Advertisement
  • ক | বি | তা
  • ডিসেম্বর ১১, ২০২২

গুচ্ছ কবিতা

সৈয়দ কওসর জামাল
গুচ্ছ কবিতা

চিত্র: নীলৎপল

জন্মঋণ

পানপাত্রে মুখচ্ছবি দেখে আঁতকে ওঠে সরাইখানার ছায়া
একি মৃত্যুমুখচ্ছবি ?
অসমাপ্ত ব্রিজের নীচে, চোরাগোপ্তা সংঘর্ষের পিছনে,
যুযুধান দু’পক্ষের মাঝে, তুষারঝড়ের পথে, আরও কত
অসংখ্য অকুস্থলের কাছে আমাদের জন্মঋণ
শোধ করে যেতে হবে
এক হাজার কোটি স্নায়ুকোষ দিয়ে গড়া এই মানব-মস্তিষ্ক
কার কাজে লাগবে আমার মৃত্যুর পর ?
আনো ধ্বংস, টানো পূর্ণচ্ছেদ
দেখা যাবে কোথায় অনন্ত ফুটে আছে
এ অপ্রতিরোধ্য পরিক্রমা দিগন্তের কাছে গিয়ে থামে
অদ্ভুত মুগ্ধতা, ভালো লাগা থেকে গড়ে ওঠা অতিথিনিবাস
এই সৌন্দর্যচেতনা শুধু মানুষের
এসো, তাকে তুলে রাখি শিল্পীর ক্যানভাসে
তাকে স্থান দাও কবিতার অতীন্দ্রিয় নিউরনে
আমি তার নেশাভার, আমি তার নিঃশব্দ যন্ত্রণা
প্রকৃতির চুরিকরা উপচার সাজিয়ে রেখেছি নদীস্রোতে,
পাহাড়তলির বুকে, মোহনায়, পাখিদের উড়েযাওয়া পথে
ভুর্জপত্রে লিখেছি আরক্ত সন্ধ্যাকাল
বাতাসে বাতাসে শিহরকথার প্রাণ জেগে ওঠে
নক্ষত্রের আলোপথ ধার করে লিখেছি প্রণয়
প্রণয় শ্রাবণগান, ঝরে পড়ছে বৃষ্টির মতন
কতোদিন থেকে পেতে রেখেছি হৃদয়, দেহ, মুগ্ধতাবোধ
এই জন্ম সব মুছে দেবে ?

ট্রাপিজ

কিছুই করি না আমি, মাঝে মাঝে শুধু থাকা আর না-থাকার
মাঝখানে বাইসনের সিং-এর মতন মাথা নাড়তে নাড়তে হেঁটে যাই
মৃদু কোলাহল করে চলে যায় সুখী মানুষের ক্যারাভান
ক্ষোভ আর প্রতিশোধস্পৃহা নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে অশ্রুপাত
আমি তার কতটুকু জানি
আমি শুধু বসে থাকি হাটখোলা আকাশ দরজার ধারে একা
স্থাণু নই বলে পাথরের মতো ঘুরি আর দেখি চোখের বিলাপ
কাঁদে কেউ যেন শব্দ করে ভেঙে পড়ে বিষণ্ণ লোহার সেতু
এসব কিছুই জানা ছিল না আমার, যদি না লোহার টুকরো
ছিটকে এসে পড়ত শান্ত খাবার টেবিলে
বলেছি যদিও, সাঁকো, তুমি তো ছিলেই ভাঁজ-করা আমার পকেটে
আজ কেন পেরোলে নদীটি
আজ কেন যোগসূত্র হয়ে আমি পেতে রাখি দুই হাত সমুদ্রের দিকে
এসব আমার নয়, আমি শুধু চিনি অবসন্ন চোখদুটি
সবসময় যারা আমাকে আয়নার থেকে দূরে রাখে
হেমন্তের হলুদ পাতার দিনে আমি এক শিকারীর মতো
লক্ষ্য স্থির করে বসে থাকি যেন ধনুকের টানটান ছিলা
যে কোনো মুহূর্তে ছুটে যাবে তির ঈশ্বরের অট্টহাসির দিকে
এও এক সাময়িক প্রতিক্রিয়া, হঠাৎ যেভাবে স্বপ্নে আকাশ ভেঙেছে
যেভাবে আমার অন্তর্গত কক্ষপথে জ্বলে ওঠে মায়াবী আলোরা
তারপর স্তব্ধ হয়ে বসে থাকি, কিছুই করার নেই আর
পৃথিবীর জলজ সমাধি আজ—সাঁতার জানি না

তোমার উদ্দেশে এ কবিতা

তোমার উদ্দেশে এ কবিতা লিখি দেখে আমাকে ঘিরেছে হিম
শীত নেই, শুধু অন্ধকার এসে পাতাল কক্ষের দিকে টানে
চেয়েছি তাদের আলো ফসফরাস হয়ে ঘুরবে তোমার অঘ্রাণে
কল্পনায় জ্বলে উঠবে মনের আকাশ, নীচে আকাঙ্ক্ষা নিঃসীম।
প্রেমের এলিজি আমি লিখেছি বৃক্ষের গায়ে, তাদের পাতায়
স্বতঃস্ফূর্ত তোমার সহস্র নাম, বাতাস জপেছে অহর্নিশ
কবিতায় এ হল ধ্রুপদি রীতি, জীবনবিনাশী আত্মবিষ
অকস্মাৎ মনের ভিতরে, তার আলোড়ন স্মৃতিকে কাঁদায়।
কান্নারা হৃদয়ে জমে, হৃদয় নিঃশেষ করে নক্ষত্রের আয়ু
মাথার ভিতরে তার পিচ্ছিল মৃত্যুপ্রবণ আর্দ্র নশ্বরতা
আমি দেখি বিষাদগাথার অববাহিকায় অতিলৌকিকতা
মুহূর্ত অনন্ত হলে আশাবরি সুর তোলে জেগে-ওঠা স্নায়ু।
এ মূহূর্ত কবিতার, এ মুহূর্ত চিন্তাসূত্রে অতীন্দ্রিয় জট
স্বপ্নদৃশ্যে তুমি উষা, উষাকাল, মেঘ এনে ঢাকো দৃশ্যপট।

 

 


❤ Support Us
ভেসে যায় নধরের ভেলা, ভেসে যায় বেহুলা পা | র্স | পে | ক্টি | ভ রোব-e-বর্ণ
ঈশানবঙ্গের শক্তি পা | র্স | পে | ক্টি | ভ রোব-e-বর্ণ
error: Content is protected !!