- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- এপ্রিল ১৭, ২০২৬
সংসদে তুমুল বিতর্কের মধ্যেই বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি কেন্দ্রের, কার্যকর হয়ে গেল মহিলা সংরক্ষণ আইন ?
শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র সংঘাতের আবহে লোকসভায় চলছে মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক। বিরোধীদের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে শাসক দল। এমনকি বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত সংসদে বিল নিয়ে আলোচনা চলে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা শুক্রবার, যেদিন বিকেলের মধ্যেই বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে হঠাৎই বিজ্ঞপ্তি জারি করে ২০২৩ সালে পাশ হওয়া মহিলা সংরক্ষণ আইনটি কার্যকর করে দিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে দেশের সব আইনসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের আইন পাশ করায়। সেই সময় বিরোধী দলগুলিও বিলটির সমর্থন করেছিল। আইনে বলা হয়েছিল, মোট আসনের ৩৩ শতাংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি উল্লেখ ছিল, নতুন জনগণনার পর আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) করা হবে এবং সেই পুনর্বিন্যাসের ভিত্তিতেই সংরক্ষণ কার্যকর হবে। কিন্তু ২০১১ সালের পর দেশে আর কোনও জনগণনা না হওয়ায় আইনটি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার আবার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে চাইছে। সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০১১ সালের জনগণনার তথ্য বা বর্তমান আসনের অনুপাতের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে। এছাড়াও, ভবিষ্যতে কবে এবং কীভাবে আসন পুনর্বিন্যাস হবে, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও সরকারের হাতে রাখতে চাওয়া হচ্ছে। নতুন সংশোধনী পাশ হলে এই বিষয়ে আর আলাদা করে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে না।
এই প্রস্তাব নিয়েই বিরোধীরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছে এবং সেই কারণেই সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক চলছে। এর মধ্যেই শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রক একটি বিবৃতি জারি করে জানায়, ২০২৩ সালের মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও হঠাৎ এ সিদ্ধান্তের কারণ সম্পর্কে সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, পদ্ধতিগত কারণে আগের আইনটি কার্যকর করা হয়েছে, কারণ সংশোধনী পাশ হলেও পুরনো আইন কার্যকর না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না।
❤ Support Us





