- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ৯, ২০২৩
মমতাতেই আস্থা আপের, তাই ঝাঁটা ঘাসফুল দ্বৈরথ নয় পঞ্চায়েতে
বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর পুরো ভরসা করেই কি আম আদমি পার্টি দল চালাবে? না কি ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে জোটসঙ্গী হিসেবে মমতার হাত শক্ত করতে বাড়তি তৎপরতা শুরু করল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি? বাংলায় কেজরির দলের মাথা তুলে দাঁড়াবার ইচ্ছে আছে কি নেই সেটা পরের কথা, তবে আপাতত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের ভোট কাটতে রাজি নয় বাংলার আপ পার্টি। তাই বাংলার আম আদমি পার্টি সিদ্ধান্ত নিয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচনে তারা লড়বে না। বাংলায় আম আদমি পার্টির সেই অর্থে কোনও রাজনৈতিক ভিত্তি নেই।তাও তারা মমতার ভোট যাতে কেটে না যায় সেই কারণে পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়বে না বলে মনস্থির করেছে। বাংলার আপ পার্টির এই সিদ্ধান্ত কি তারা নিজেরাই নিয়েছে না কি তৃণমূলের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়েছে সেটা স্পষ্ট নয়। তবে বোঝা যাচ্ছে যে নবান্নে সদ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অরিন্দ কেজরিওয়ালের বৈঠকে শুধু ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন নিয়েই কথা হয়নি। নবান্নের সেদিনের আলোচনায় রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনের বিষয়টাও যে ছিল সেটা বাংলার আম আদমি পার্টি সূত্রে জানা যাচ্ছে।
এই মুহূর্তে বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে একদিকে যেমন বিরোধীরা একশো শতাংশ লড়ছে অন্যদিকে রাজ্যের সাধারণ মানুষও চাকরি বিক্রি, গরু, কয়লা, বালি পাচার ইত্যাদি ইস্যুতে শাসক দলের ওপর বিরক্ত। সাগরদীঘির বিধানসভা উপ নির্বাচনের ফল সেটা প্রমাণ করে দিয়েছে। সাগরদীঘির এই উল্টো হওয়া রুখতে তৃণমূল সাগরদীঘির বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাসকে নিজেদের দলে নিয়ে নিলেও ভোটারদের নিতে পেরেছে বলে নিশ্চিত ভাবে তৃণমূল দাবি করতে পারবে না। রাজ্যের মানুষ বলছে, পঞ্চায়েত নির্বাচন সুষ্ঠু ভাবে হতে পারলে তৃণমূলের বেগ পেতে হবেই । তাই এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল চাইছে না তাদের এক শতাংশ ভোট কেটে যাক। তাই বাংলার আম আদমি পার্টি তৃণমূলের বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়ছে না। এই সমন্বয় আম আদমি পার্টি ও তৃণমূলের মধ্যে যতটা তার চাইতে বেশি সমন্বয় হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অরবিন্দ কেজরিওয়ালের।
বাংলার আম আদমি পার্টি এই রাজ্যে খাতা খুলবে বলে এসেছিল। আপাতত ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে পরাস্ত করতে মমতা-কেজরি ঐক্যবদ্ধ। তাই বলা যায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের জন্য স্বার্থ ত্যাগ করল কেজরির আপ পার্টির বাংলা শাখা। ২০২৪-এর বিজেপি বিরোধী জোটের প্রতি কেজরির এই আনুগত্য বাংলায় মমতার একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী দেওয়ার সমীকরণকে হয়তো মজবুত করতে চাইছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাবে বাংলার কংগ্রেস, সিপিএম তথা বামেদের প্রতিনিয়ত আক্রমণ করে চলেছে তাতে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনে তৃণমূলকে কংগ্রেস-বাম ৪২টি আসনই ছেড়ে দেবে তার কোনও সম্বভবনা নেই। পঞ্চায়েত ভোট ঘোষণার পর বাংলার মানুষের কৌতূহল ছিল, বাংলার দুর্নীতি কি এবার ঝাঁটা দিয়ে ঝেঁটিয়ে পরিষ্কার করবে আম আদমি পার্টি ? কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল আম আদমি পার্টি পঞ্চায়েত ভোটে লড়বেই না। তারা মমতার হাত শক্ত করার জন্যই বাংলায় প্রস্তুত হচ্ছে তাদের সীমিত শক্তি দিয়ে।
❤ Support Us






