- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ১৪, ২০২৫
প্রয়াত মেদিনীপুরের প্রাক্তন সিপিআইএম জেলা সম্পাদক দীপক সরকার
দীর্ঘ বাম রাজনীতির অধ্যায় পেরিয়ে সোমবার রাতে প্রয়াত হয়েছেন সিপিআইএম-এর প্রবীণ নেতা দীপক সরকারের প্রয়াণে। ছিলেন অবিভক্ত মেদিনীপুরের পার্টির জেলা সম্পাদক, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর প্রাক্তন সদস্য, শ্রমিক নেতা এবং শিক্ষক। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
সোমবার পার্টি অফিসে ঘণ্টাখানেক সময় কাটিয়ে, সহকর্মীদের সঙ্গে চেনা ভঙ্গিতে কথা বলে রাত সাড়ে এগারোটার একটু পর বাড়ি ফিরেছিলেন। বাড়ির লোকের সঙ্গে কথাবার্তা সেরে শুতে যাওয়ার আগে, রাত প্রায় বারোটার সময় হঠাৎই অস্বস্তি। বাথরুমে যাওয়ার পথে পড়ে যান। ঘটে স্ট্রোক। বমি শুরু হতেই পরিবারের সদস্যরা তৎপর হন, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। পরিবার সূত্রে জানা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তবুও পার্টি অফিসে তাঁর যাতায়াত ছিল নিয়মিত। এ দিন বিকেলেও পার্টি কার্যালয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক সময় কাটিয়েছিলেন। হাসিমুখেই ফিরেছিলেন বাড়ি। সহকর্মীরা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি, এটাই হবে শেষ দেখা।
দীর্ঘ ২৩ বছর অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার সিপিএমের জেলা সম্পাদকের দায়িত্ব সামলেছেন দীপকবাবু। পরে জেলার বিভাজনের পর তিনি হন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সম্পাদক। ২০২২ সালে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি নেন। অধ্যাপনা করেছেন মেদিনীপুর কলেজে। পাশাপাশি সংগঠক হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল উজ্জ্বল। মেদিনীপুর স্কুল বোর্ডের চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ, স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট অ্যাকাডেমি, শহিদ ক্ষুদিরাম পরিকল্পনা ভবন এবং বিদ্যাসাগর ইনস্টিটিউট— এ সব গঠনের পেছনে ছিল তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা। শৃঙ্খলার প্রতি কঠোরতা ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, নবীনদের জন্য অনুকরণযোগ্য। অবসরের পরেও দায়বদ্ধতার কারণে পার্টি অফিসে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তাঁর।
সিপিএম জেলা নেতৃত্ব জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত তাঁর মরদেহ রাখা থাকবে মেদিনীপুর শহরের জেলা পার্টি অফিসে। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন সহকর্মী, সমর্থক ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা। শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পর শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলি হয়ে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই তাঁর জীবনের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী হবে দেহদান। প্রয়াত নেতার স্মৃতিচারণ করতে মেদিনীপুর যাচ্ছেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-সহ রাজ্য নেতৃত্বরা। মরদেহ নিয়ে যাওয়া হতে পারে মেদিনীপুর কলেজেও, যেখানে তিনি এক সময় অধ্যাপনা করতেন।
❤ Support Us






