর্দায় পা রাখেন মিঠু। বিপরীতে ছিলেন সমিত ভঞ্জ। তবে প্রথম ছবিতেই বড়ো পরিচিতি আসেনি। ১৯৭৩ সালে দীনেন গুপ্তর ‘মর্জিনা আবদুল্লা’ তাঁর কেরিয়ারে মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আলিবাবার পরিচারিকা মর্জিনার চরিত্রে অভিনয় করে নজর কাড়েন তিনি। ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন দেবরাজ রায়।

‘মর্জিনা আবদুল্লা’-র সাফল্যের পর একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ছবিতে কাজের সুযোগ আসে। ‘নিশিকন্যা’ ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। এরপর ১৯৭৪ সালে অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের ‘মৌচাক’ তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। নীপা চরিত্রে মিঠু এবং সিতেশের ভূমিকায় রঞ্জিত মল্লিকের জুটি দর্শকের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছিল। ছবিতে ছিলেন উত্তমকুমার, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, রবি ঘোষ, অনুপকুমার, চিন্ময় রায়-সহ একঝাঁক জনপ্রিয় শিল্পী।  এর পর রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে ফের জুটি বাঁধেন ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ ছবিতে। ১৯৭৫ সালের এই ছবিও তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজ। ‘কবি’ ছবিতে দেবরাজ রায়ের সঙ্গে অভিনয়ের পর ‘চাঁদের কাছাকাছি’ এবং ‘হোটেল স্নো ফক্স’-এর মতো ছবিতেও কাজ করেন তিনি।

বাংলা ছবির পাশাপাশি এই সময়েই হিন্দি চলচ্চিত্রেও নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা শুরু করেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। ১৯৭৬ সালে দুলাল গুহর ‘খান দোস্ত’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তাঁর। শত্রুঘ্ন সিনহার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। ছবিতে ছিলেন রাজ কপূরও। পরে বাসু চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘সফেদ ঝুট’, ‘দিল্লাগি’ এবং ‘দো লড়কে দোনো কড়কে’-তেও দেখা যায় তাঁকে। ‘দিল্লাগি’ ছবিতেও শত্রুঘ্ন সিনহার সঙ্গে জুটি বাঁধেন মিঠু। ১৯৭৭ সালের ‘প্রতিমা’ ছবিতেও তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় স্ত্রীর ভূমিকায় ছিলেন সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়। ছবিটিও বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছিল।

অভিনয়জীবনে মিঠু মুখোপাধ্যায়ের সহশিল্পীর তালিকাও ছিল দীর্ঘ। উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, দেবরাজ রায়, শত্রুঘ্ন সিনহা, রাজ কপূর, বিনোদ মেহরা, নবীন নিশ্চল, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, রবি ঘোষ, অনুপকুমার, মহুয়া রায়চৌধুরী-সহ বহু পরিচিত শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তবে জনপ্রিয়তার শিখরে থাকতেই ধীরে ধীরে নিজেকে চলচ্চিত্রজগৎ থেকে সরিয়ে নেন মিঠু। দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৯০ সালে চন্দ্র বারোটের ‘আশ্রিতা’ ছবিতে শেষবারের মতো পর্দায় দেখা যায় তাঁকে। তার পর আর কোনও ছবিতে অভিনয় করেননি। জনসমক্ষ থেকেও ক্রমশ দূরে সরে যান। তাঁর এই অন্তরালবাসা নিয়ে নানা সময়ে দর্শকের কৌতূহল থাকলেও মিঠু নিজেকে প্রচারের আলো থেকে দূরেই রেখেছিলেন। একসময় তাঁর সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বলিউডের রেখার মিল খুঁজে পেতেন অনেকে। সে সূত্রেই ‘কলকাতার রেখা’ নামেও পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি।

অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘মৌচাক’-এ কাজ করেছিলেন মিঠু। তাঁর মৃত্যুসংবাদ শুনে শোকপ্রকাশ করে সাবিত্রী বলেন, মিঠুর সঙ্গে তাঁর খুব বেশি কাজের সুযোগ হয়নি। তবে তাঁর স্মৃতিতে, ‘মিঠু ভালো অভিনেত্রী, মিশুকে মানুষ’। খবরটি শুনে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত বলেও জানান। অভিনেত্রীর পারিবারিক বন্ধু প্রবীর রায়ও তাঁর দীর্ঘ অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রায় এক বছর ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন মিঠু মুখোপাধ্যায়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!