- ক | বি | তা রোব-e-বর্ণ
- মে ২৮, ২০২৩
গুচ্ছ কবিতা
চিত্র: দেব সরকার
তুমি কি গন্ধ পাও?
জন্ম বরাক উপত্যকার মফঃস্বলে। লেখাপড়া শহরে। পেশা জীবন নগর থেকে মহানগরে। স্বভাবত, কবিতা-যাপনে সুব্রতকুমার রায় যেমন গ্রামীন আবহের সূত্রধর, তেমনি নাগরিকতা বোধে, সচেতন কসরতে সংহত, ঋদ্ধ। এই ঋদ্ধি নিয়েই তাঁর সিদ্ধি। সুব্রত বাংলা কবিতায়, গল্পে, অবশ্যই ব্যতিক্রম, তাঁর চর্চা আর চর্যার স্বাস্থ্যময় ঝোঁক কখনো নৈর্ব্যত্তিক, কখনো অন্তর্মুখী, কখনো পারিপার্শ্বিকের কাঁটার বিপ্রতীপে ছুটতে থাকে, বাড়িয়ে দেয় যুক্তিশীল পাঠকের স্পর্শকাতর আগ্রহ। সুব্রতর কবিতার শরীর আর আত্মা ভবিষ্যতে সম্ভবত আমাদের আরো বেশি ভাবিয়ে তুলবে; বলতে বাধ্য করবে, একক এই অশ্বারোহীর কবিতার সত্য আর ব্যক্তিগত শিল্পবোধের শর্তের উৎস কোথায় ? আবহমান বাংলা কবিতার নির্ভেজাল অরণ্যে, না মিশ্রিত অনুশীলনের মানবজমিনে?
বাহার উদ্দিন
২৮.০৫.২০২৩
কাকের শহর
পাতিকাক সারাদিন, বিষণ্ণ,
বসে থাকে বারান্দার রেলিং, গাছের কার্নিসে।
প্রাতঃস্মরণীয় যারা,
তারাও কাকের দাঁড়,
তাদের কাছে কাক আর কাকাতুয়া এক-ই,
মৃতদের কাছে যদিও কাক
প্রকৃত ছদ্মবেশ
কালো অশনি
কালো প্রেত-যোনি।
এ’শহরে মানুষের কোলাহল প্রবল,
তাই নীরব, একাকী কাক
ব’সে থাকে শুধু
অনন্ত প্রতীক্ষায়
শহরের ভূষণ্ডির মাঠে।
অন্ধপিণ্ড
অতীত দীর্ঘ হবে, ভবিষ্যৎ হ্রস্ব হবে,
ভাবি অন্তসময় এসেছে কি?
পৃথিবীতে সূর্য ক্রমশঃ দূরে সরে যাবে,
আর রাত্রি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতম হবে ।
এ কোন বরফযুগ, যদিও পৃথিবী জমে যায়নি,
সূর্যের আলো অতো দূর হতেও আসে,
তুমি আমি হাতে হাত রাখি,
তবু উষ্ণতার পাখি কি ফিরে আসে?
বরফশবের কাছে।
দিন ক্রমে ছোট হয়, রাত্রি দীর্ঘ—
ছায়া ঘনায় পথে,
অনন্ত অন্ধপিণ্ড পৃথিবী আজ
সূর্যের সপ্তাশ্ব রথে।
রাত্রির রান্নাঘর দেখেছো কি ?
বিষণ্ণ বর্তন সব পড়ে থাকে নির্জন কুয়োর ভিতর,
এটোকাঁটা উচ্ছিষ্টসব তৈলাক্ত থালার উপর
হেঁটে বেড়ায় তেলেপোকা যতো ।
তুমি কি গন্ধ পাও আর?
ভাজা সব্জির দেহ হ’তে গাছের গন্ধ ।
তুমি কি জ্বলন্ত কড়াইএ
দেখতে পাও সুন্দরী মীন, জলপরী ?
রাত্রি যতো গভীর হয়,
রান্নাঘর ততো নির্জন হতে থাকে,
একা পড়ে থাকে বিষণ্ণ বর্তন সব
সারারাত পিপাসায়।
যেভাবে আর্ত ভয়ানক স্বপ্নের পর
আমাদের ভোর।
অনন্ত বসন্ত
যাওয়ার পথে শুকনো পাতা যখন ঝরে,
যখন পাতার পথে হেঁটে যাই,
যখন এই শহরেও কোকিল ডাকে
জানি বসন্ত এসেছে ।
এ বড় অসহনীয় ।
শীত বলছে যাবো যাবো,
আর গ্রীষ্ম দরজায় অপেক্ষমাণ,
যখন শীতবস্ত্র আর কম্বল
আমাদের রাতের শরীর পাবে
না ন্যাপথলিন,
তুমি জানো না ।
হে প্রেম, হে অপেয় নারী,
আমাদের জীবনে কি কখনো
পূর্ণ শীত বা প্রখর গ্রীষ্ম এসেছিল ?
না জীবন এক অনন্ত বসন্তকাল ?
♦–♦–♦♦–♦–♦
❤ Support Us








