Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

‘এসআইআর’ চুড়ান্ত নথি যাচাই শুরু, তৎপর ২৫০ জন বিচারক। কমিশনের সাথে দফায় দফায় বৈঠক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘এসআইআর’ চুড়ান্ত নথি যাচাই শুরু, তৎপর ২৫০ জন বিচারক। কমিশনের সাথে দফায় দফায় বৈঠক

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কাজ শেষ হবার মুখে। সোমবার থেকে বাংলাজুড়ে জুড়ে শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের যাচাই প্রক্তিয়া। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তবে চুড়ান্ত তালিকা, তার আগে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বে জেলা ও অন্যান্য আদালতের ২৫০ জন বিচারক; ১০০ জন এনডিপিএস ও পকশো মামলার বিশেষ বিচারক এবং ১৫০ জন অন্যান্য কোর্টের বিচারক বিশেষ দায়িত্ব পালনে নামলেন।

গতকাল রবিবার সারাদিন ছিল প্রস্তুতির দৌড়ঝাপ। সকালে হাই কোর্টে বৈঠক, বিকেলে ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণ। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি বিচারকের জন্য আলাদা লগইন আইডি তৈরি করা হয়েছে। লগইনের জন্য ভোটারদের নাম, ফোন নম্বর দেওয়া লাগবে, এরপর ওটিপি দিয়ে লগইন করতে হবে। লগ ইন করার পর স্ক্রিনে উন্মুক্ত হবে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের সমস্ত এনুমারেশন ফর্ম এবং বিএলও, ইআরও, এইআরও, মাইক্রো অবজার্ভারের পর্যবেক্ষণ। বিচারকরা টিক মার্ক দিয়ে ভোটারকে ছাড়পত্র দেবেন বা মন্তব্য লিখবেন। কমিশন সূত্রে খবর, এই চূড়ান্ত পর্বের জন্য এখনও প্রায় ৪৫ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাই বাকি। খসড়া তালিকায় ইতিমধ্যে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ গেছে। রবিবার পর্যন্ত নাম বাদের সম্ভাব্য সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৬৭ লক্ষের কাছাকাছি। কমিশন আশা করছে, যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে নাম বাদ দেওয়ার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

প্রতিটি জেলার বিচারকদের কাছে দায়িত্ব রয়েছে— কাদের নাম রাখা হবে, কাদের নাম বাদ দেওয়া হবে; এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নথি যাচাই করে নেওয়া। বিচারকদের স্ক্রিনে থাকবে ভোটারের সমস্ত তথ্য এবং পর্যবেক্ষণ। তারা প্রতিটি নথি দেখবেন, প্রয়োজনে মন্তব্য দেবেন এবং টিক মার্ক দিয়ে অনুমোদন বা অযোগ্যতার চিহ্ন দেখাবেন। প্রতিটি জেলায় গঠিত কমিটিতে থাকবে জেলা বিচারক, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নির্দেশে এই কমিটি নিশ্চিত করবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না। এদিকে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার বিকেল ৫টায় কলকাতা হাই কোর্টে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। উপস্থিত থাকবেন হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি, রাজ্যের মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল পীযূষ পাণ্ডে এবং নির্বাচন কমিশনের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা। বৈঠকের মূল লক্ষ্য— রাজ্যের স্পর্শকাতর বুথগুলির নিরাপত্তা ও ভোটগ্রহণের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা। ভোটের পরিবেশকে স্বচ্ছ রাখতে এবার ভোটারের সুবিধা ও বুথ পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ন্যাশনাল বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন-কে। তারা বুথে পর্যাপ্ত পানীয় জল, বিদ্যুৎ সংযোগ, শৌচাগার এবং অন্যান্য ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে এবং সরেজমিনে রিপোর্ট হাই কোর্টে জমা দেবে।

ইতিমধ্যে ‘এসআইআর’-এর খসড়া তালিকায় ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ গেছে। এসআইআর-এর শুনানি ও যাচাই শেষে রবিবার পর্যন্ত নাম বাদের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় সাড়ে ৬৭ লক্ষের কাছাকাছি। কমিশনের আশঙ্কা, যাচাই শেষ হলে আরও কিছু নাম বাদ যেতে পারে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী উল্লেখ করেছেন, সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম আসার জন্য ভোটারকে তিনটি নথি— ডমিসাইল সার্টিফিকেট, বয়স প্রমাণ, এবং পরিচয় প্রদর্শন করতে হবে। রাজ্যের নির্বাচনী রাজনৈতিক মহলে বিপুল এ সংখ্যাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। বিহারের পর ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন শুরু হয়। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু এবং উত্তরপ্রদেশে এখনো চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়নি।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসঙ্গতির নথি যাচাই এবং তা নিষ্পত্তি করতে হবে। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য জেলায় কমিটি গঠন করেছেন। প্রতিটি জেলায় জেলা বিচারক, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার থাকবেন। এই পুরো প্রক্রিয়ার লক্ষ্য—চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে সব ধরনের অসঙ্গতি দূর করা। ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন আরও একটি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!