- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুলাই ২৪, ২০২৬
কেন্দ্রের তিন লিখিত আশ্বাসে ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার ওয়াংচুকের। আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা সিজেপির
কেন্দ্রীয় সরকারের তিনটি লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার করলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিয়োবার্তায় তিনি জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর সরকারের কাছ থেকে লিখিত প্রতিশ্রুতি মেলার পরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ওয়াংচুকের দাবি, কেন্দ্র তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে লিখিত আশ্বাস দিয়েছে। প্রথমত, যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনও প্রতিবাদকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে না। দ্বিতীয়ত, গত ২০ জুলাই সংসদ অভিযানে অংশগ্রহণকারী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধেও কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলে কেন্দ্র লিখিতভাবে জানিয়েছে।
তৃতীয়ত, দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ত্রুটি ও অনিয়ম নিয়ে সংসদে সরকার ও বিরোধী দলগুলির মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলেও লিখিত আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য ‘পর্যাপ্ত’ ক্ষতিপূরণের বিষয়টি কেন্দ্র ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলেও ওয়াংচুক জানান।
ভিডিয়োবার্তায় তিনি বলেন, “গত দু’দিন ধরে আমি খুব কঠোরভাবে দর কষাকষি করছিলাম। আমি সরকারের কাছে লিখিত আশ্বাস চেয়েছিলাম। সেই আশ্বাস পেতেই দু’দিন সময় লেগেছে। তাই আমাকেও আরও দু’দিন অনশন চালিয়ে যেতে হয়েছে। অবশেষে আজ তারা লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।”
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সমাজমাধ্যমে এক ভিডিয়োবার্তায় জানান, নিট-কাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের লক্ষ্যে একটি খসড়া বিল তৈরি করেছে সরকার। শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেই বিল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে এবং আগামী সোমবার সংসদে বিলটি পাশ করানোর চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি জানান। এই ঘোষণার পরই গুরুগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওয়াংচুক তাঁর অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। অনশন প্রত্যাহারের পর প্রধানমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে সোনম ওয়াংচুককে উদ্দেশ করে লেখেন, “সোনমজি, আমার অনুরোধ আপনি চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলুন এবং দ্রুত দৈনন্দিন জীবনে ফিরে আসুন।” দীর্ঘ অনশনের ফলে ওজন কমে যাওয়া ওয়াংচুক দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার করলেও আন্দোলন থেকে সরে আসছে না ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) । কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে তাদের অবস্থান-বিক্ষোভ শুক্রবারও অব্যাহত রয়েছে । এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন সিজেপি-র প্রতিনিধিরা ।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবনে নয়, নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনার দাবি জানিয়েছিল সিজেপি । সেই দাবি মেনেই বৈঠকের জন্য কনস্টিটিউশন ক্লাবকে বেছে নেওয়া হয়েছে । যদিও বৈঠকে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবুও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিজেপি ।
শুক্রবার সকালে সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, “আমাদের আন্দোলন চলবে । সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য কনস্টিটিউশন ক্লাবকে বেছে নেওয়া হয়েছে । আমরা আশা করছি, মুক্ত ও ইতিবাচক পরিবেশে আলোচনা হবে ।”
অন্য মুখপাত্র বৈষ্ণবী গৌর জানান, আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই সংগঠনটি তাদের দাবিতে অনড় রয়েছে । তাঁর কথায়, “আমরা সরকারের সামনে আমাদের তিনটি মূল দাবি স্পষ্টভাবে তুলে ধরব ।”
সিজেপি-র প্রধান তিনটি দাবি হল— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহার ।
এদিকে, শুক্রবার সকাল থেকেই যন্তর মন্তর এলাকায় আন্দোলনকারীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে । নিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষ শুক্রবার ১৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রেখেছে । এর মধ্যে রাজীব চক, দিল্লি গেট, সেবা তীর্থ এবং সুপ্রিম কোর্ট স্টেশন উল্লেখযোগ্য । এর আগের দিন, বৃহস্পতিবারও একই কারণে ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল ।
সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক জানিয়েছেন, সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে তারা সম্মান জানালেও আন্দোলন শেষ হচ্ছে না । তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে সিজেপি-র অবস্থান-বিক্ষোভ এবং আন্দোলন অব্যাহত থাকবে ।
❤ Support Us





