- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ১৪, ২০২৬
স্কুল পরিচালনার পদে আর নয় জনপ্রতিনিধি, ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্বে অভিভাবকেরাই! আইন বদলের পথে রাজ্য
রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে তুলতে স্কুল পরিচালন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিকাশ ভবন থেকে তিনি জানান, আগামী দিনে সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আর কোনো জনপ্রতিনিধি বা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিকে রাখা হবে না। পরিবর্তে, স্কুলে অধ্যয়নরত পড়ুয়াদের অভিভাবকদের মধ্য থেকেই এ দায়িত্ব দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিবর্তন কার্যকর করতে বর্তমান শিক্ষা আইনে সংশোধন আনা হবে। ইতিমধ্যেই শিক্ষামন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে বিধানসভার আগামী অধিবেশনে এ সংক্রান্ত বিল আনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘শিক্ষার যে আইন আছে, তা পরিবর্তনের জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে বলেছি। প্রধান সচিবকে নিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিধানসভার আগামী অধিবেশনে বিল আনার কথা বলা হয়েছে, যাতে অভিভাবকদের মধ্য থেকেই বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য চেয়ারম্যান অথবা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা যায়।’ মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, ‘ভারতের অধিকাংশ রাজ্যেই এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ২১টি বিজেপি–এনডিএ শাসিত রাজ্যে এই পদ্ধতিতেই স্কুল পরিচালিত হয়। কিন্তু বিগত সরকার পশ্চিমবঙ্গে এই ব্যবস্থা কার্যকর করেনি।’
দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিকে ঘিরে নানা বিতর্ক ও অভিযোগ সামনে এসেছে। বাম আমল থেকে শুরু করে তৃণমূল সরকারের সময় পর্যন্ত বহু ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে যে, ম্যানেজিং কমিটির শীর্ষপদে স্থানীয় বিধায়ক বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বসতেন। স্কুলের তহবিলের অপব্যবহার, প্রশাসনিক অনিয়ম, এমনকি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্কুলকে ব্যবহার করার অভিযোগও একাধিকবার উঠেছে। পূর্বের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাজনীতি ও দখলদারির বাইরে এনে অভিভাবকদের হাতে পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার ‘শিক্ষা অধিকার আইন, ২০০৯’-এর ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটি’ গঠন বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, কমিটির অন্তত ৭৫ শতাংশ সদস্য হতে হবে স্কুলে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক। পাশাপাশি, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির অভিভাবকদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। নারী প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে কমিটিতে অন্তত ৫০ শতাংশ মহিলা সদস্য রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির প্রধান দায়িত্বগুলির মধ্যে রয়েছে স্কুলের দৈনন্দিন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, মিড-ডে মিলের গুণমান নিয়মিত পর্যালোচনা, বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য স্কুল উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি এবং সরকারি আর্থিক অনুদানের স্বচ্ছ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। রাজ্য সরকারের নয়া উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্কুল পরিচালনায় অভিভাবকদের সরাসরি অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পাবে, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গণঅংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
❤ Support Us








