- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ১০, ২০২৫
শাহজাহানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ‘দুর্ঘটনার’ কবলে সাক্ষীর গাড়ি, মৃত্যু ২। পরিকল্পিত হামলার অভিযোগে উত্তপ্ত সন্দেশখালি
বুধবার সকালে, বসিরহাট-মালঞ্চ রুটের বাসন্তী হাইওয়েতে সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের মামলার অন্যতম সাক্ষী ভোলানাথ ঘোষের গাড়ি ভয়ানক দুর্ঘটনার কবলে পড়ল। গাড়িটির সঙ্গে উল্টো দিক থেকে আসা একটি লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে লাগে, উল্টে নয়ানজুলিতে পড়ে যায় সেটি। আঘাতের তীব্রতায় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান গাড়ির চালক শাহানুর মোল্লা এবং ভোলানাথের ছোট ছেলে সত্যজিৎ ঘোষ। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা প্রথমে ভোলানাথকে মিনাখাঁ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
ভোলানাথ ঘোষের পরিবার এবং স্থানীয়দের দাবি, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, এটি পরিকল্পিত খুনের চেষ্টা। ভোলানাথের বড়ো ছেলে, বিশ্বজিৎ ঘোষ সরাসরি অভিযুক্ত করেছেন জেলবন্দি শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ সবিতা রায় এবং মোসলেম শেখকে। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ‘বাবাকে শাহজাহানের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ায় আমাদের ওপর এই পরিকল্পিত হামলা হয়েছে’— বললেন বিশ্বজিৎ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনা ঘটেছে বয়ারমারি পেট্রোল পাম্পের কাছে। ভোলানাথ বলেছেন, গাড়ি মালঞ্চের দিকে যাওয়ার সময় লরিটি হঠাৎ তাদের গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা মারে। ধাক্কা এতটাই তীব্র ছিল যে গাড়িটি রাস্তার পাশে পড়ে যায় এবং জলে ডুবে যায়। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমরা সবাই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ি। মনে হয় এটি ইচ্ছাকৃত হামলা। তবে বিষয়টি প্রশাসনের তদন্তে স্পষ্ট হবে।’
খবর পেয়ে ন্যাজাট থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, লরির চালক পলাতক। স্থানীয়দের ধারনা, এই চালক শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। দুর্ঘটনার পরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষ ধরে নিচ্ছেন, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয় বরং দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত খুনের চেষ্টা। উল্লেখ্য, শেখ শাহজাহান বর্তমানে জেলবন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২২ সালে রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে ইডি আধিকারিকদের মারধরের ঘটনায় তাঁর নাম উঠে আসে। তারপর থেকেই তিনি নানা অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে জেলে আছেন।
এছাড়া স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোলা ঘোষের সঙ্গে শাহজাহানের আর্থিক লেনদেন সম্পর্কিত বিরোধও রয়েছে। ভোলা ঘোষের মাছের ব্যবসার জন্য ২০ লক্ষ টাকা পেতেন শাহজাহানের কাছ থেকে। ২০২২ সালে ২০ লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়েছিল, যা বাউন্স হয়ে যায়। এরপরই ভোলা ঘোষ আদালতে শাহজাহানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পাল্টা মামলা করেন শাহজাহানও। বুধবারের দুর্ঘটনা সে মামলার জন্য বসিরহাট মহকুমা আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথেই ঘটেছে। বিজেপি নেত্রী রেখা পাত্রও দুর্ঘটনাটিকে পরিকল্পিত খুনের চেষ্টার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি, ‘দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়।’ এদিকে, দুর্ঘটনার পর ভোলানাথ ঘোষের শারীরিক অবস্থা গুরুতর। সত্যজিৎ ঘোষ ও চালক শাহানুর মোল্লার মৃত্যুতে শোক আর উত্তেজনার পরিবেশ সন্দেশখালিতে। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।
❤ Support Us






