- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ২৯, ২০২৫
ফের অশান্ত মণিপুর, চুরাচাঁদপুর-এ জঙ্গি হামলায় নিহত গ্রাম প্রধান
আবার হিংসার ঘটনা মণিপুরে। চুরাচাঁদপুর জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আক্রমণে নিহত হলেন এক গ্রাম প্রধান। সোমবার সন্ধেয় হেংলেপ মহকুমার টি খোনোমফাই গ্রামের প্রধান এম হাওকিপকে আক্রমণ করে বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। গ্রামবাসীদের সন্দেহের আঙ্গুল কুকি জঙ্গিদের দিকে।
সোমবার সন্ধে নাগাদ হাওকিপকে বেশ কয়েকজন লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে গ্রামবাসীরা চিকিৎসার জন্য চুরাচাঁদপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই হাওকিপের মৃত্যু হয়। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রাম প্রধানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে যে, হামলার উদ্দেশ্য এখনও জানা যায়নি। তবে তাদের সন্দেহ ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মির জঙ্গিরা জড়িত রয়েছে। পুলিশ হেঙ্গলেপ থানায় একটা মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্ত চলছে। হাওকিপের পরিবার কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে হামলার কারণ সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
৫০ বছর বয়সী হাওকিপ হেংলেপ মহকুমার টি খোনোমফাই গ্রামের প্রধান ছিলেন। মণিপুর এখনও গ্রাম প্রশাসনের বংশগত প্রধান ব্যবস্থা অনুসরণ করে। যদিও ১৯৬৭ সালে এই ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার জন্য রাজ্য একটা আইন পাস করেছিল। কিন্তু সেই আইন কখনও কার্যকর হয়নি। প্রতিবেশী উপজাতিদের রাজ্য মিজোরাম ১৯৫৪ সালে বংশগত প্রধান ব্যবস্থার অবসান ঘটায়।
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে এক বছরের জন্য ‘সাসপেনশন অফ অপারেশনস’ চুক্তি নবীকরণে দুই ডজন কুকি, জোমি এবং হমার বিদ্রোহী সংগঠনের গোষ্ঠী অংশ নেয়। এই চুক্তি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সমস্ত সামরিক অভিযান বন্ধ করে দেয়। তবে শর্ত থাকে যে তারা চুক্তির মূল নিয়মগুলি অনুসরণ করে যেমন নির্ধারিত শিবিরে থাকা এবং অস্ত্র তালাবদ্ধ স্টোরেজে রাখা।
কিন্তু জুলাই মাসে ইউকেএনএ কুকি ন্যাশনাল আর্মির উপপ্রধান এবং আরও দুই কেএনএ জঙ্গিকে অতর্কিত হামলায় গুলি করে হত্যা করে। ওই হামলার পর কুকি জঙ্গি সংগঠনটি জানায়, তারা কেএনও কর্তৃক একজন ইউকেএনএ নেতা এবং ৩০ জনেরও বেশি লোককে হত্যার প্রতিশোধ নিতে এই অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিককালে কেএনএ এবং ইউকেএনএর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়েছে। চুরাচাঁদপুর জেলায় একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং তাঁর পরিবারকে হুমকি দেওয়ার কয়েকদিন পরেই সন্দেহভাজন ইউকেএনএ জঙ্গিরা গ্রামপ্রধানকে হত্যা করে।
❤ Support Us






