- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৩১, ২০২৫
প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে ফসল বাঁচতে বাংলার চাষিদের পাশে কৃষি দফতর । বিপ্রতীপ মহারাষ্ট্রে, ফসলবিমার ক্ষতিপূরণ মাত্র ২১ টাকা ! বাড়ছে ক্ষোভ
ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’-র প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি শুরু হতেই রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকেরা পিঁয়াজের বীজতলা ঢেকে রাখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। প্লাস্টিক শিট দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখছেন তাঁরা, যাতে অতিবৃষ্টিতে চারা পচে না যায়। বর্ধমানের কৃষক প্রশান্ত দাস ও বিকাশ মাঝি জানান, এক বিঘে জমিতে পিঁয়াজ চাষে প্রায় ১৮-২০ হাজার টাকা খরচ হয়। এখন যদি বৃষ্টি বা জলাবদ্ধতায় চারা নষ্ট হয়, তবে পুনরায় চাষ শুরু করতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ দুটোই লাগবে। কালনার সুখসাগর পেঁয়াজ রাজ্যজোড়া খ্যাত; তাই এই বিপর্যয়ে ক্ষতির আশঙ্কা প্রচুর। শুধু পিঁয়াজ নয়, বর্তমানে ফুল ফোটা আমন ধানও ঝড়ে লুটিয়ে পড়েছে। জমিতে জল জমে ধানের গোড়া পচে যাওয়ার ভয় দেখা দিয়েছে। অকাল বৃষ্টিতে ধান, সবজি ও আসন্ন রবি মরশুমের ফসল, সবই ঝুঁকিতে।
অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে ল্যান্ডফলের পর ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’ অতিভারী নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। ক্রমে তা উত্তর-পূর্ব ভারতে ঢুকে পড়ছে। ফলে জেলায় জেলায় চলছে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের কৃষি দফতর একাধিক নির্দেশিকা জারি করেছে। দফতরের নির্দেশ, মাঠে যেখানে জল জমেছে, সেখানে দ্রুত নালা কেটে অতিরিক্ত জল বের করতে হবে। ধান, ডাল, সবজি, পাট— সব ফসলের ক্ষেতেই জল দাঁড়িয়ে থাকলে ছত্রাকজনিত রোগের আশঙ্কা থাকে। তাই অবিলম্বে ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুকুর বা ভেড়িতে মাছ চাষিরাও সতর্ক। অতিরিক্ত জল বের করে দিতে বলা হয়েছে, যাতে মাছ মরে না যায়। কৃষি দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, ‘যেখানেই জল জমছে, তা যেন তাড়াতাড়ি সরিয়ে ফেলা হয়। কোথাও সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় কৃষি অফিসে জানান। সরকার কৃষকদের পাশে আছে।’
ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতি সামলাতে চাষিদের পাশে দাঁড়াতে রাজ্য সরকারের ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্প এখন আশার আলো। এই প্রকল্পের আওতায় বছরে সর্বাধিক ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা পান কৃষকেরা, দু’কিস্তিতে—খরিফ মরশুমে জুলাই-আগস্টে ও রবি মরশুমে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে। টাকা সরাসরি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এছাড়াও, ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী কৃষকরা পান বিনামূল্যে জীবনবীমার সুবিধা, কৃষিকাজ চলাকালীন দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হলে পরিবার পাবে ২ লক্ষ টাকা। রাজ্য সরকারের কৃষি দফতরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ২,৯৩০ কোটি টাকা। রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা দেওয়া এবং চাষের প্রতি তাঁদের উৎসাহ ফিরিয়ে আনা। কারণ সার, বীজ, চাষের যন্ত্রপাতি, সবকিছুর দাম এখন আকাশছোঁয়া, অথচ উৎপাদিত ফসলের দাম মিলছে না। ফলে কৃষির প্রতি অনীহা বাড়ছে দিন দিন। সরকার চাইছে, সেই মনোবল ফেরাতে কিছুটা আর্থিক ভরসা দেওয়া। সরকারি স্তরে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে উৎপাদিত ফসল কেনবার জন্য পরিকাঠামো আরো বিস্তৃত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিজেপি-শাসিত মহারাষ্ট্রে কৃষকদের ক্ষোভ ফুঁসে উঠেছে। আকোলা জেলার একাধিক গ্রামে ফসল বিমার ক্ষতিপূরণ হিসেবে কারও ব্যাঙ্কে জমা হয়েছে ৩ টাকা, কারও ২১ টাকা ! সেপ্টেম্বর মাসের অতিবৃষ্টিতে মহারাষ্ট্রে মুগ ডাল, সয়াবিন, তুলা জমি কার্যত ভেসে যায়। প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনার আওতায় ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেছিলেন চাষিরা। দীপাবলির আগে ক্ষতিপূরণের আশ্বাসও দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সে টাকাই যখন ৩ টাকা থেকে ২১ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, তা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কৃষকেরা। অনেকেই ওই ‘ক্ষতিপূরণের’ চেক ফেরত দিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। কৃষক নেতা কপিল ধোকে জানিয়েছেন, ‘এটা ক্ষতিপূরণ নয়, অপমান। ফসল নষ্টের পর ৩ টাকা দিয়ে সরকার আমাদের সঙ্গে রসিকতা করেছে।’ জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং কৃষকেরা যেন যথাযথ ক্ষতিপূরণ পান, তার ব্যবস্থা করা হবে।
❤ Support Us






