- দে । শ
- মার্চ ২৩, ২০২৩
মুখোমুখি বৈঠকে নবীন-মমতা ! আলোচনায় অন্য রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত ?
ফাইল চিত্র
নবীন পট্টানায়কের সঙ্গে আজ বৈঠকে বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে, আগামী বছর লোকসভা নির্বাচনের আগে দুই মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা ভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণের সম্ভাবনাকে উস্কে দিচ্ছে।
ওড়িশায় অতিথিশালা নির্মাণের জন্য জমি দেখতে গিয়েছিলেন মমতা। চিল্কা রোডে ত্রিপুরের বালিয়াপণ্ডা এলাকা পরিদর্শনের পর আজ মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের সঙ্গে তিনি আলোচনায় বসবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, গত মাসে হকি বিশ্বকাপের সময় ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু, তিনি তা রক্ষা করতে পারেননি। সেজন্য, আজ দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হবেন। ব্যক্তিগত আলাপচারিতার বাইরে আর কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা নেই, জানিয়েছেন তৃণমূল দলনেত্রী।
মমতা যাই বলুন, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিজেপি বিরোধী আঞ্চলিক দলের নেতাদের সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন, আগামী দিনেও করবেন। গত সপ্তাহেই কলকাতা এসেছিলেন সমাজবাদী দলের নেতা অখিলেশ সিং যাদব। আগামীকালও কলকাতায় আসবেন জনতা দল(সেক্যুলার) নেতা এইচ ডি কুমারস্বামী। এ মাসেই দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে তিনি আলোচনায় বসবেন। ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানদের সঙ্গে বার বার বৈঠকে মিলিত হওয়া কেবলমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ হতে পারে না।
সামনের বছরের লোকসভা নির্বাচন সম্পর্কে মমতা ওয়াকিবহাল। তিনি এও জানেন মাত্র ৪২ আসনের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে জয় বিজেপিকে পরাস্ত করতে যথেষ্ট নয়। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই ৪০০ আসনে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। নির্বাচনী বণ্ড সংক্রান্ত সাম্প্রতিক যে প্রতিবেদন প্রকাশ্যে এসেছে তাতে বিপুল টাকা নির্বাচনে খরচ করতে পারে গেরুয়া শিবির। তাই বিজেপিকে হারাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। মমতা এ ব্যাপারে কোনো গাফিলতি দেখাবেন না এটাই প্রত্যাশিত। গত বারের লোকসভা নির্বাচনেও আঞ্চলিক দলগুলোকে একত্রিত করে বিজেপি বিরোধী বৃহত্তর জোট গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আঞ্চলিক নেতাদের নিজস্ব দাবি দাওয়া ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা সে পরিকল্পনাকে সফল হতে দেয়নি। এবারে তাই আগাম প্রস্তুতি নিয়ে তৃতীয় ফ্রণ্ট তৈরিতে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন তাতে বিচিত্র কিছু নেই। তবে, কংগ্রেস ও বামপন্থী দল গুলোকে সঙ্গে নিয়ে কোয়ালিশন গড়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।সাগরদিঘি উপ-নির্বাচনে হারের পর দুই দলের জোটকেই অনৈতিক আখ্যা দিয়েছিলেন মমতা। কারণ তাঁর মতে তাঁরা বিজেপির সঙ্গে অঘোষিত আঁতাত গড়ে তুলেছে। তবে, বিকল্প কোয়ালিশনের মুখ কে হবেন মমতা না অখিলেশ না কেজরিওয়াল না অন্য কেউ ? তা বলা মুশকিল।
❤ Support Us







