Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • নভেম্বর ২১, ২০২৫

বাংলাদেশে গ্রেফতার বাউল শিল্পী আবুল সরকার। তীব্র সমালোচনায় সরব পশ্চিমবঙ্গের বাউল ফকির সংঘ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাংলাদেশে গ্রেফতার বাউল শিল্পী আবুল সরকার। তীব্র সমালোচনায় সরব পশ্চিমবঙ্গের বাউল ফকির সংঘ

নয়া বাংলাদেশে বাড়ছে ধর্মীয় আগ্রাসন, বাড়ছে মৌলবাদী গোষ্ঠীদের আস্ফালন। গত বছরের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের পতন ও মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে, কেবল রাজনৈতিক নয়, পদ্মাপাড়ের সামাজিক, সাংস্কৃতিক পরিবেশের বদল ঘটেছে ঘূর্ণি ঝড়ের গতিতে। মুক্তি পেয়েছে জামাত-সহ একাধিক গোষ্ঠীর জেলবন্দি। মূলধারার রাজনীতিতে জামাতের প্রভাব দুর্বার গতিতে ঢেকে ফেলেছে বাংলাদেশের আকাশ। ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম সহ দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ক্ষমতা দখল করেছে জামাতপন্থী ছাত্র শিবির। আর এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৌলবাদী শক্তিগুলোর আক্রমণ। কমছে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা। সম্প্রতি ভেঙে ফেলা হয়েছে শেখ মুজিবের বাসস্থান-সহ একাধিক মুক্তিযুদ্ধের স্মারকচিহ্ন। পাঠ্যবই থেকে বাদ পড়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস। লালন ফকিরের মাজারে তাণ্ডব চালানোর চেষ্টা হয়েছে। মুক্তিকামী লেখক, শিল্পী, কবি, গায়ক, অভিনেতারা কার্যত বৌদ্ধিক সীমাবদ্ধতায় বন্দি হয়ে পড়ছেন। সৃজনশীল কর্মকাণ্ড প্রতিপদে বাধাপ্রাপ্ত। বর্তমান শাসকদের বিরুদ্ধে, ধর্মীয়-সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কথা বললেই আক্রান্ত হচ্ছেন তাঁরা।

ধারাবাহিক এই আগ্রাসনের নয়া সংযোজন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার প্রখ্যাত বাউল শিল্পী আবুল সরকার (ছোটো)-এর গ্রেফতারি। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশরা। স্থানীয় ও বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরাখালা পাগলীর মেলায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে আবুল সরকার ইসলাম ধর্ম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ‘ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ঘিওর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে মামলার ভিত্তিতে আজ ভোরে মাদারীপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে তদন্তাধীন।’ মামলা দায়েরকারী ঘিওর বন্দর মসজিদের ইমাম মুফতি মো. আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, ৪ নভেম্বর জাবরাখালা মেলায় পালাগানের সময় আবুল সরকার ধর্ম ও ঈশ্বর নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। এ কারণে ধর্মের অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে বাউল আবুল সরকারকে মাদারীপুর থেকে আটক করে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে বিচারক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাউল গায়কের গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। আবুল সরকার সাটুরিয়ার তিল্লী ইউনিয়নের পারতিল্লী এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি ছোট আবুল সরকার নামেই পরিচিত। তাঁর সহকারী শিল্পী রাজু সরকার অভিযোগ করেন, ‘অংশিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওর মাধ্যমে বিষয়টি ঘোলাটে করা হয়েছে। পুরো পালাগানে তিনি ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেননি, বরং কিছু মৌলবাদী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছিলেন।’ অন্যদিকে, বাউলের সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে মানিকগঞ্জে ‘আলেম-ওলামা ও তাওহীদি জনতা’ ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বিভিন্ন নেতা উপস্থিত ছিলেন। আঁচ লেগেচে সীমান্ত ছাপিয়েও। ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে পশ্চিমবঙ্গের বাউল ফকির সংঘ। বিবৃতি দিয়ে তারা বলেছে, ‘বাংলাদেশে প্রশ্নোত্তরী বাউলগান অতীব জনপ্রিয়। এতে যুক্তি, তথ্য, তর্কের মাধ্যমে একটি বিষয় উপস্থাপিত হয়। আবুল সরকার (ছোটো) এ পালাগানের একজন দক্ষ শিল্পী। পালাগানের মধ্যে তিনি শরিয়তের সমালোচনা করেছেন, এ অপরাধে তাঁকে বাংলাদেশের প্রশাসন গ্রেফতার করেছে। ধর্মান্ধেরা দাবী করছে তাঁর ফাঁসি। বাউল ফকিরদের উপর ধর্মান্ধ মৌলাবাদের আক্রমন নতুন নয়। কিন্তু লালনের দেশে বাউল গায়ককে প্রশাসনিক কণ্ঠরোধ এক ভয়ঙ্কর ঘটনা। আমরা বাউল ফকিরেরা এর তীব্র নিন্দা করি এবং লবিলম্বে আবুল সরকারের মুক্তি চাই।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!