Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ৬, ২০২৬

পদত্যাগে রাজি নন ইউসুফ, বসিরহাট থেকে লড়তে পারেন মমতা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পদত্যাগে রাজি নন ইউসুফ, বসিরহাট থেকে লড়তে পারেন মমতা

রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে এই মুহূর্তে অনেকটাই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন মমতা ব্যানার্জি। আবার রাজনীতির ময়দানে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে আপ্রান চেষ্টা করছেন। বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরেছিলেন। এই অবস্থায় রাজনীতিতে আবার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে তিনি লোকসভায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। চেয়েছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে বহরমপুর কেন্দ্র থেকে পদত্যাগ করিয়ে উপনির্বাচনে লড়াই করার। ইউসুফ পাঠানের কাছে পদত্যাগ করার জন্য আবেদনও করেছেন। তবে ইউসুফ তাঁর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

পদত্যাগ করতে রাজি করানোর জন্য ইউসুফ পাঠানের সঙ্গে কথা বলতে সৌরভ গাঙ্গুলিকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। সূত্রের খবর, ইউসুফের সঙ্গে কথাও বলেন। পদত্যাগ করার জন্য অনুরোধও করেন। কিন্তু ইউসুফ সরাসরি সৌরভের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। সৌরভকে ইউসুফ বলেন, জনগণের রায় পাওয়ার পর মাত্র ২ বছর হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি তা উপেক্ষা করতে পারেন না। সুতরাং, তিনি বহরমপুরের সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করবেন না।

মুর্শিদাবাদ থেকে মমতা ব্যানার্জির নিজের দলের সদস্যরা তাঁর নির্দেশ মানতে অস্বীকার করলেও, মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবীর তাঁকে আসনটি দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন। ইউসুফ পাঠানের রাজি না হওয়ায়  মমতা ব্যানার্জি বসিরহাট লোকসভা আসন থেকে সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক এবং এজেইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বলেছেন যে, মমতা ব্যানার্জি যদি বসিরহাট আসন থেকে সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তবে তিনি তাঁকে সমর্থন করবেন। এটা স্পষ্ট যে মমতা ব্যানার্জি মুর্শিদাবাদকে তাঁর পরবর্তী শক্ত ঘাঁটি বানানোর চেষ্টা করছেন।

দলের কার্যকারিতা নিয়ে বেশ কয়েকজন প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ অসন্তুষ্ট এবং তাঁরা তৃণমূল ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। বেশ কয়েকজন তৃণমূল সাংসদ প্রকাশ্যে তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশও করেছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, যাঁকে মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়। বারাসাত থেকে চারবারের সাংসদ কাকলি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তৃণমূলের কল্যাণ ব্যানার্জির বিরুদ্ধে অভিযোগও করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, কল্যাণ ব্যানার্জি লোকসভার ভেতরে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন এবং আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছেন। কাকলি ছাড়াও প্রবীণ সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় এবং শান্তনু সেনও দলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

রাজ্য বিধানসভার মতো লোকসভাতেও ‘‌অপারেশন লোটাস’‌ শুরু হয়ে গেছে। তৃণমূল সাংসদদের ভাঙনের রাজনীতি শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন সাংসদ বিজেপি–র সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এই মুহূর্তে লোকসভায় তৃণমূলের সদস্য রয়েছেন ২৭ জন। এর মধ্যে দুই–তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১৮ জন যদি বিজেপিতে যোগ দেন, তাহলে দলত্যাগ আইনে পড়তে হবে না। যেমন আপ–এর সাংসদ রাঘব চাড্ডা দুই–তৃতীয়াংশ সদস্যকে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!