Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জানুয়ারি ৫, ২০২৬

ধারাবাহিক বিস্ফোরণে ফের অশান্ত মণিপুর ! ২৪ ঘণ্টার বনধের ডাক মেইতি সংগঠনের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ধারাবাহিক বিস্ফোরণে ফের অশান্ত মণিপুর ! ২৪ ঘণ্টার বনধের ডাক মেইতি সংগঠনের

নতুন বছরে ফের অশান্তির ছায়া রাষ্ট্রপতি শাসনের মণিপুরে। সোমবার ভোর থেকে বিষ্ণুপুর জেলার সাইতন-নগানুকন এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটেছে, যাতে বহু মানুষ আহত হন। ঘটনার প্রতিবাদে মেইতেই এবং কয়েকটি নাগরিক ও ছাত্র সংগঠন সারা রাজ্যে ২৪ ঘণ্টার বনধের ডাক দিয়েছে।  

পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন ভোর পাঁচটা চল্লিশ নাগাদ সাইতন-নগানুকনের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস’ বা ইএডি বিষ্ফোরক ব্যবহার করা হয়। বিস্ফোরণে এক মহিলা এবং একজন পুরুষ গুরুতরভাবে আহত হন। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়, আশেপাশের মানুষজন দৌড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচটা পঞ্চান্ন মিনিটে অদূরের একটি রাস্তায় দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে। পুলিশি তৎপরতা সত্ত্বেও সকাল আটটা ত্রিশ মিনিটের দিকে একটি বাড়ির সামনে তৃতীয় বিস্ফোরণ হয়যাতে আরো একজন আহত হন। আহতরা বর্তমানে বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীনচিকিৎসকেরা জানিয়েছেনতাদের অবস্থা স্থিতিশীল।

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রতিবাদ জানিয়ে মেইতেই ও মূলনিবাসী সম্প্রদায়ের কয়েকটি নাগরিক সংগঠন এবং ছাত্র সংগঠন আদিবাসী পিপল অর্গানাইজেশন মণিপুরঅল মণিপুর স্টুডেন্টস ইউনিয়ন এবং ইয়েলহোমি কানবা লুপ একযোগে ২৪ ঘণ্টার বন্‌ধের ডাক দিয়েছে।  এ ঘটনার পটভূমি জটিল। মেইতেই সম্প্রদায়ের তফসিলি তকমা নিয়ে মতবিরোধের জেরেই ২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে মেইতেই-কুকি সংঘাত ছড়িয়েছিল। দীর্ঘ ২ বছর ধরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক হিংসা, দু-শোর বেশি মানুষের প্রাণ, হাজার হাজার নাগরিকের বাস্তুচ্যুতি; বিপুল সে ক্ষয়ক্ষতির ক্ষত বুকে নিয়ে এ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে উত্তর-পূর্বের রাজ্যটি।  বর্তমানে সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে। শান্তি ফিরিয়ে, পুনরায় নির্বাচিত সরকার স্থাপন করতে আগ্রহী দিল্লিও। দফায় দফায় জনগোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ।  এরই মধ্যে এমন হামলা, পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আইপিওএম-এর সভাপতি দেবদত্ত ইয়ুমনাম এক সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেছে, বিষ্ণুপুরের এই হামলাগুলো কুকি সশস্ত্র দলের পরিকল্পিত আক্রমণ। তিনি বলেনপার্শ্ববর্তী ও পাদদেশীয় এলাকা এখনো নিরাপদ নয়। মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষ স্থায়ী শান্তি চাইছে এবং স্থানচ্যুত পরিবারগুলো তাদের বাড়িতে ফিরে স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে চায়। কিন্তু কিছু গোষ্ঠী সহিংসতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছেযাতে জনপ্রিয় নির্বাচিত সরকার ফেরত আসতে না পারে। অন্যদিকে, ‘কুকিজো কাউন্সিল’ হামলা নিন্দা জানিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। প্রসঙ্গত, সাইটন গ্রাম ইমফাল থেকে প্রায় পঞ্চান্ন কিলোমিটার দূরেবিষ্ণুপুরচুরাচাঁদপুর সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। সেখানকার পরিস্থিতি অতিসংবেদনশীল। ১৬ ডিসেম্বরের ফিরে আসা পরিবারদের ওপর দুষ্কৃতিদের গুলি চালানোর ঘটনায় পরিস্থিতি আরো জটিল ও হিংসামুখী হয়ে উঠেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!