Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুন ৮, ২০২৩

৮ জুলাই রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন।গণনা ১১ জুলাই। সাংবাদিক সম্মেলনে জানালেন নির্বাচন কমিশনার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
৮ জুলাই রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন।গণনা ১১ জুলাই। সাংবাদিক সম্মেলনে জানালেন নির্বাচন কমিশনার

আগামী ৮ জুলাই রাজ্যে এক দফায় পঞ্চায়েত নির্বাচন, ঘোষণা করলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা। তিনি বলেন, “দার্জিলিং, কালিংপংয়ে দ্বিস্তর ও রাজ্যের বাকি অংশে তৃস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে। ভোট হবে একদিনে। গণনা ১১ জুলাই। আজ থেকেই রাজ্যে আদর্শ আচরণ বিধি জারি হল। ৯ জুন থেকে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু, ১৫ জুন পর্যন্ত মনোনয়ন দেওয়া যাবে। স্ক্রুটিনি ১৭ জুন। ২০ জুন মনোনয় প্রত্যাহারের শেষ দিন।”

এদিকে নির্বাচন ঘোষণা করার পর সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “নির্বাচন কমিশনার জয়েন করেই ভোট ঘোষণা করলেন। ওনার কাজ কি নেটিফিকেশন জারি করা না শান্তিতে মানুষের ভোটদান সুনিশ্চিত করা?”

বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন৷ “আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। একদিন হলেও আমাদের কোনও আপত্তি নেই। তবে শান্তিতে নির্বাচন করার জন্য আমরা বলব কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করাতে। তবে মনেনয়নের জন্য এতো কম সময়, আমরা আদালতে যাব কালই।”

বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বাংলার মানুষ রাজীব সিনহাকে চেনেন। তিনি নির্বাচন পরিচালনায় অসমর্থ, তাই রাজ্য সরকার ওনাকে এই পদে বসিয়েছেন। কোনও বিরোধী  দলের সঙ্গে আলোচনা না করে ভোট ঘোষণা করা যায়?”

বিরোধীদের আরও প্রশ্ন, “গতকাল দায়িত্ব নিয়ে আজই ভোট ঘোষণা করলেন রাজীব সিনহা? এটা সম্ভব?” অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, “গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩৪% মানুষ ভোট দিতে পারেননি। বিরোধীদের প্রস্তুত হতে না দিয়ে এভাবে ভোট ঘোষণা করা যায়? আমরা মনোনয়নের দিন বাড়াতে বলব। বুঝতেই পারছি রক্তক্ষয়ী নির্বাচন হবে।”

রাজ্যে একদিনে পঞ্চায়েত নির্বাচন কি রাজ্য পুলিশ না কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে রাজীব সিনহা বলেন, “রাজ্য সরকারতো বুঝেই এই তারিখটা ঠিক করেছে। মুখ্যসচিব, ডিজিপি আছেন, কেন আগেই সমস্যার কথা ভাবছেন?”

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা জানান, “রাজ্য সরকার কি চোখ বুজে হঠাৎ করে ভোটের দিন ঘোষণা করে দিল বলে মনে করছেন? রাজ্য পুলিশের উপর আস্থা রেখেই রাজ্য নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঠিক করেছে। কবে, কোন সালে পঞ্চায়েত ভোটে গোলমাল হয়েছে তার ভিত্তিতে আগাম কেন ধরে নেওয়া হচ্ছে গোলমাল হবে?”

সবাই নিজের ভোট দিতে পারবেন? ২০১৮ সালের মতো অশান্তি হবে কি? অনলাইনে কি নমিনেশন ফাইল করা যাবে? এই সব প্রশ্নে রাজীব সিনহা বলেন, “আমাদের রাজ্য পুলিশেই ভরসা আছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রবিবার বাদে রোজ নমিনেশন ফাইল করা যাবে ১১টা থেকে বেলা ৩টে পর্যন্ত। তবে বর্ষায় যাতে সমস্যা না হয় তাই আবহাওয়া দফতরের সঙ্গে কথা বলে নিয়েই এই দিন ঠিক করা হয়েছে।”

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যের ৬৩ হাজার ২২৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ৯ হাজার ৭৩০টি পঞ্চায়েত সমিতি এবং ৯২৮টি জেলা পরিষদ আসনে ভোট হবে। মোট ৬১ হাজার ৩৪০টি বুথে ভোটগ্রহণ পর্ব হবে। সঙ্গে থাকছে দু’হাজার ‘অক্সিলিয়ারি বুথ’। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন মেনেই বুথের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি একহাজার ভোটার পিছু থাকছে একটি বুথ। এবার সব থেকে বেশি বুথ হচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। এখানে মোট বুথের সংখ্যা ৬ হাজার ২২৬। কারণ এই জেলাতেই সর্বাধিক (৫৭ লক্ষ ৭৪ হাজার ৮৮২ জন) ভোটার ও সবচেয়ে বেশি (৩১০টি) গ্রাম পঞ্চায়েত আছে।

এখন প্রশ্ন হল, রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে যে পরিমাণ হিংসার ঘটনা ঘটছে সেখানে এত বড়ো নির্বাচন এক দফায় হবে কি করে?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!