- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ১, ২০২৫
উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে তুষারধসে ৪ শ্রমিকের মৃত্যু, এখনও আটকে ৫
উত্তরাখণ্ডে তুষারধসের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ৫০ শ্রমিকের মধ্যে ৪ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এখনো আটকে আছেন ৫ শ্রমিক। উদ্ধারকার্যে বায়ু সেনার হেলিকপ্টার । শনিবার সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অন্যদিকে হরপা বানে হিমাচল প্রদেশদের কুল্লুর রাস্তায় আটকে রয়েছে প্রচুর গাড়ি, জনজীবন ব্যাহত।
উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার মানা অঞ্চলে শুক্রবার সকালে এক ভয়াবহ তুষারধসের ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় বহু শ্রমিক তুষারের নিচে চাপা পড়েন। উদ্ধার হওয়া ৫০ শ্রমিকের মধ্যে ৪ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এখনো আটকে আছেন ৫ শ্রমিক। নিখোঁজদের উদ্ধার প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে। উদ্ধারকৃত শ্রমিকদের মানা এলাকায় ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ ক্যাম্পে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রবল তুষারপাতের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়াতে, উদ্ধারকার্য চালানোর জন্য ভারতীয় বিমান বাহিনী এমএই-১৭ হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে। এর আগে, কর্মকর্তারা বলেছিলেন যে একবার এই অঞ্চলে আবহাওয়ার অবস্থার উন্নতি হলে, আইএএফ ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য তার বাকি কাজ চালাবে।
পরিস্থিতির খোঁজ নিতে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামিকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। উদ্ধার অভিযানের খুঁটিনাটি তথ্য নেন। তিনি রাজ্যে বৃষ্টি ও তুষারপাতের পরিস্থিতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন, কেন্দ্র সরকার যে কোনো জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় সমস্ত সম্ভাব্য সহায়তা করবে। শুক্রবার সন্ধ্যায়, ধামি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে দেরাদুনে দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ অফিসে যান। শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে একটি বৈঠক করেন। উদ্ধার অভিযান দ্রুত শেষ করবার নির্দেশ দেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, সমস্ত সংস্থা ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা চালাতে যুদ্ধের ভিত্তিতে কাজ করছে। শীঘ্রই আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করা হবে বলে জানান তিনি। ভারতীয় বায়ুসেনার হেলিকপ্টারগুলিকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে, আবহাওয়া পরিষ্কার হওয়ার সাথে সাথে তারা কাজ শুরু করবে। কিছু উদ্ধারকারী দল সড়ক পথেও ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। জোশীমঠে অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করবার কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকার বিভিন্ন রাজ্যের আটকে পড়া শ্রমিকদের পরিবারকে সহায়তা করার জন্য একটি হেল্পলাইন স্থাপন করেছে।
শনিবার মুখ্যমন্ত্রী ধামী ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। উদ্ধার হওয়া আহত শ্রমিকদের সাথে দেখা করেন। সংবাদমাধ্যমকে জানান, আর্মি, এনডিআরআফ, আইটিবিপি যৌথভাবে উদ্ধারকার্য পরিচালনা করছে। আমরা যত দ্রুত সম্ভব আটকে পড়া সব শ্রমিকদের উদ্ধার করবার চেষ্টা করছি। উদ্ধার করা ১৪ জন শ্রমিককে যোশিমঠে রাখা রয়েছে। আহতদের আর্মি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। উত্তরাখণ্ডের রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, তুষারের নিচে চাপা পড়া শ্রমিকরা বিহার, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন রাজ্য থেকে এসেছিলেন। তবে এদের মধ্যে ১০ জনের নাম প্রকাশিত হলেও তাঁদের রাজ্যের নাম উল্লেখ করা হয়নি। চামোলির জেলাশাসক সন্দীপ তিওয়ারি জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযানের জন্য চারটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ৪৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে দুর্ঘটনাস্থল থেকে। তাঁদের মধ্যে সাত জনকে জোশিমঠে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁরা চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং তিন জনের অবস্থা স্থিতিশীল
অন্যদিকে, হিমাচল প্রদেশে তুষারপাত ও বৃষ্টিপাতের কারণে ৫টি জাতীয় মহাসড়ক সহ মোট ৫৮৩টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। অসংখ্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। জল সরবরাহ হচ্ছে না। হড়পা বানে কুল্লুর রাস্তায় আটকে প্রচুর গাড়ি। হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু শুক্রবার রাজ্যের বাসিন্দাদের নদী ও ঝর্ণা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। কুল্লু জেলা সহ রাজ্যের কিছু অংশ ভারী বৃষ্টিপাত এবং তুষারপাত চলছে। মুখ্যমন্ত্রী বেলছেন, ‘আমি সকাল থেকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি। সকলকে সতর্ক থাকার ও প্রশাসনের জারি করা নির্দেশিকা অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে কুলু উপত্যকায় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটলে, বিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি বাঁধের গেট খুলে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুল্লুর ডেপুটি কমিশনার তোরুল এস রবিশ, জলস্তর নামা পর্যন্ত লোকজনকে ঘরের ভেতরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। গত ১৫-১৬ ঘন্টা ধরে বৃষ্টিপাতের কারণে বহু প্রধান সরক বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নদীনালায় জলস্তর বেড়ে যাওয়ায়, তিনি জনসাধারণকে যেখানে আছেন সেখানেই থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন। হঠাৎ ভূমিধসের কারণে নদীতে জলের প্রবাহ বাড়তে পারে। মানালি আর কুলুতে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।
❤ Support Us






