Advertisement
  • দে । শ
  • অক্টোবর ৩, ২০২৬

জঙ্গি যোগে বারবার কেন বর্ধমান ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জঙ্গি যোগে বারবার কেন বর্ধমান ?

অহিংসার প্রতীক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর জন্মদিন দোসরা অক্টোবরই বর্ধমান শহরের উপকন্ঠ খাগড়াগড়ের জঙ্গি ডেরায় বিস্ফোরণ ঘটে। ২০১৪ সালের সেই ঘটনার পর থেকে বারেবারেই জঙ্গিযোগের ভরকেন্দ্র হয়ে উঠছে পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন এলাকা। মঙ্গলবার রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মঙ্গলকোটের পালিশগ্রামের বড় মসজিদের ইমাম মন্তেশ্বরের কুলুট গ্রামের বাসিন্দা পিয়ার মহম্মদ শেখ এনআইএ-র জালে ধরা পড়ার পর সেই তথ্যটাই জোরদার হল। এতদিন বর্ধমান শহর থেকে শুরু করে মঙ্গলকোট, পূর্বস্থলী, ভাতারের নাম উঠে আসত বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনের যোগসূত্রে। মাস দুয়েক আগে বর্ধমান শহরের রেনেশাঁ টাউনশিপ থেকে মহম্মদ হামিম মণ্ডল গ্রেপ্তার হওয়ার পর পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন যোগের সূত্র মেলে। খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের পর জানা যায় বর্ধমান জেলা জঙ্গিদের কাছে ‘সেফ জোন’। খাগড়াগড়ে আইইডি তৈরির প্রমাণ পাওয়ার পর এনআইএ থেকে শুরু করে এসটিএফ-সহ বিভিন্ন সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা তল্লাশি শুরু করে। রাজ্য ও ভিন্ রাজ্যে দেশদ্রোহী কাজকারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বর্ধমান, মঙ্গলকোট, কালনা ও পূর্বস্থলীর কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়। এছাড়া পূর্বস্থলী, কাটোয়া ২নং ব্লক, মন্তেশ্বর, রায়না, মেমারির কয়েকটি জায়গাকেও সন্দেহের তালিকায় রেখেছেন গোয়েন্দারা।

খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে যুক্ত ৩১ জনের সাজা হয়েছে। এরপরই খাগড়াগড় কাণ্ডের চক্রী বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জেএমবি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তবে ওই সংগঠনের বহু সদস্য তলায় তলায় সক্রিয় থাকে। ‘আনসার আল ইসলাম’, ‘আনসারুল্লা বাংলা’র মতো জেহাদি সংগঠনের ছাতার তলায় কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। যদিও এই সংগঠনগুলি পরে ‘ইসলামিক স্টেটে’র (আইএস) সঙ্গে মিশে যায়। জেএমবির আরেক সহযোগী সংগঠন আইএমকে-র (ইমাম মাহমুদে কাফিলা) অস্তিত্বও মিলেছে বর্ধমানে।  খাগড়াগড় কাণ্ডের পর কাঁকসা থেকে এনআইএ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। এছাড়া ২০১৬ সালের ৫ জুন বর্ধমান স্টেশন থেকে জঙ্গিযোগে গ্রেপ্তার হয় মোসিউদ্দিন ওরফে মুসা। এরপর ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হয় মঙ্গলকোটের আবুল কাশেম। তার এক সপ্তাহ না কাটতেই ৯ সেপ্টেম্বর ভাতাড়ের নিত্যানন্দপুর থেকে গোয়েন্দারা পাকড়াও করে আসাদুল্লা শেখকে। ২০২৪-র ২৩ জুন জঙ্গি যোগসূত্রের অভিযোগে গোয়েন্দাদের জালে ধরা পড়ে মানকর কলেজের কম্পিউটার সায়েন্সের পড়ুয়া মুহম্মদ হাবিবুল্লাহ্। তার ৬ দিন বাদে ৩০ জুন মঙ্গলকোটের কুলশুনোর আনোয়ার শেখ গ্রেপ্তার হয়।

কেন পূর্ব বর্ধমান জঙ্গি কার্যকলাপের পক্ষে নিরাপদ বা সেফ প্যাসেজ? গোয়েন্দাদের পর্যবেক্ষণ, এর পিছনে প্রধানত তিনটে কারণ রয়েছে। এক, জেলার ভৌগোলিক অবস্থান। বর্ধমান শহরকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকোট মেমারি মন্তেশ্বর-সহ জেলার যেকোনোও জায়গা থেকে স্রেফ বাইকেই সহজেই ভিন্ জেলা মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বীরভূম, ভিন্ রাজ্য বিহার, ঝাড়খণ্ড, এমনকী বাংলাদেশ চলে যাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, রেলপথ, সড়কপথ ও নদীপথ তিনটি মাধ্যমেই যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই মসৃণ। আর তৃতীয় কারণ হল, শহর বর্ধমান বা জেলার প্রান্তিক এলাকাগুলির অবস্থান এমনটাই যে, পুলিশ বা গোয়েন্দাদের পক্ষে বিজ্ঞানভিত্তিক খানাতল্লাশি চালানো কষ্টসাধ্য। তাছাড়া জেলার সব জায়গায় সুলভ ইন্টারনেট বা কোনও শ্যাডো জোন না থাকা জঙ্গিদের কাজকর্মের অনুকূল পরিবেশ। তবে আইএস বা জেএমবির মত বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে বর্ধমান যোগের নজির মিললেও রেনেশাঁ উপনগরী থেকে গ্রেপ্তার হওয়া হামিমের সূত্রে এই প্রথম পাক জঙ্গি যোগের সূত্র উঠে আসে। এতদিন জঙ্গি যোগের নানা প্রমাণ ও গ্রেপ্তার হলেও নাশকতামূলক কিছু ঘটেনি। এখন পাক জঙ্গি যোগের সূত্র মেলার পর নাশকতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিতে পারছেন না গোয়েন্দারা। তাই বছরভর নজরদারি বহাল রয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!