- দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
ভোটের মুখে রাজ্যের স্কুলে মিড-ডে মিলে বাড়তি ৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধি
ভোটের আগে রাজ্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে মিড-ডে মিলের বরাদ্দ বৃদ্ধির খবর ঘিরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই অল্প বরাদ্দে স্কুলগুলিকে মিড-ডে মিল চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। এতটাই সীমিত ছিল মাথাপিছু বরাদ্দ—মাত্র ৬ টাকা ৭৮ পয়সা—যে সপ্তাহে একদিন গোটা ডিম দেওয়াও অনেক সময় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াত। সবজি, ডাল, চাল, জ্বালানি ও মশলার খরচ সামলে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া কার্যত কঠিন হয়ে পড়েছিল। ডিমের দাম বাড়লে অনেক ক্ষেত্রে গোটা ডিমের বদলে আধখানা ডিম দিতে বাধ্য হতেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
এই পরিস্থিতিতে বহুদিন ধরেই মিড-ডে মিলের বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। অবশেষে ভোটের মুখে রাজ্য সরকার মিড-ডে মিল খাতে ৭৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দের ঘোষণা করেছে। এই বাড়তি অর্থে শিক্ষার্থীদের জন্য মাসে অতিরিক্ত ১২ দিন ডিম অথবা মরশুমি ফল দেওয়ার নির্দেশ জারি হয়েছে। ফলে সপ্তাহের প্রায় অধিকাংশ দিনই পড়ুয়াদের পাতে প্রোটিন বা ফলের সংযোজন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী আগে থেকেই সপ্তাহে একদিন ডিম বরাদ্দ ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার পাশাপাশি আরও অতিরিক্ত ডিম বা মরশুমি ফল দেওয়া হবে। আপাতত ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই বাড়তি বরাদ্দ কার্যকর থাকবে।
বিশেষত পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ইতিমধ্যেই এই নির্দেশিকা পৌঁছে গিয়েছে। জেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সপ্তাহে একদিন অতিরিক্ত ডিম বা মরশুমি ফল দেওয়া অপরিহার্য করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহ থেকেই এই নির্দেশ কার্যকর করা হবে।
এ প্রসঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ-এর সভাপতি হাবিবুর রহমান জানান, স্কুলে শিশুদের জন্মদিন উপলক্ষে তিথিভোজনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাজ্যের নির্ধারিত খাদ্যতালিকা মেনে নিয়মিত খাবার পরিবেশন করা হয়। তিনি বলেন, “৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ১২ দিন শিশুদের অতিরিক্ত বিশেষ খাবার দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। ওই ১২ দিনে প্রত্যেক পড়ুয়াকে একটি করে অতিরিক্ত ডিম বা মরশুমি ফল দেওয়া হবে। এর জন্য প্রতিটি পড়ুয়া পিছু অতিরিক্ত ৯৬ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে।”
বরাদ্দ বৃদ্ধির খবরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক মহলে উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে। ক্ষুদে পড়ুয়াদের কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য—“যদি ভোটের জন্য বরাদ্দ বাড়ে, তাহলে প্রতি বছর ভোট হোক!”—এখন সোশ্যাল মিডিয়ায়ও চর্চিত। অভিভাবক ও শিক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের পুষ্টি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এবং দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।
সব মিলিয়ে, মিড-ডে মিলের গুণগত মান উন্নয়ন ও পড়ুয়াদের পুষ্টি নিশ্চিত করতেই এই বাড়তি বরাদ্দ—এমনটাই দাবি প্রশাসনের।
❤ Support Us





