Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫

উমর খালিদদের মুক্তির দাবিতে মুম্বইয়ে সভা। পুলিশের বিরুদ্ধে ‘বানোয়াট প্রমাণ’ দাখিলের অভিযোগে ক্ষুব্ধ আদালত

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
উমর খালিদদের মুক্তির দাবিতে মুম্বইয়ে সভা। পুলিশের বিরুদ্ধে ‘বানোয়াট প্রমাণ’ দাখিলের অভিযোগে ক্ষুব্ধ আদালত

২০২০ সালে দিল্লির সহিংসতার পর কেটে গেছে ৫ বছর, তবু ন্যায়বিচার এখনো অধরা। একের পর এক খালাসের রায় দিয়ে, দিল্লি পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ার উপর কড়া তিরস্কার আদালতের। ‘বানোয়াট প্রমাণ’, ‘কাল্পনিক সাক্ষী’ ও ‘ফাঁসানো মামলা’র অভিযোগে অন্তত ১৭টি মামলায় অভিযুক্তরা খালাস পেয়েছেন। জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের দাঙ্গার ১১৬টি মামলার মধ্যে যেগুলির রায় ঘোষণা হয়েছে, তার মধ্যে ৯৭টি মামলাতেই অভিযুক্তরা মুক্তি পেয়েছেন। ৯৩টি খালাসের রায় খুঁটিয়ে দেখা হলে, জানা যাবে, প্রায় ৫ ভাগের এক ভাগ ক্ষেত্রে বিচারকেরা সরাসরি পুলিশের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছেন। দুটি মামলায় সাক্ষীরা আদালতে জানান, তাঁদের বয়ান পুলিশকর্মীরাই জোর করে লিখিয়ে নিয়েছেন। সম্প্রতি, দিল্লির অতিরিক্ত জেলা সেশনস বিচারপতি প্রবীণ সিং একটি শুনানিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তদন্তকারীরা ভয়ঙ্কর রকমের জোড়াতালি দিয়েছেন প্রমাণে। এর ফলে মানুষের আইনের শাসন ও তদন্ত প্রক্রিয়ার উপর আস্থা মারাত্মক ভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।’

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানী জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক হিংসা। অন্তত ৫৩ জন নিহত এবং ৭০০-র বেশি মানুষ আহত হন। তোলপাড় হয় দেশ। কিন্তু এবার তদন্তের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে একের পর এক ভেঙে পড়ছে মামলা। আদালতের পর্যবেক্ষণ, একটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর অস্তিত্বই ‘সন্দেহজনক’, তিনি কাল্পনিক ব্যক্তি হতে পারেন। অন্য এক রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, পুলিশ জেনেশুনেই টেস্ট আইডেন্টিফিকেশন প্যারেড করেনি, কারণ তারা জানত মামলাটি সম্পূর্ণভাবে সাজানো। আদালতের অভিযোগ, কেস ডায়েরিতে কারচুপির সম্ভাবনা রয়েছে। বিচার ব্যবস্থার এহেন ধারাবাহিক মন্তব্য ইঙ্গিত করছে তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার দিকে।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘মুম্বাই মারাঠি পত্রকার সংঘ’-এর আয়োজিত সভায় ফের উঠল ছাত্রনেতা উমর খালিদ ও অন্য অভিযুক্তদের ন্যায়বিচারের দাবি। ‘উমর কে দোস্ত’ (উমরের বন্ধু) ও ‘হাম ভারত কে লগ’ নামের সংগঠন, যা সিএএ-এনআরসি আন্দোলনের সময় তুষার গান্ধীর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল, এ সভার আয়োজন করে। মানবাধিকার কর্মী গুড্ডি এস.এল. এদিন বলেন, ‘অবৈধ আটক-অবস্থার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতেই আজ আমরা একত্রিত হয়েছি। খোলা জায়গায় সভা করা যায় না বলেই মারাঠি পত্রকার সংঘকে বেছে নিতে হয়েছে।’ সভায় উপস্থিত ছিলেন উমর খালিদের বন্ধু বনজ্যোৎস্না লাহিড়ী, অভিনেত্রী-অ্যাক্টিভিস্ট স্বরা ভাস্কর, চলচ্চিত্র নির্মাতা আনন্দ পটবর্তী, সমাজকর্মী ফিরোজ মিথিবোরওয়ালা, এনসিপি (শরদ পাওয়ার)-এর ফাহাদ আহমদ ও বেবাক কালেকটিভের হাসিনা খান।

সভায় বনজ্যোৎস্না লাহিড়ীর ক্ষোভ, ‘৫ বছর হয়ে গেল, বিচার প্রক্রিয়া শুরুই হয়নি। ২০২১ সালে দিল্লি হাইকোর্ট পুলিশের কাজকর্মের তীব্র সমালোচনা করেছিল। আজ অবধি কোনো ব্যবস্থা হয়নি কপিল মিশ্রর মতো নেতাদের বিরুদ্ধে, যাঁদের ভিডিওতে উস্কানিমূলক ভাষণ দিতে দেখা গেছিল।’ আবেগঘন কণ্ঠে স্বরা ভাস্কর বলেন, ‘এই ৫ বছরে আমার নিজের জীবন বদলে গেছে—আমি বিয়ে করেছি, মা হয়েছি, আমার মেয়ে এখন প্লে-স্কুলে যায়। কিন্তু অনেকেই আজও স্বাভাবিক জীবন থেকে বঞ্চিত।’ তিনি আরো জানান, ফাদার স্ট্যান স্বামী জেলে মারা গিয়েছেন, অধ্যাপক জি.এন. সাইবাবা দীর্ঘ কারাবাস শেষে মুক্তি পেয়েও কয়েক মাসের মধ্যে প্রয়াত হয়েছেন, আর ‘পিঞ্জরা তোড়’-এর কর্মী নাতাশা নারওয়াল ও দেবাঙ্গনা কলিতা এক বছরেরও বেশি সময় জেলে কাটিয়ে সম্প্রতি জামিন পেয়েছেন। বক্তাদের বক্তব্যেঅভিযোগ ওঠে, উমর সহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা আসলে আন্দোলন চেতনাকে পিষে দেওয়ার চেষ্টা। উমরের বক্তৃতাগুলিতে হিংসা তো ছিলই না, বরং শান্তির কথা বলেছিলেন উমর, বলেছিলেন গান্ধী, আম্বেদকর ও সাভিত্রীবাই ফুলের কথা। উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট উমর খালিদ, শরজিল ইমাম, গুলফিশা ফাতিমা ও মীরান হায়দারের জামিন আবেদন শুনানি পিছিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছে। এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট মন্তব্য করেছিল, ‘এই দাঙ্গাপরিকল্পিত, সাজানো ষড়যন্ত্র’।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!