- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ২১, ২০২৫
ওলা-উবেরের মতোই ফোনে হারভেস্টার বুকিং! কৃষকদের জন্য নয়া পরিষেবা আনছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার
কৃষি প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের জন্য তৎপর পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার তারা আনতে চলেছে ওলা উবেরের মতো অ্যাপ ভিত্তিক ফসল কাটার হার্ভেস্টার বুকিং সেবা। শহরমুখী প্রজন্মের মধ্যে চাষে আগ্রহ কমে যাওয়ায় এবং কৃষিকাজের শ্রমসাধ্য প্রকৃতির কারণে রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে ক্রমেই কৃষকের অভাব বেড়ে চলেছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তি নির্ভর পদক্ষেপ নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য বলে জানাচ্ছে নবান্ন।
রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার জানিয়েছেন, ‘জমি থাকবে কৃষকের, কিন্তু হার্ভেস্টার চালাবে দক্ষ যন্ত্রচালক। কৃষক ফোন বা অ্যাপের মাধ্যমে নিকটস্থ হার্ভেস্টার বুক করলে, যন্ত্রটি সরাসরি তাঁর জমিতে পৌঁছে কাজ শুরু করবে। ঠিক উবের বা উলার মতো ব্যবস্থা হবে।’ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কৃষক অ্যাপের মাধ্যমে জমির মৌজা, দাগ নম্বর ও পরিমাণ জানালে সিস্টেম নিকটস্থ যন্ত্রের অবস্থান দেখাবে। যন্ত্রচালকও একইসাথে নোটিফিকেশন পাবেন। এতে দূরত্বের অপচয়, জ্বালানি খরচ ও সময়ের ক্ষতি কমবে। পাশাপাশি গ্রামীণ যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এই পরিষেবায় যুক্ত করা হবে, যা গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে। প্রদীপ মজুমদার আরো জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগেও হার্ভেস্টার সংগ্রহ করা কঠিন ছিল। ২০১৯ সালের মাটি উৎসবে মাত্র একটি হার্ভেস্টার প্রদর্শনের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিতে হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে রাজ্যে ৪৫০০-এর বেশি হার্ভেস্টার রয়েছে। তিনি আশা করছেন, অ্যাপ ভিত্তিক সেবা চালু হলে যান্ত্রিকীকরণের অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে।
এর আগে, রাজ্য সরকার চালু করেছে ‘মাটির কথা’। একটি আইসিটি নির্ভর ওয়েব-পোর্টাল ও অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ। এখানে কৃষকরা পেতে পারেন বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, বীজ উৎপাদন এবং বাজারমূল্য সম্পর্কিত তথ্য। রাজ্য কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের দিয়ে কৃষকদের আবহাওয়া প্রতিবেদন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৯৪টি সরকারি কৃষি খামারের মধ্যে প্রায় ১৪৫টিতে ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তি কার্যকর। এবছর হারিয়ে যেতে বসা ধানজাতীয় ফসল যেমন, তুলাইপঞ্জি, গোবিন্দভোগ, কালো মু্নিয়া চাষে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। রাজ্য সরকারের মতে, নতুন প্রজন্মের আগ্রহ হারালেও প্রযুক্তি-নির্ভর যন্ত্রায়নই কৃষির ভবিষ্যৎ। পোল্ট্রি ও ভুট্টা উৎপাদনের সাফল্য, যান্ত্রিকীকরণের বিস্তার, এসব প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তি ছাড়া কৃষির উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে কৃষিকে প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। কনভার্জেন্সের মাধ্যমে আর্থসামাজিক উন্নয়ন সম্ভব।’ অ্যাপ চালু হলে, কৃষক সহজে যন্ত্র ভাড়া নিতে পারবে, সময় ও খরচ বাঁচবে, এবং গ্রামীণ যুবকরা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।
❤ Support Us






