- দে । শ
- এপ্রিল ১৭, ২০২৬
বঙ্গের প্রথম দফার ভোটে কতজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ?
রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন ২৩ এপ্রিল। উত্তরবঙ্গ-সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশকিছু আসনে ওই দিন ভোটের লড়াই হবে। ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীরা কমিশনের কাছে হলফনামা জমা দিয়েছেন। সেই তথ্যে যা দেখা যাচ্ছে তাতে বলা যায় পশ্চিমবঙ্গের ভোট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি, এই প্রবণতা বঙ্গ রাজনীতির সংস্কৃতিকে অনেকাংশে বদলে দিচ্ছে ! প্রথম দফার ১৫২টি কেন্দ্রে নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীদের ৭০ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধেই রয়েছে ফৌজদারি মামলা। শুধুমাত্র নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেই রয়েছে ২৯টি মামলা। যার মধ্যে বেশকিছু গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া তৃণমূলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ৪৩%, সিপিএম প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ৪৪% ফৌজদারি মামলা রয়েছে। ওয়েস্টবেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মসের সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে। কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রথম দফার নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের সম্পর্কে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এই সংগঠনের তরফে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রথম দফার নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পত্তি, ফৌজদারি মামলা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি সম্পর্কেও বিশ্লেষণমূলক তথ্য প্রকাশ করা হয়। তাতে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে ধর্ষণের মতো মামলা। এছাড়াও ১৯ জনের বিরুদ্ধে চলছে খুনের মামলা। বিজেপির ১৫২ জন প্রার্থীদের মধ্যে ১০৬ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। যাদের মধ্যে ৯৬ জনের বিরুদ্ধেই রয়েছে গুরুতর ফৌজদারি মামলা তবে শুধু বিজেপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধেই যে মামলা রয়েছে তেমনটা নয়। ওই সংস্থার তরফে যে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, মামলার বিচারে শতাংশের হিসাবে তৃণমূল, সিপিএম সব দলের প্রার্থীরাই রয়েছেন।
প্রথম দফার নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। শতাংশের বিচারে অবশ্য বিজেপির তুলনায় যা অনেকটাই কম, ৪৩ শতাংশ। আসন প্রাপ্তিতে শূন্য হলেও সিপিএমের ৪৪ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। কংগ্রেসের ২৬ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। ওই সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, প্রথম দফার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করা ১৪৭৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৪৫ জন নিজেদের বিরুদ্ধে থাকা অপরাধমূলক মামলার কথা হলফনামা দিয়ে নিজেরাই ঘোষণা করেছেন।
প্রথম দফার প্রার্থীদের মধ্যে খুন এবং হত্যা সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত প্রার্থী রয়েছেন ১৯ জন। খুনের চেষ্টা সংক্রান্ত মামলা রয়েছে ১০৫ জনের বিরুদ্ধে। ৯৮ জন প্রার্থী নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত। যাদের মধ্যে ৬ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা এবং একজনের বিরুদ্ধে একই মহিলাকে বারবার ধর্ষণের মতো অভিযোগও রয়েছে।
ওই সংগঠনের রাজ্য কোঅর্ডিনেটর উজ্জ্বয়িনী হালিম বলেন, ‘‘আসলে আমরা চাই প্রার্থীদের হলফনামার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ভোটকেন্দ্রের বাইরে ডিসপ্লে বোর্ড প্রদর্শণ বাধ্যতামূলক করা হোক। যেখানে প্রার্থীর অপরাধমূলক রেকর্ড, সম্পদ, দায়বদ্ধতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ থাকতে হবে। যাতে মানুষ ভোট দেওয়ার আগে দেখে নিতে পারেন, কোন প্রার্থী কীরকম। সেইমতো তারা বিচার-বিবেচনা করতে পারেন।’’
পাশাপাশি প্রথম দফার নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থীতালিকাও সংগঠনের তরফে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় মোট ৩০৯ জন কোটিপতি প্রার্থী এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
দলভিত্তিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বাধিক ১০৬ জন কোটিপতি প্রার্থী রয়েছে, যা তাদের মোট প্রার্থীর প্রায় ৭২ শতাংশ। বিজেপির ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৭১ জন, অর্থাৎ প্রায় ৪৭ শতাংশ। জাতীয় কংগ্রেসের ৫০ জন (৩৩ শতাংশ) এবং সিপিআই(এম)-এর ২৪ জন, অর্থাৎ ২৪ শতাংশ প্রার্থী কোটিপতি তালিকায় রয়েছেন।
তৃণমূলের ১৪৮ জন প্রার্থীর গড় সম্পদ প্রায় ৫.৭০ কোটি টাকা, যা তালিকায় সর্বোচ্চ। বিজেপির ১৫২ জন প্রার্থীর গড় সম্পদ ২.৫৭ কোটি টাকা, কংগ্রেসের ১৫১ জনের গড় ২.০৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে সিপিআই(এম)-এর ৯৮ জন প্রার্থীর গড় সম্পদ সবচেয়ে কম, প্রায় ৯২.৪২ লক্ষ টাকা। সবচেয়ে ধনী প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন তৃণমূলের জঙ্গিপুর কেন্দ্রের প্রার্থী জাকির হোসেন, যার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৩৩ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা। এছাড়াও তৃণমূলেরই বাঁকুড়ার বরজোড়া কেন্দ্রের প্রার্থী গৌতম মিশ্র (শ্যাম)-এর সম্পদ ১০৫ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা এবং পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের প্রার্থী কবি দত্তর সম্পদ ৭২ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা।
❤ Support Us






