Advertisement
  • দে । শ
  • এপ্রিল ৯, ২০২৬

পূর্ব-পশ্চিম বর্ধমান জুড়ে বাদ ৮ লাখেরও বেশি ভোটার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পূর্ব-পশ্চিম বর্ধমান জুড়ে বাদ ৮ লাখেরও বেশি ভোটার

কেউ সারারাত লাইনে দাঁড়ানোর কষ্ট সইতে না পেরে চোখের জল ফেলছেন। কারও খিদেয় পেট টনটন করছে। কেউ পায়ে ব্যথা নিয়ে আর দাঁড়াতে পারছেন না। কারও দুধের শিশু একটু দুধের জন্য চিল-চিৎকার করছে। এত রাতে কীভাবে বাড়ি ফিরবেন, সেই দুশ্চিন্তায় কারও কপালে গভীর ভাঁজ। কাটোয়া ও কালনায় মহকুমাশাসকের অফিসে ট্রাইবুনালের লাইনের এমনই মর্মান্তিক ছবি ধরা পড়ল। আর এই হয়রানির চেনা ছবির অন্তরে তৈরি হচ্ছে প্রতিবাদের বীজতলা। বুকে-মনে ধিকিধিকি জ্বলছে বদলার আগুন। কেউ কাঠগড়ায় তুলছেন নির্বাচন কমিশনকে। কেউ দুষছেন বিজেপিকে। আর মনে জমা হওয়া ক্ষোভ ইভিএমে উগরে দেওয়ার জন্য কোমর বাঁধছেন। মঙ্গলকোটের দেউলিয়া থেকে প্রায় ২৪ কিমি পথ হেঁটে এসেছেন লাইলি বিবি। সূর্য ওঠার আগেই লাইন দিয়েছেন। লাইলির স্বামী রাইহান মণ্ডল চেন্নাইয়ে রাজমিস্ত্রির  কাজ করেন। তার নাম বাদ পড়েছে। তাই ২ ছেলেকে বাড়িতে রেখে রাত থাকতে বেরিয়ে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। বললেন, ‘বিজেপি এইসব বদমাইশি করছে।’ কালনা আর কাটোয়া ২ মহকুমাশাসকের অফিসেই দীর্ঘ লাইন সামলাতে সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনি। কেতুগ্রামের হাটমুড়গ্রামের বধূ ঝরনা বিবি ঘন্টা দুয়েকের উপর লাইনে দাঁড়িয়ে। বললেন, ‘বহু বছর ধরে ভোট দিচ্ছি। তবু নাম বাদ দিল বিজেপি। এত কষ্ট কেউ মানুষকে দেয় !’ লাইনে দাঁড়িয়ে মঙ্গলকোটের ঠ্যাঙাপাড়ার মহিলা পাতু বিবি জানালেন, ‘পায়ে ব্যথা। হাঁটুজোড়া কনকন করছে। তবু নিরুপায় হয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছি। আগেতো সব নথি দিয়েছি। তবু নাম বাদ দিয়েছে।’
শুধু লাইলি, ঝরনা, পাতু নন, পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে এ পর্যন্ত বাদ গিয়েছে মোট ৪,৩৫,৮৬৪ জনের নাম।

বিচারাধীন তালিকায় ছিল ৩,৫৩,০০০ ভোটারের নাম। সেখান থেকে ২,০৯,৮০৫ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। পশ্চিম বর্ধমান জেলায় সবমিলিয়ে বাদ পড়েছে ৩,৯৪,৩২৫ জন ভোটার। বাদ পড়া ভোটাররা ট্রাইবুনালে আবেদন জমার লাইনে দাঁড়িয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কারও কাজ কামাই হচ্ছে। কাউকে পয়সা খরচ করে কর্মক্ষেত্র থেকে ছুটে আসতে হচ্ছে। কারও অহেতুক সময় নষ্ট হচ্ছে। হয়রানির শিকার হওয়া ভোটারদের পাশে দাঁড়িয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি বললেন, ‘এটাই বিজেপির এজেন্ডা। নোটবন্দির সময়েও মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছিল। আবার পরিকল্পনা না করে তড়িঘড়ি  এসআইআর চালু করতে গিয়ে মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে কষ্ট দিচ্ছে।’ যোগ করেন, ‘এত মানুষের চোখের জল বৃথা যাবে না। জনতা জনার্দনের অশ্রু দিয়েই লেখা হবে বিজেপির বিসর্জনের বৃত্তান্ত।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!