Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৫

রাজ্যমর্যাদা ফেরানোর দাবিতে উত্তাল কেন্দ্রশাসিত লাদাখ ! বিজেপি অফিসে আগুন, পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ আন্দোলনকারীদের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাজ্যমর্যাদা ফেরানোর দাবিতে উত্তাল কেন্দ্রশাসিত লাদাখ ! বিজেপি অফিসে আগুন, পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ আন্দোলনকারীদের

রাজ্য মর্যাদা ফেরত ও সংবিধানিক নিরাপত্তা দাবিতে আন্দোলনের আগুনে উত্তাল লাদাখ। পুলিশের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ আন্দোলনকারীদের। বুধবার সকাল থেকে লেহ শহরের রাস্তায় শত শত প্রতিবাদকারী নামেন। পুলিশকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত পাথর ছুঁড়তে থাকেন তাঁরা, পুড়িয়ে দেন পুলিশ ভ্যান। পাশাপাশি স্থানীয় বিজেপি অফিসেও আগুন লাগিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। লাদাখে চলমান রাজ্য মর্যাদা ফেরত আন্দোলনের মধ্যে এই প্রথম এত বড়ো সহিংসতার ঘটনা ঘটল। এপর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন চারজন । আহত ৭০ ।

লেহ অ্যাপেক্স বডি-এর নির্দেশে বুধবার আন্দোলনকারীরা সম্পূর্ণ শহর বন্ধ ডেকে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। এলএবি–এর তরুণ সদস্যরা শহরের রাস্তায় নেমে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র সরকার লাদাখের দীর্ঘস্থায়ী দাবিগুলি পূরণ করছে না। প্রধান দাবিগুলিরর মধ্যে অন্যতম রাজ্য মর্যাদা ফেরত এবং ষষ্ঠ তফশিল-এ অন্তর্ভুক্তি। এদিন প্রতিবাদকারীরা স্থানীয় বিজেপি অফিসে আক্রমণ চালায়, পাথর ছুঁড়ে ভাঙচুর চালায় করে এবং শেষপর্যন্ত আগুন ধরিয়ে দেয় ওই কার্যালয়ে। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনি পৌঁছালে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পাল্টা পুলিশের পক্ষ থেকে কাঁদানো গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করা হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্টভাবে জানানো হয় নি, কি কারণে হঠাৎ এ আন্দোলন সহিংসতার রূপ নিল।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে লাদাখে এ ধরনের সহিংসতার নজির নেই। কেন্দ্র সরকার ৬ অক্টোবর লাদাখের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনা করেছে। এরইমধ্যে এরকম সহিংসতায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে নয়াদিল্লির। যদিও, গত ৩ বছরে লাদাখে কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ক্রমাগত বেড়েছে। স্থানীয়রা বারবার রাজ্য মর্যাদা ও সংবিধানিক নিরাপত্তা দাবি করছেন। লাদাখের প্রখ্যাত জলবায়ু কর্মী, সোনম ওয়াংচুক গত ৫ সপ্তাহ ধরে একই দাবিতে অনশন চালাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রের কাছে অবিলম্বে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার দাবি করছেন। গত মঙ্গলবার ২ অনশনরত প্রতিবাদী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের সূত্রে জানা গেছে, তাদের শারীরিক অবস্থা উন্নতির পথে।

উল্লেখ্য, লাদাখকে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে গঠনের পর থেকে, প্রশাসনিক শূন্যতার অভিযোগ উঠে। প্রথমদিকে লে-র অধিকাংশ মানুষ মোদি সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি দেখা যায়। সে অসন্তোষ বাড়তে বাড়তে এই মুহূর্তের বিক্ষুব্ধ আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক বছরে প্রথমবার বৌদ্ধসংখ্যাগরিষ্ঠ লেহ ও মুসলিমসংখ্যাগরিষ্ঠ কারগিলের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দলগুলো লেহ অ্যাপেক্স বডি এবং কারগিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স নামে যৌথভাবে আন্দোলন চালাচ্ছে। কেন্দ্র সরকার একটি উচ্চস্তরের কমিটি গঠন করে লাদাখের দাবিগুলি পর্যালোচনা করেছে। তবে একাধিক আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমাধানসূত্র বের হয়নি। গত মার্চে লাদাখি প্রতিনিধিরা দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর সঙ্গে দেখা করেন। সে আলোচনাও বিফল হয়। আন্দোলনকারী এক নেতা জানিয়েছেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আমাদের রাষ্ট্র মর্যাদা এবং ষষ্ঠ সিডিউল অন্তর্ভুক্তির দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন লাদাখকে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা তাঁর একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।’

আজকের সহিংসতা এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন লাদাখ স্বায়ত্তশাসন পরিষদ নির্বাচনের পূর্বাভাস রয়েছে। ২০২০ সালে বিজেপি ওই নির্বাচনে জিতেছিল। ওয়াংচুক জানিয়েছেন, ‘সে সময় বিজেপি লাদাখকে ষষ্ঠ সিডিউল অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আগামী নির্বাচনের আগে সেটি পূরণ করা উচিত। মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে উঠছে। তারা মনে করছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে কিছুই হচ্ছে না। আমরা চাই না এমন কিছু ঘটে যা দেশের জন্য বিব্রতকর হবে। শান্তি থাকাই ভালো।’ লাদাখের চলমান সহিংস প্রতিবাদ এবং হরতালের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে শহরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!