Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গ, মৎস্যশিল্পের বিকাশে বরাদ্দ ৯ কোটি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গ, মৎস্যশিল্পের বিকাশে বরাদ্দ ৯ কোটি

ডবল ইঞ্জিন সরকারের দাবির মধ্যেই রাজ্যের মৎস্যশিল্পে বড়ো ঘোষণা কেন্দ্রের। পশ্চিমবঙ্গে মৎস্যশিল্পের বিকাশে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’-র আওতায় আনা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গকে।

সোমবার নিউটাউনের প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকে রাজ্যের মৎস্যশিল্প, উপকূলবর্তী এলাকা, মৎস্যজীবীদের সমস্যা এবং মাছচাষের পরিকাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী জানান, পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যশিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সে সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতেই কেন্দ্রের কাছে একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বৈঠকে সেই প্রস্তাবগুলিতে সাড়া দিয়ে রাজ্যের মৎস্যশিল্পের বিকাশের জন্য ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্যের মৎস্যশিল্পে প্রচুর সম্ভাবনা। আমরা সেটা নিয়ে বারবার আলোচনা করেছি। কিন্তু আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিংকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাব। তিনি আমাদের সব কথা শুনে পশ্চিমবাংলার মৎস্যশিল্পের বিকাশের জন্য ৯ কোটি টাকা আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। এর পাশাপাশি এদিন থেকেই পশ্চিমবঙ্গকে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’-র আওতায় আনার ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এ প্রকল্পের মাধ্যমে মৎস্যজীবীরা বিভিন্ন সরকারি সুবিধার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণের সুযোগও পাবেন।

এ প্রসঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধিতার অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, আগে থেকেই এ প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকলেও রাজনৈতিক কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর দাবি, ‘আগেই কাজটা করা যেত। কিন্তু বিগত সরকার শুধুমাত্র বিরোধিতার জন্য সেটা করেনি। আমাদের সরকারের চার মাসে যতটা পেরেছি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা দিয়েছি রাজ্যবাসীকে। বৈঠকে সুন্দরবন-সহ রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকার মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রা ও মৎস্যশিল্পের উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দক্ষিণবঙ্গে সমুদ্র ও নদী থাকায় মৎস্যচাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো অপেক্ষাকৃত শুষ্ক জেলায় মাছচাষের ক্ষেত্রে পরিকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে।

এই সমস্যা মোকাবিলায় রাজ্যের প্রস্তাব মেনে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় মোটটি অমৃত সরোবরঅনুমোদন করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এর মাধ্যমে ওই জেলাগুলিতে মাছচাষের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি জলসম্পদকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে রাজ্য সরকারের আশা। এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিং ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং মৎস্য দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী রাজেশ মাহাতো। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও এদিন রাজ্যের নতুন সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের সমন্বয়ের প্রশংসা করেন এবং পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে সহযোগিতা না করার অভিযোগ তোলেন। রাজীবরঞ্জন সিংয়ের বক্তব্য, ‘বিগত বছরগুলিতে আমরা এখানে সুবিধা দিতে চেয়েও পারিনি। কারণ, রাজ্য সরকারের আধিকারিকরা সাহায্য করেননি। যে কাজ পাঁচ বছর ধরে আটকে ছিল, চার মাসেই তা হয়ে গেল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!