Advertisement
  • দে । শ
  • আগস্ট ৭, ২০২৩

জাতীয়স্তরে জোট, রাজ্যে লড়াই অব্যাহত। কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে তৃণমূলকে নিয়ে দলীয় কর্মীদের বার্তা ইয়েচুরির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জাতীয়স্তরে জোট, রাজ্যে লড়াই অব্যাহত। কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে তৃণমূলকে নিয়ে দলীয় কর্মীদের বার্তা ইয়েচুরির

২০১৫-র পার্টি কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথে তৃণমূলের সঙ্গে এক পথে হাঁটলেও বাংলায় তৃণমূল-বিজেপি-র সঙ্গে লড়াইয়ের রাস্তার বাইরে যাচ্ছে না সিপিএম। এটাই সিপিএম-এর ঘোষিত নীতি। এর ফলে জাতীয় স্বার্থে বিজেপি বিরোধিতা করতে তৃণমূল কংগ্রেস–সহ অন্যান্য দলের সঙ্গে থাকবে সিপিএম। কিন্তু আঞ্চলিক স্তরে অর্থাৎ বাংলায় যে প্রতিবাদ–আন্দোলন তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে চলছে সেটা চলবেই। কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে জাতীয় স্বার্থে তৃণমূলের পাশে থাকা নিয়ে সরব হয়েছিল সিপিএমের বাংলার নেতারা। রবীন দেব, অমিয় পাত্র, সুজন চক্রবর্তী, আভাস রায়চৌধুরীর মতো বাংলার কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা এই বৈঠকে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সীতারাম ইয়েচুরির পাশাপাশি ছবি সংবাদ মাধ্যমে দেখে বাংলার নিচুতলার সিপিএম কর্মীদের মনে দ্বিধা সৃষ্টি হচ্ছে। তখন পরিস্থিতির বাস্তবতার কথা স্বীকার করে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। কেন্দ্রে সাম্প্রদায়িক বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করা সময়ের ডাক। তাই এখন বিকল্প পথে যেতেই হবে। বেঙ্গল লাইনের নেতাদের এই বিষয়টি বুঝিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়ে দে, দল তাদের ঘোষিত কর্মসূচির বাইরে যাচ্ছে না। আঞ্চলিক স্তরে যেখানে যেখানে ত্রিনিয়ামুল, কংগ্রেস সোহো অন্যান্য দলের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধিতা আছে সেটা বজায় রেখেই জাতীয়স্তরে মোদির বিরুদ্ধে জোট গোড়া হবে।

রবিবার নয়াদিল্লিতে হরকিষেণ সিং সুরজিৎ ভবনে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির তিন দিনের বৈঠক শেষ হয়। রবিবার বৈঠক শেষে জবাবি ভাষণ দেন দলের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। সেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেন, দেশের সংবিধান, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে বিজেপি বিরোধী একাধিক দল একছাতার তলায় এসেছে। দেশ থেকে বিজেপিকে বিদায় করার লক্ষ্যেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপটের সঙ্গে বাংলা এবং কেরলের পরিস্থিতি মেলালে চলবে না। তাই আঞ্চলিক স্তরে তৃণমূলের সঙ্গে সিপিএমের কোনও আলোচনা বা যৌথ কর্মসূচি হবে না। সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের সমস্যার নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে কিছু কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে।

বেঙ্গল লাইনের আপত্তির কারণ কী? আসলে ইন্ডিয়া জোটের বেঙ্গালুরুর বৈঠকে সিপিএম যোগ দেওয়ার পর একটি ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল গান্ধি, সীতারাম ইয়েচুরি একসঙ্গে কথা বলছেন। এমন কী পাশাপাশিও বসে আছেন। আর এটা নিয়েই বাংলায় বিজেপি প্রচার করতে শুরু করেছে, তৃণমূলের হাতে পঞ্চায়েত নির্বাচনে সিপিএম-এর কর্মীর প্রাণনাশের পর সীতারাম কী ভাবে মমতার পাশে বসেন? সিপিএম–কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে রীতিমতো মাঠে নেমে পড়ে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারী বলছেন, সিপিএম-এর নিচুতলার কর্মীরা সীতারামবাবুর এই অবস্থান মানতে পারছেন না, শুভেন্দু অধিকারী আরও বলছেন, সিপিএম-এর নিচুতলার কর্মীদের বলছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে হলে বিজেপির হাত ধরুন। সিপিএম-এর বাংলার নেতাদের আশঙ্কা, এর ফলে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় সিপিএম-এর ভরাডুবি না হয়। পাটনা, বেঙ্গালুরুর বৈঠকের পর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সিপিএম–কংগ্রেসকে তৃণমূলের শাগরেদ বলে আক্রমণ করছেন। এটাই মানুষকে বোঝাচ্ছেন তিনি। তাই এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সামনে সরব হন রবীন দেব, সুজন চক্রবর্তী, অমিয় পাত্র, আভাস রায়চৌধুরীরা। তখনই আবারও জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতির ক্ষেত্রে সিপিএম-এর এই অবস্থান আবার স্পষ্ট করেন সীতারাম ইয়েচুরি।

কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে বলা হয়েছে, বিজেপি এই জাতীয় প্রচার করলে তার পাল্টা প্রচার করতে হবে দলকে। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই যেমন জারি ছিল সেটাই থাকবে। তবে সর্বভারতীয় স্তরে ২৬টি রাজনৈতিক দল এক হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লোৱাৰ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা চলবে। এই লড়াইয়ের কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে বলা হয়েছে, দেশের ক্ষতি করছে বিজেপি সরকার। ভারত ধারণার পরিবর্তন করছে বিজেপি। গণতন্ত্র, সংবিধান বিজেপির হাতে পরে বিপন্ন। তাই বিজেপিকে দেশ থেকে সরানোই আশু কাজ। এই বিষয়ে জবাব দিতে গিয়ে সাধারণ সম্পাদক ইয়েচুরি কমরেডদের বলেছেন, দলের রাজনৈতিক লাইনে কোনওভাবেই কোনও পরিবর্তন হয়নি। বাংলা এবং কেরলের রাজনৈতিক পথ নিয়ে সম্মেলনে যা ঠিক হয়েছে সেটাই অব্যাহত থাকবে। এই বিষয়টি আঞ্চলিক স্তরে নেতৃত্বকে কমরেডদের বোঝাতে হবে। পার্টি লাইন বুঝিয়েই দলে কর্মী সংখ্যা বাড়াতে হবে, সংখ্যায় বাড়ানোর পাশাপাশি গুণমানেও কর্মী সংখ্যা বাড়াতে হবে, তাহলেই তারা পার্টি লাইনটা বুঝবেন। কোনও বিভ্রান্তি থাকবে না।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!