- দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
এসআইআর ইস্যুতে কড়া নির্বাচন কমিশন, চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে মুখ্যসচিবকে তলব
রাজ্যে এসআইআর (Special Intensive Revision) সংক্রান্ত কাজের জেরে চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না-নেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী-কে তলব করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কেন এখনও পদক্ষেপ করা হয়নি, তা জানতে চেয়েই এই তলব। সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। এর আগে গত অগস্টে তৎকালীন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ-কেও একই বিষয়ে তলব করেছিল কমিশন। তিনি কমিশনের দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন।
বেআইনি ভাবে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও ও এইআরও-দের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। অভিযুক্ত চার আধিকারিক হলেন—তথাগত মণ্ডল, দেবোত্তম দত্তচৌধুরী, বিপ্লব সরকার এবং সুদীপ্ত দাস। তাঁদের সাসপেন্ড করার নির্দেশও দেওয়া হয়। পাশাপাশি সুরজিৎ হালদার নামে ডেটা এন্ট্রির কাজে যুক্ত এক কর্মীর বিরুদ্ধেও এফআইআর করার নির্দেশ দেয় কমিশন। প্রথমে ৫ অগস্ট রাজ্য সরকারকে চিঠি পাঠায় কমিশন। পরে ৮ অগস্ট ফের চিঠি পাঠিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সে সময় মুখ্যসচিব ছিলেন মনোজ পন্থ।
নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছিল, ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (এইআরও) সুদীপ্ত দাস এবং বারুইপুর পূর্বের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎকে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে বাকি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না বলেই কমিশনকে জানানো হয়।
নির্দেশ কার্যকর না-হওয়ায় গত ২ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট দুই জেলাশাসককে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয় কমিশন। সেই নির্দেশও কার্যকর হয়নি। পরে সিইও দফতর থেকে জেলাশাসকদের দু’বার ‘রিমাইন্ডার’ পাঠানো হয়। এরপর নবান্ন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের পরামর্শ নেয় এবং সিইও দফতরে চিঠি পাঠায়। সেখানে বলা হয়, অভিযুক্ত চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার মতো গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হয়নি; তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগে এত বড় শাস্তি যুক্তিযুক্ত নয়।
এরপর গত ২১ জানুয়ারি মুখ্যসচিবের কাছে রিপোর্ট তলব করে নির্বাচন কমিশন। কোন দফতর কমিশনের নির্দেশ কার্যকর করেনি, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। সূত্রের খবর, তারই পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যসচিবকে তলব করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বারুইপুর পূর্বের ইআরও ও এইআরও হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন দেবোত্তম দত্তচৌধুরী ও তথাগত মণ্ডল। ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে একই দায়িত্বে ছিলেন বিপ্লব সরকার ও সুদীপ্ত দাস। চার জনই ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক। বর্তমানে দেবোত্তম দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর, তথাগত জয়নগর-১ ব্লকে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, বিপ্লব পূর্ব মেদিনীপুরের সংখ্যালঘু বিষয়ক জেলা অফিসার এবং সুদীপ্ত তমলুক ব্লকের পঞ্চায়েত অ্যাকাউন্টস ও অডিট অফিসার হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি ডেটা এন্ট্রির কাজে যুক্ত সুরজিৎ হালদারের বিরুদ্ধেও এফআইআর করার নির্দেশ বহাল রয়েছে।
সমগ্র ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
❤ Support Us





