Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

নন্দীগ্রাম-রেজিনগরের উপনির্বাচনে অনিশ্চিত ১৮ হাজারের বেশি ভোটারের মৌলিক অধিকার ! মামলার আগাম শুনানিতে নারাজ শীর্ষ আদালত

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নন্দীগ্রাম-রেজিনগরের উপনির্বাচনে অনিশ্চিত ১৮ হাজারের বেশি ভোটারের মৌলিক অধিকার ! মামলার আগাম শুনানিতে নারাজ শীর্ষ আদালত

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’-সংক্রান্ত মামলার শুনানি এগিয়ে আনতে রাজি হলো না সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানিয়ে দিয়েছেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৫ অক্টোবরই মামলাটির শুনানি হবে। অথচ তার পরের দিন, ৬ অক্টোবর, রাজ্যের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে ওই দুই কেন্দ্রে এসআইআর-এর আওতায় বাদ পড়া ১৮ হাজারেরও বেশি ভোটারের ভোটাধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের যে ১৮ হাজারের বেশি ভোটারের আবেদন এখনো ট্রাইবুনালে বিচারাধীন, তাঁরা ইতিমধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের আগে তাঁদের আবেদনের নিষ্পত্তি না হলে ফের তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেই মামলাকারীর আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে মামলাটির আগাম শুনানির আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, আদালতের তালিকায় এর আগে মামলাটির শুনানির তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর দেখানো হয়েছিল। পরে তা পরিবর্তন করে ৫ অক্টোবর করা হয়েছে। ফলে উপনির্বাচনের আগে মামলাটির শুনানি হওয়া জরুরি।

এর পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘এগুলো স্রেফ উপনির্বাচন। আর কিছু নয়’ আইনজীবী পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, উপনির্বাচন হলেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই ভোটারদের।’ একটি অংশ পর পর দু-বার ভোট দিতে পারবেন না। তাঁর দাবি, আদালতের আগের নির্দেশিকা অনুযায়ী মামলাটির শুনানি আরও আগে হওয়া প্রয়োজন ছিল। তিনি আরও জানান, মামলাটি পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ঝুলে থাকা আবেদনগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে আইনজীবীর বক্তব্যের পরেও প্রধান বিচারপতি শুনানির দিন এগিয়ে আনতে রাজি হননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মামলাটি ৫ অক্টোবরই শোনা হবে।

‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয়েছিল। ভোটার তালিকায় তথ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে — এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির নিষ্পত্তির দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ট্রাইবুনালের হাতে দেওয়া হয়। বাদ পড়া বহু ভোটার নিজেদের বৈধ ভোটার দাবি করে সেই ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। ইতিমধ্যে কিছু আবেদনের নিষ্পত্তি হলেও অধিকাংশ মামলাই এখনও বিচারাধীন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বাদ রেখেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়েই সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্ন উঠেছে—বিচারাধীন থাকার কারণে বৈধ ভোটাররা কতদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত থাকবেন?

এ সংক্রান্ত একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী আগেই মন্তব্য করেছিলেন, কোনও একটি নির্বাচনে ভোট দিতে না পারার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোটাধিকার চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেল। ভোটাধিকার অটুট থাকবে। তবে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ভোটার সেই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। এদিকে ট্রাইবুনালের কাজের গতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, ‘এসআইআর’-সংক্রান্ত যে বিপুল সংখ্যক আবেদন এখনো বিচারাধীন রয়েছে, সেগুলির নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। এমনকি সব আবেদন নিষ্পত্তি হতে কয়েক বছরও লেগে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে ট্রাইবুনালের ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলির পরিসংখ্যান। এখনও পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলির প্রায় ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রেই আবেদনকারীদের বৈধ ভোটার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ, বিচারাধীন আবেদনগুলির একটি বড়ো অংশের আবেদনকারী শেষ পর্যন্ত বৈধ ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারেন—এমনই ইঙ্গিত মিলেছে নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলির পরিসংখ্যানে। এ প্রেক্ষাপটে ট্রাইবুনালের ধীরগতির কারণে বৈধ ভোটাররা বার বার ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন—এমন অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগে এই মামলার শুনানি হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে—এই যুক্তিতেই আগাম শুনানির আবেদন জানানো হয়। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। ফলে ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের আগে ১৮ হাজারেরও বেশি বিচারাধীন ভোটারের আবেদনের নিষ্পত্তি হবে কি না, তা অনিশ্চিতই রয়ে গেল। মামলাটির পরবর্তী শুনানি এখন নির্ধারিত রয়েছে ৫ অক্টোবর।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!