- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬
পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা বিরোধীদের, ৯ মার্চ আলোচনা সংসদে
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-র বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতার অভাব এবং শাসক শিবিরের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণ দাবি করেছে বিরোধী শিবিরের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল । তাঁদের অভিযোগ, স্পিকার সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছেন না এবং সরকারপক্ষের প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য দেখাচ্ছেন । এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে ।
স্পিকারের অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের পক্ষ থেকে সংসদীয় সচিবালয়ে ‘মোশন ফর রিমুভাল’ বা অপসারণ প্রস্তাবের নোটিস জমা পড়েছে । এই নোটিসে স্বাক্ষর করেছেন ১১৮ জন বিরোধী সাংসদ । তবে নীতিগত কারণে এই প্রস্তাব থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি ।
সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, মোশন ফর রিমুভাল সংক্রান্ত নোটিস পেশ হওয়ার পর অন্তত ২০ দিন পরে তা নিয়ে আলোচনা ও ভোটাভুটি হতে পারে । এই প্রেক্ষিতে জল্পনা তৈরি হয়েছিল সরকারপক্ষের অবস্থান নিয়ে । অবশেষে সংসদ বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিন, অর্থাৎ ৯ মার্চই এই প্রস্তাব নিয়ে লোকসভায় আলোচনা ও ভোটাভুটি হবে ।
রিজিজু বলেন, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী অধিবেশন বিরতির পর সভা পুনরায় শুরু হলে প্রথম দিনেই এ ধরনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে হয় । সেই অনুযায়ী ৯ মার্চ স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে এবং পক্ষে-বিপক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে । উল্লেখ্য, ৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব চলবে ২ এপ্রিল পর্যন্ত ।
অপসারণ প্রস্তাব জমা পড়ার পর থেকেই ওম বিড়লা নিজেকে সভা পরিচালনার দায়িত্ব থেকে বিরত রেখেছেন । বর্তমানে প্যানেল চেয়ারপার্সনরাই লোকসভার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন । ৯ মার্চ স্পিকারের বিরুদ্ধে প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও ভোটাভুটির সময়ও একজন প্যানেল চেয়ারপার্সনই পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করবেন ।
এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে । সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদীয় নিয়ম ও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা অপসারণ প্রস্তাবের আলোচনা ও ভোটাভুটির দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকারের উপরেই ন্যস্ত হওয়া উচিত ।
লোকসভার প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ পিডিটি আচার্য বলেন, স্পিকার নিজের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাবের আলোচনা ও ভোটাভুটির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন না । এই ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বৈধতা বজায় রেখে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য ডেপুটি স্পিকার পদটি গুরুত্বপূর্ণ । কিন্তু বর্তমানে সেই পদ শূন্য। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩ অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার পদ বহাল রাখা বাধ্যতামূলক হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে কীভাবে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে সে বিষয়ে সংসদীয় আইনে স্পষ্ট নির্দেশ নেই।
ডেপুটি স্পিকার পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকার বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের সমালোচনা করেছেন লোকসভায় কংগ্রেসের সচেতক মণিকম টেগোর। তাঁর অভিযোগ, সাত বছর ধরে লোকসভায় ডেপুটি স্পিকার পদ শূন্য থাকা স্বাভাবিক নয় এবং এটি অসাংবিধানিক পদক্ষেপ। তাঁর মতে, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার পদ বিরোধী দলের প্রাপ্য, যাতে সংসদ পরিচালনায় ভারসাম্য ও নিরপেক্ষতা বজায় থাকে।
স্পিকারের অপসারণ প্রস্তাব নিয়ে ৯ মার্চের আলোচনা ও ভোটাভুটিকে ঘিরে তাই রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। সংসদীয় প্রক্রিয়া, সাংবিধানিক বিধান এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রশ্নে এই বিতর্ক এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
❤ Support Us








